উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র

দে'জ পাবলিশিং || কলকাতা ৭০০০৭৩

০/225719741015702 548440724 4৯001150007 06 ৮/1101065 03080511085 ২০011010011 001001190 2110 01050 £)/ ৪0োখা, 3/%. চ0011976৫ 6% 5010065180 99117701955, 106১ 1১181151172 13 উ্াযা। 01815055 90590 1০010814700 073 5. 180.00

প্রথম প্রকাশ : কলিকাতা পুস্তকমেলা জানুয়ারি ২০০১, মাঘ ১৪০৭ দ্বিতীয় সংস্করণ : ফেব্রুয়ারি ২০০৩, ফান্খুন ১৪০৯ তৃতীয় সংস্করণ : জানুয়ারি ২০০৪, মাঘ ১৪১০

উপেন্দ্রকিশোর অঙ্কিত চিত্র অবলম্বনে প্রচ্ছদ : প্রণবেশ মাইতি

দাম : ১৮০ টাকা

1[581২-81-7612-700-0

প্রকাশক : সুধাংশুশেখর দে, দে'জ পাবলিশিং ১৩ বঙ্চিম চ্যাটার্জি স্টিট, কলকাতা ৭০০ ০৭৩ বর্ণ-সংস্থাপনা : দিলীপ দে, লেজার ত্যান্ড গ্রাফিক্দ ১৫৭বি মসজিদবাড়ি স্ট্রিট, কলকাতা ৭০০ ০০৬ মুদ্রক : স্বপনকুমার দে, দে'জ অকলেট ১৩ ৰদ্ধিম চ্যাটার্জি স্থিট, কলকাতা ৭০০ ০৭৩

প্রসঙ্গ উপেন্দ্রকিশোর

একদা ছেলে সুকুমার রায় লিখেছিলেন এক বিখ্যাত বাক্য!

ছিল রুমাল, হয়ে গেল বেড়াল!

ঝবার বেলাতে ঠিক তাই ঘটেছিল কিন্তু। ছিলেন কামদারগ্রন, হয়ে গেলেন উপেন্দ্রকিশোর!

ঘটনাটা অবশ্য বিস্ময়কর কিছু নয়। ময়মনসিংহ জেলার মসূয়া গ্রামের বনেদি রায় পরিবারে তার ঘর বাবা কালীনাথ রায় তার পাপ্ডিত্যের জন্য পরিচিত ছিলেন মুন্সী শ্যামসুন্দর নামে। তারই দ্বিতীয় শুর কামদারগ্রন। ভারি ফুটফুটে মিষ্টি চেহারা এই-প্ররিবারের আর এক শাখার নিঃসন্তান জমিদার &[গকিশোর রায়চৌধুরী দত্তক নিলেন তার নিকট আত্মীয়ের এই রূপবান সুন্দর ছেলেটিকে তখন তার পা! চার কি পীচ। কিন্তু বাড়ি বদল হলেও একেবারে পাশৈর বাড়ি। আর পরিবার বদলের ফলে নামবদল। শগ, সেই থেকে কামদারপ্রন রায় হয়ে গেলেন উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী। বর্তমান বাংলা গিএসাহিত্যের পিতৃপুরুষ উপেন্দ্রকিশোর.

ভাগ্ম ১৮৬৩ সালের ১০ই মে, বাংলা ১২৭০, ২৭শে বৈশাখ। বাল্যজীবন কেটেছে মসূয়ার নিবিড় াকুৃতিক পরিবেশে, পুকুর নদীনালা বাশের ঝাড় আর ঘন আম-কাঠালের বনে ভরা স্সি্ধতার গদিমণ্ডলে। আর ছিল বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া উদ্দাম ব্রহ্াপুত্র নদ, তার দুরস্ত বাল্য-কৈশোরের গর্গী।। অস্তুত স্বভাবের ছেলে উপেন্দ্রকিশোর লেখাপড়ায় বিশেষ মন নেই, কিন্তু পরীক্ষায় সব সময় আপ ফল করেন। যত টান বাঁশি বাজানোর দিকে। পরে পরে জুটল বেহালা। সারাক্ষণ সঙ্গীত চর্চা দেখে গতিভাবকরা চিস্তিত। কিন্তু.কে কার কথা শোনে! এর পাশাপাশি আবার পেয়ে বসল ছবি আঁকার নেশা। খাতায়, বইয়ের পাতায়,টুকরো কাঁগজে যেখানে সেখানে ছবি। মস্ত বড় সাহেব এসেছেন স্কুল পরিদর্শনে খৈগ্ছনের বেঞ্চে বসে উপেন্দ্রকিশোর দিব্যি এঁকে চলেছেন সাহেবের ছবি। সে ছবি চোখে পড়তে সাহেব (ত। ধেজায় খুশি। বকুনি দেওয়ার বদলে তিনি বলেছিলেন, ছবি আঁকাটা কখনো ছেড়ো না তুমি।

খড়েন নি উপেন্দ্রকিশোর। বরং নতুন করে ধরেছেন অনেক কিছু। ফটোগ্রাফি, ছবি ছাপার ঝণাকৌশল, ব্রাহ্মধর্ম।আর সবকিছু ছাড়িয়ে ছোটদের জন্য তুলনাহীন সেই সব লেখালেখি, যা শুধু গিব|লে

পড়ুয়া ছেলে না হয়েও ময়মনসিংহ জেলা স্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় বৃত্তি পেয়ে পাশ কর খ[পাঞ্রকিশোর। মসূয়া ছেড়ে কলকাতা এলেন প্রেসিডেলি কলেজে পড়তে ।নিভৃত মফস্বল থেকে; এন ধিশাল সম্ভাবনার জগতে আশায় আকাঙক্ষায় উদ্দীপনায় তারুণ্য নৃতনের স্বপ্নে তিখন টগবগ্‌ ঝরে ফুটছে কলকাতা নিজের জায়গ! পেয়ে গেলেন উপেন্দ্রকিশোর বিকাশের এই তো পীঠস্থান! দেশে থাকতেই স্কুলের এক সহপাঠীর মাধ্যমে নতুন উদার মুক্ত িাখারার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন তিনি। কলকাতা এসে কিছুদিনের মে বাড়ল ব্রাহ্মাসমাজের

সঙ্গে। যোগাযোগ যাতায়াত ঘটল জোড়াসীকোর ঠাকুর পরিবারে সেখানকার সাহিত্য সঙ্গীতচর্চায় অনুপ্রাণিত হলেন উপেন্দ্রকিশোর ঠাকুরবাড়ি থেকে প্রকাশিত “বালক", শিবনাথ শাস্ত্রী সম্পাদিত 'মুকুলঃ প্রভৃতি ছোটদের কাগজ তাকে উদদুদ্ধ করল শিশুসাহিত্য সৃষ্টিতে! নতুন জন্ম নিলেন ছোটদের প্রাণের লেখক, মনের লেখক অদ্বিতীয় উপেন্দ্রকিশোর!

তখনই আলাপ তীর চেয়ে দু'বছরের বড় সদ্যততরুণ রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে। আলাপ থেকে ঘনিষ্ঠ বন্ধৃত্ব। সে বন্ধুত্ব আমৃত্যু অটুট ছিল। শোনা যায়, পরবর্তী সময়ে এই বন্ধুত্বের টানে জোড়াসাকো থেকে উপেন্দ্রকিশোরের সুকিয়া স্ট্রিটের বাসায় মাঝে মাঝে চটি পায়ে চলে আসতেন রবীন্দ্রনাথ। জমে উঠত সন্ধ্যার গান বাজনার আসর এই বন্ধুত্বের অন্তরঙ্গতার পরিচয় পাওয়া যায় উপেন্্রকিশোরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ “ছেলেদের রামায়ণ-এ গ্রন্থকার লিখিত ভূমিকা থেকে :

'অদ্ধাস্পদ শ্রীযুক্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মহাশয় এই পুত্তক প্রণয়ন বিষয়ে আমাকে যেরূপ উৎসাহ দান সহায়তা করিয়াছেন, সে খণ পরিশোধ করিতে আমি সম্পর্ণ অক্ষম। পুত্তকের পাঞ্খুলিপি এবং প্রুফ তিনি আদ্যোপান্ত সংশোধন পূর্বক ইহার অনেক ক্রুটিংদূর করিয়া দিয়াছেন।'

অপরপক্ষে উভয়ের এই বন্ধুত্বের স্মারক হিন্পেবে আমরা পেয়ে যাই আর এক স্মরণীয় নিদর্শন। রবীনদুনাথের 'নদী" কবিতার যে চিত্ররূপ দিয়েছেন উপেন্দ্রকিশোর, ছবি কবিতাঁর যুগলবন্দীতে সে সৃষ্টি এক অসামান্য চমৎকারিত্ব লাভ করেছে।

“ছেলেদের রামায়ণ” আবার গ্রথম প্রকাশ করেছিলেন বাংলা শিশুসাহিত্যের আর এক দিকৃপাল যোগীন্দ্রনাথ সরকার। উপেন্দ্রকিশোরের চেয়ে বছর তিনেকের ছোট তিনি।

কিন্ত তার অনেক আগেই একুশ্‌ বছর বয়সে বি. এ. পাস করেছেন উপেন্দ্রকিশোর। পিতৃ-পরিবার আত্মীয়স্বজনদের মনে দুঃখ দিয়ে ত্রানমাধর্ম গ্রহণ করেছেন। তেইশ বছর বয়সে বিয়ে করেছেন তৎকালীন বিখ্যাত ত্রাক্মনেত। দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের মেয়ে বিধুমুখীকে। সংসার পেতেছেন ১৩নং কর্ণওয়ালিস স্ট্রিটের ভাড়াবাড়িতে। মেতে উঠেছেন গানবাজনা, ছবি আঁকা, সাহিত্যালোচনা আর সমাজসংস্কারের নতুন আদর্শে। লিখছেন তখনকার দিনের ছোটদের পত্রিকা “সখা”, 'সাথী', “মুকুল” এ।কিস্ত মন ভরছে না তার। সব পত্রিকার:বেশির ভাগ লেখাই বিদেশী গল্প প্রবন্ধ ইত্যাদির ছায়া অবলম্বনে রচিত। বাংলা শিশুসাহিত্যের নিজস্ত চরিত্র তখনো! কিছু গড়ে ওঠে নি। উপেন্দ্রকিশোরের হাতেই যেন ঘটল তার প্রথম ্াণপ্রতিষ্ঠা। ছোটদের মনের মত ভাষা, গল্প, কাহিনী, কবিতা তার নিজম্ব মৌলিকতা আর মাধুর্য নিয়ে প্রথম ধরা দিল উপেন্দ্রকিশোরের রচনায় আমাদের পুরাণকাহিনী, উপকথা, রূপকথা, দিদিমা-ঠাকুমাদের মুখে মুখে ফের! কতকালের সে সব গল্পকথা এক নূতন জন্ম নিল যেন। বাঙালি শিশুদের শৈশব-কৈশোর মধুর মূলবান হয়ে উঠল তার রচনার সরস প্রসন্নতায়।

হতে লাগল কত মজাদার, কত চমৎকার সব ছবি। কিন্তু হলে হবে কি, আমাদের ছবি ছার পদ্ধতি

যে একেবারে সেকেলে! ছাপার পর আর ছবির মজাটা খুঁজে পাওয়া যায় না।-অ' লেখায় ভাল ছবি যে চাই-ই চাই! তাই নিজেই কোমর বীধলেন উপেন্দ্রকিশোর। বিলেত থেকে আনলেন ছবি ছাপার আধুনিক যন্ত্রপাতি বইপত্র নিজের বাড়িতে সুরু কয ছবি ছাপার নানারকম

পরীক্ষা নিরীক্ষা। আবিষ্কার করলেন হাফটোন ছবি ছাপার উন্নত পদ্ধতি তাঁঙালি শিশুদের এবার চোখ জুড়িয়ে গেল সে সব ছবি দেখে।

শেযযেশ নিজের বাড়িতেই তিনি খুলে ফেললেন এক ছা'পাখান! 1 ইউ রায় এযাণ্ড স্্‌। ঠিকানা প্রথমে ৭নং শিবনারায়ণ দাস লেন, পরে ২২নং সুকিয়া স্ট্রিট, তারপর ১০০নং গড়পার রোডে জমি কিনে নিজের

পাড়ি বানিয়ে। এখানেই ঘটল বাংল৷ শিশুসাহিত্যের সেই যুগান্তকারী ঘটন|। ১৯১৩ সালের এপ্রিল, অর্থাৎ বাংলা ১৩২০ সনের বৈশাখ থেকে প্রকাশিত হতে লাগল শিশুসাহিত্যের সেই কিংবদস্তীতুল্য পত্রিকা 'গন্দেশ'। সম্পাদক, প্রকাশক, মুদ্রক, লেখক চিত্রকর স্বয়ং উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী! যেন এক কগ্লালোকের মায়াবী দরজা খুলে গেল ছোটদের সামনে কত রঙ্, কত বাহার, কত বৈচিত্য তার! এমনটা ভাবা যায় নি কখনো!

সত্যি ভাবা যায় না টুনটুনির বই'এর সেই ছেলে ভুলানো গল্পগুলোর কথা, ছোট্ট রাষায়ণের সেই মন-কাড়া বর্ণনা, ছেলেদের রামায়ণ মহাভারতের সরস কৌতুকময় গদ্যভঙ্গি। ছড়া কবিতা গান খুব বেশি লেখেন নি তিনি। গদ্য রচনাই তার প্রধান সাহিত্য-কর্ম। আর সে গদ্য যে কতখানি স্বাদু উজ্জ্বল আর অন্তরঙ্গ হয়ে উঠতে পারে, উপেন্দ্রকিশোরের প্রতিটি রচনাই তার অনন্য প্রমাণ। ইতিহাস বিজ্ঞান প্রাণীতত্ব প্রভৃতি শিক্ষামূলক জটিল বিষয়ও ছোটদের কাছে-কেমন রমণীয় হয়ে উঠেছে তার নির্ভার কথকতায়। ছোটরা বোধহয় সেই প্রথম সাহিত্যের স্বাদ পেতে শিখল, খুঁজে পেল নিজেদের ভাবন। কল্পনার একটা আলাদা জগৎ। খেলাধুলা লিউাড্নুজিত পেল আর এক আনন্দলোকের মাঝখানে

শুধু নিজেই লিখলেন না, "সন্দেশ নীরা গোষ্ঠী। উপেন্দ্রকিশোরের প্রেরণায় সেকালের অনেক খ্যাতনামা লেখক লেখিকা যেমন কলম ধরলেন ছোটদের জন্য, তেমনি তার পরিবারের লোকজনও ঠাকুর পরিবারের মত এই আর এক অবাক-করা গুণী পরিবার! বড় ছেলে সুকুমার তো সবার সেরা,তার সঙ্গে আছেন মেয়ে সুখলতা, পুণ্যলতা। ছেলে সুবিনয়, সুবিমল। ছোটভাই কুলদারগ্ন,প্রমদারঞ্জন। সে এক জমজমাট লেখক পরিবার, যার ধারা বাংলা শিশুসাহিত্যের পরবর্তী পর্যায়কে আজও সমৃদ্ধংকরে চলেছে।

১৯১৫ সালের ২০শে ডিসেম্বর! সুন্দর চেহারা, সুন্দর স্বাস্থ্যের অধিকারী উপেন্দ্রকিশোর ডায়াবেটিস রোগে ভূগে মারা যান মাত্র ৫২ বছর বয়সে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ বাধার ফলে বিলেত থেকে ওষুধ আসা বন্ধ তখন। ভাল ওষুধ তখনো ত্মেন.কিছু আবিষ্কৃত হয়নি। তাই এমনি অসহায় ভাবে অকালে বিদায় নিতে হল এমন অসামান্য প্রতিভাধূর মানুষটিকে। কিন্তু তার অজন্র রচনা সম্তারের আজো শেষ খুঁজে পাই . না আমর যদিও তার.অনেক রচনা সংকলন বা রচনাবলী ইতিপৃবেই প্রকাশিত হয়েছে, তবুও তার অনেক / রচনা এখনে! সংকলনের বাইরে থেকে গেছে, ছড়িয়ে আছে পুরনো দিনের “সন্দেশ” অন্যান্য পত্র- ; পত্রিকায়। আমাদের: রা

25555 সবটুকু বলে মেনে নিতেই হয়। উপেন্দ্রকশোরকে আমরা 'রায়চৌধুরী' পদবিতেই চিনতে অভ্যত্ত। কিন্তু তার যে স্বাক্ষরচি ঞ্

সংগ্রহ করেছি, সেখানে তিনি শুধু 'রায়'। মূলতঃ তিনি রায় পরিবারেরই সন্তান! সৃন্দেু বহু রচনাতেও তিনি শুধু “রায়” পদবি ধারণ করেছেন। সুতরাং নিয়ে কোন বতর্কৃবুনজীর্দেহের অবকাশ নেই।

এইসংকলন প্রস্তুতির কাজে আত্ীয়্রতিমপ্রণবেশ মাইতি, অশোক ,অরুণিমা রায়চৌধুরী

শ্রীতিভাজন দেবাশিস সেনের উদার সহযোগিতার কথা৷ সানন্দে স্বরণ করি! সুনীল জানা

রচনা সূচি

0000000

৯--৮৮ ৮৯--১৯৪ ১৯৫--২৬৮ ২৬৯--৪২০ ৪২১--৪৩৬ ৪৩৭--৪৮৯ ৪৯১--৫৬২ ৫৬৩--৭১৪ ৭১৫--৭৩৯ ৭৪১--৭৯৫ ৭৯৭--৯০৩ ৯০৫-_-৯৬৮

টুনটুনি আর বিড়ালের কথা

গৃহস্থের ঘরের পিছনে বেগুন গাছ আছে। সেই বেগুন গাছের পাতা ঠোঁট দিয়ে সেলাই করে টুনটুনি পাখিটি তার বাসা বেধেছে।

৮৯১ মি

প্রণাম হই, মহারাণী

বাসার ভিতরে তিনটি ছোট-ছোট ছান৷ হয়েছে। খুব ছোট্ট ছানা, তারা উড়তে পারে না, চোখও মেলতে পারে না। খালি-হী, করে আর চী-চী করে।

গৃহস্থের বিড়ালটা ভারি দুষ্টু। সে খালি ভাবে, টুনটুনির ছানা খাব।' একদিন সে বেগুন গাছের তলায় এসে বললে,'কি করছিস লা টুনটুনি?”

টুনটুনি তার মাথা হেট করে বেগুন গাছের ডালে ঠেকিয়ে বললে, 'প্রণাম হই, মহারানী বিড়ালনী ভারি খুশি হয়ে চলে গেল৷ জি আসে, রোজ টুনটুনি তাকে গ্রণাম করে আর মহারানী বলে, আর সে খুশি

এখন টুনটুনির ছানাগুলি বড় হয়েছে, তাদের সুন্দর পাখা হয়েছে। তারা আর চোখ না। তা দেখে টুনটুনি তাদের বললে, “বাছা, তোরা উড়তে পারবি?"

ছানারা বললে, "হ্যা মা, পারবা টুনটুনি বললে, 'তবে দেখ তো দেখি, ডালে গিয়ে বসতে পারিস কি না!”

ছানার তখনই উড়ে গিরে তাল গাছের ডালে বসল। তা দে নি হেসে বললে, “এখন দুষ্ট বিড়াল আসুক দেখি!”

খানিক বাদেই বিড়াল এসে বললে, 'কি করছিস লা ট্ুন্ট্রনি £"

উপেঞ্জরকিশোর সমগ্র & ১১

_ টুনটুনি বেগুন গাছেনাচছে

তন নুন পা উচিয়ে তাকে লাখ দেখিয়ে বললে, "দূর হ, লক্ষ্্ীছাড়ী বিড়ালনী!” বলেই সে ফুডুক করে উড়ে পালাল।

__দূর হ' লক্্ীছাড়ী বিড়ালনী!

দুষ্টু বিড়াল দাত খিঁচিয়ে লাফিয়ে গাছে উঠে, টুনটুনিকেও ধরতে ; ছানাও খেতে পেল না৷ খালি বেগুন কাটার খোঁচা খেয়ে নাকাল হয়ে ঘরে ফিরল।

১২ উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র

টুনটুনি আর নাপিতের কথা

টুনটুনি গিয়েছিল বেগুন পাতায় বসে নাচতে। নাচতে-নাচতে খেল বেগুন কাটার খোঁচা। তাই থেকে তার হল মস্ত বড় ফৌড়া। -

মা, কি হবে? এত বড় ফৌড়া কি করে সারবে?

টুনটুনি একে জিগগেস করে, তাকে জিগগেস করে। সবাই বললে, 'ওটা নাপিত দিয়ে কাটিয়ে ফেল।?

তাই টুনটুনি নাপিতের কাছে গিয়ে বললে, নাপিতদাদা, নাপিতদাদা, আমার ফৌড়াটা কেটে দাও না!,

নাপিত তার কথা শুনে ঘাড় বেকিয়ে নাক সিঁিকিয়ে বললে, স্‌! আমি রাজাকে কামাই, জামি তোর ফোড়া কাটতে গেলুম আর কি!”

সা বিছানায় গড়াগড়ি দিলেন, নাপিতকে কিছু বর না। তাতে টুনটুনির ভারি রাগ হল। সে ইদুরের কাছে গিয়ে বললে, 'ইদূরভাই, , বাড়ি

ইদুর বললে, “কে ভাই? টুনিভাই? এস ভাই! বস ভাই! গস লেকে ছি খাবে টুনটুনি বললে, “তিৰে ভাত খাই, যদি এক কাজ কর।' ইদুর , “কি কাজ?

টুনটুনি বললে, "রাজামশাই ঘখন ঘুমিঘে থাকবেন, তখন গিয়ে তার ভুঁড়িটা কেটে ফুটো করে দিতে হবে।?

ভপেনম্দ্রকিশ্ের সমগ্র ১৩

তা শুনে ইদুর জিভ কেটে কানে হাত দিযে বললে, 'ওরে বাপরে! আমি তা পারব না।” তাতে টুনটুনি রাগ করে বিড়ালের কাছে গিয়ে বললে, "বিড়ালভাই, বিড়ালভাই, ঝাড়ি আছ?

বিড়াল বললে, 'কে ভাই? টুনি ভাই? এস ভাই! বস ভাই! খাট পেতে দি, ভাত বেড়ে দি, খাবে ভাই?

ইদুর আর টুনটুনি

টুনটুনি বললে, 'তবে ভাত:খাই,যদি ইদুর মার।”

বিড়াল বললে, “এখন.আামি ইদুর-টিদুর মারতে যেতে পারব না, আমার বড্ড ঘুম পেয়েছে।' শুনে টুনটুনি রাগের ভরে লাঠির কাছে গিয়ে বললে, লাঠি ভাই, লাঠি ভাই, বাড়ি আছ?”

লাঠি বললে, 'কে:ভাইই টুনিভাই£ এস ভাই! বস ভাই! খাট পেতে দি, ভাত বেড়ে দি, খাবে ভাই?” টুন্টুনি বললে 'তুরে ভাত খাই, ঘদি বিড়ালকে ঠেডাও।”

লাঠি ধললে, বিড়াল আমার কি করেছে যে আমি তাকে ঠেঙাতে যাব? আমি তা৷ পারব না।” তখন টুনটুনি আগুনের. কাছে গিয়ে বললে, 'আগুনভাই, আগুনভাই, বাড়ি আছ?

আগুন রললৈঃ 'কে ভাই? টুনিভাই? এস ভাই! বস ভাই! খাট পেতে দি, ভাত বেড়ে দি, খাবে ভাই

টুনটুনি বললে;তবে ভাত খাই, যদি তুমি লাঠি পোড়াও।"

আগুন বললে, 'আজ ঢের জিনিস পুডিয়েছি, আজ আর কিছু পোড়াতে পারব নাতি

টুনটুনি তাকে খুব করে বকে, সাগরের কাছে গিয়ে বললে, “সাগরভাই, সগরভাই তি আছ?” সাগর বললে, “কে ভাই? টুনিভাই? এস ভাই! বস ভাই! খাট পেতে দি, খাবে ভাই?

টুন্টুনি বললে, “তবে ভাত খাই, যদি তুমি আগুন নিবাও।'

সাগর বললে, 'আমি তা পারব না।” তখন টুনট্রনি হাতির গিয়ে বললে, 'হাতিভাই, হাতিভাই, বাড়ি আছ?”

হাতি বললে, 'কে ভাই টুনিভাই £ এস ভাই! বস ভাই ! খাট পেতে দি, ভাত বেড়ে দি, খাবে

১৪ উপেঞ্কিশোর সমগ্র

ভাই?' টুনটুনি বললে, “তবে ভাত খাই, যদি সাগরের জল সব খেয়ে ফেল।" হাতি বললে, “অত জল খেতে পারব না, আমার পেট ফেটে যাবে।” কেউ তার কথা শুনল না দেখে টুনটুনি শেষে মশার কাছে গেল। মশা দূর থেকে তাকে দেখেই বললে, “কে ভাই? টুনিভাই? এস ভাই! বস ভাই! খাট পেতে দি, ভাত বেড়ে দি, খাবে ভাই?" টুনটুনি বললে, 'তবে ভাত খাই, যদি হাতিকে কামডাও।”

হাতি আর টুনটুনি

মশা বললে, 'সে.আঁবার একটা কথা! এখুনি যাচ্ছি! দেখব হাতি বেটার কত শক্ত চামড়া!” বলে, সে সকল দেশের সকল মশাকে ডেকে বললে, "তোরা আয় তো রে ভাই, দেখি হাতি বেটার কত শক্ত চামড়া। অমনি গীন্-পীন্-পীন্-পীন্‌ করে যত রাজ্যের মশা, বাপ বেটা ভাই বন্ধু মিলে হাতিকে কামড়াতে চলল মশায় আকাশ ছেয়ে গেল, সূর্য ঢেকে গেল। তাদের পাখার হাওয়ায় ঝড় বইতে লাগল। পীন্‌-পীন্‌-পীন্-পীন্‌ ভয়ানক শব্দ শুনে সকলের প্রাণ কেপে উঠল। তখন--- হাতি বলে, সাগর শুধি। সাগর বলে, আগুন নেবাই!

আগুন বলে, লাঠি পোড়াই! লাঠি বলে, বিড়াল ঠেঙাই! (১ বিড়াল বলে, ইঁদুর মারি। ০5 রাজা বলে, নাপতে বেটার মাথা কাটিং)

নাপিত হাত জোড় করে কাপতে কীপতে বললে, 'রক্ষে কর, ! এস তোমার ফৌড়া

কাটি। তারপর টুন্টুনির ফৌড়া সেরে গেল, আর সে ভারি খুশি হয়ে আবার গিয়ে নাচতে আর গাইতে লাগল-_টনটুনা টুন ন্‌ টুন! থেই ধেই!

উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র 4 ১৫

টুনটুনি আর রাজার কথা

রাজার বাগানের কোণে টুনটুনির বাসা ছিল। রাজার সিন্দুকের টাক রোদে শুকুতে দিয়েছিল, সন্ধ্যার সময় তার লোকেরা তার একটি টাকা ঘরে তুলতে ভুলে গেল। টুনটুনি সেই চকচকে টাকাটি দেখতে পেয়ে তার বাসায় এনে রেখে দিলে, আর ভাবলে, ঈসা! আমি কত বড়লোক হয়ে গেছি। রাজার ঘরে যে ধন আছে, আমার ঘরে সে ধন আছে!” তারপর থেকে সে খালি এই কথাই ভাবে, আর বলে__ রাজার ঘরে যে ধন আছে টুনির ঘরেও সে ধন.আছে! রাজা ভার সভায় বসে সে কথা শুনতে পেয়ে জিগগেস.ক্রলেন, হ্যারে? পাখিটা কি বলছে রে? সকলে হাত জোড় করে বললে, মহারাজ, পাবি ্ীপনার ঘরে যে ধন আছে ওয় ঘরেও নাকি সেই ধন আছে! শুনে রাজ! খিলখিল করে হেন, বললেন, “দেখ তে৷ ওর বাসায় কি আছে। “তার! দেখে এসে বললে, “মহারাজ, বাসায় একটি টাকা ভাছে” শুনে রাজা বললেন, 'সে তো৷ আমারই. টাকা, নিয়ে আয় সেটা ।” 075225585504-4855755979 সে মনের দুঃখে বলতে লাগল-_ রাজা বড় ধনে কাতর টুনির ধন নিলে বাড়ির ভিতর!

টুনটুনি টকা নিয়ে তার বাসায় রাখছে

শুনে রাজা আবার হেসে বললেন, খাব লোক ঠা মি নি আয়।, টাকা ফিরে পেয়ে টুনির বড় আনন্দ হয়েছে। তখন সে বলছে; রাজা ভারি ভয় পেল টুনির টাকা ফিরিয়ে দিল।

১৬ উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র

রাজা জিগগেস করলেন, “আবার কি বলছে রে?

সভার লোকেরা বললে, “বলছে যে মহারাজ নাকি বড্ড ভয় পেয়েছেন, তাই ওর টাক৷ ফিরিয়ে দিয়েছেন।

শুনে তো রাজামশাই রেগে একেবারে অস্থির! বললেন, 'কি, এত বড় কথা! আন তো ধরে, বেটাকে ভেজে খাই!» বাড়ির ভিতর গিয়ে রানীদের বললেন, “এই পাখিটাকে ভেজে আজ আমাকে খেতে দিতে হবে!

বলে তো রাজা চলে এসেছেন, আর রানীরা সাতজনে মিলে সেই পাখিটাকে দেখছেন।

একজন বললেন, “কি সুন্দর পাখি! আমার হাতে দাও তো একবার দেখি। বলে তিনি তাকে হাতে নিলেন। তা দেখে আবার একজন দেখতে চাইলেন। তার হাত থেকে যখন আর-একজন নিতে গেলেন, তখন টুনটুনি ফস্‌কে গিয়ে উড়ে পালাল... ' কি সর্বনাশ! এখন উপায় কি হবে? রাজা জানতে পারলে তো রক্ষা থাকবে না।

এমনি করে তারা দুঃখ করছেন, এমন সময় একট! ব্যাঙ সেইখান দিয়ে থপ-থপ করে যাচ্ছে। সাত রানী তাকে দেখতে পেয়ে খপ করে ধরে ফেললেন, আর বললেন, 'চুপ চুপ! কেউ যেন জানতে না পারে। এইটেকে ভেজে দি, আর: রাজামশাই খেয়ে ভাববেন টুনটুনিই খেয়েছেন!”

সেই ব্যাটার ছাল ছাড়িয়ে তাকে ভেজে রাজামশাইকে দিলে তিনি খেয়ে ভারি খুশি হলেন।

তারপর সবে তিনি সভায় গিয়ে বসেছেন, আর ভাবছেন, "এবারে পাখির বাছীকে জব্দ করেছি” বড় অজ, বড় মজা,

রাজা খেলেন ব্যাঙ ভাজা!

শুনেই তো রাজামশাই লাফিয়ে উঠেছেন। তখন তিনি থুডু ফেলেন, ওয়াক তোলেন, মুখ ধোন, আরে কত কি করেন। তারপর রেগে বললেন, 'সাত রানীর নাক কেটে ফেল।”

অমনি জল্লাদ-গিয়ে সাত রানীর.নাক কেটে ফেললে।

তা দেখে টুনটুনি বললে-.

রানীর টুন্ট্ুনিকে দেখছেন

উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র__২ উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র ১৭

তখন রাজা বললেন, “আন বেটাকে ধরে! এবার গিলে খাব! দেখি কেমন করে পালায় "

টুনটুনিকে ধরে আনলে।

রাজা বললেন, 'আন জল!

জল এল। রাজা মুখ ভরে জল নিয়ে টুনটুনিকে মুখে পুরেই চোখ বুজে ঢক করে গিলে ফেললেন।

সবাই বললে, “এবারে পাখি জব্দ!

বলতে বলতেই রাজামশাই ভোক্‌ করে মত্ত একটা ঢেকুর তুললেন।

১. রাজা টুনটুনিকে খেতে ঝাঙ্ছেন

সভার লোক চমকে উঠল, আর টুনটুনি সেই ঢেকুরের সঙ্গে বেরিয়ে এসে উড়ে পালালো।

রাজ। বললেন, “খেল, গেল! ধর্‌ ধর্‌!' অমনি দুশো লোক ছুটে গিয়ে আবার বেচারাকে ধরে আনলো। টি

তারপর আবার জল নিয়ে এল, জার সিপাই এসে তলোয়ার নিয়ে রাজা মশায়ের কাছে দাঁড়াল,

এবার টুনটুনিকে গিলেই রাজামশাই দুই হাতে মুখ চেপে বসে থাকলেন, যাতে ট্রনটুনি বেরুতে না পারোসে বেচারা পেটের ভিতরে গিয়ে ভয়ানক ছটফট করতে লাগল!

খানিক বাদে রাজামশাই নাক সিঁটকিয়ে বললেন, “ওয়াক্‌।' অমনি টুনটুনিকে হও

ভিতরের সকল জিনিস বেরিয়ে এল। সবাই বললে, “সিপাই, মিপাই! মারো, মারো! পালালো!” সিপাই তাতে থতমত খেয়ে তলোয়ার দিয়ে যেই টুনটুনিকে মারতে নি সেই তলোয়ার

টুন্টুনির গায়ে না পড়ে, রাজামশায়ের নাকে পড়ল।

রাজামশাই তো! ভয়ানক ট্্যাচালেন, সঙ্গে-সঙ্গে সভার সকল চ্যাচাতে লাগল। তখন ডাক্তার এসে ওষুধ দিয়ে পটি বেঁধে অনেক কষ্টে রাজামশাইকে বাঁচাল।

টুনটুনি তা দেখে বলতে লাগল-__

১৮ 0 উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র

রি

৮১

/5৯০৩।

নাক-কাটা রাজা রে। দেখ তো কেমন সাজা-রে! বলেই সে উড়ে সে-দেশ থেকে চুলে গেল। রাজার লোক ছুটে এসে দেখল, খালি বাসা পড়ে আছে। এ. সী

যেখানে মাঠের পাশে ব্ন আছে, আর বনের ধারে মস্ত পাহাড় আছে, সেইখানে, একটা গর্তের ডিতরে একটি ছাগলছান! থাকত. সে তখনো বড় হয়নি, তাই গর্তের বাইরে যেতে পেত না। বাইরে (খতে চাইলেই তার মা বলত, 'যাসনে! ভালুকে ধরবে, বাঘে নিয়ে যাবে, সিংহে খেয়ে ফেলবে!” &। শুনে তার ভয় হত, আর্‌ সে চুপ করে গর্তের ভিতরে বসে থাকতো। তারপর সে একটু বড় হন, তার ভয়ও কুমে.গেল। তখন তার মা বাইরে চলে গেলেই সে গর্তের ভিতর থেকে উঁকি মরে দেখত! শেষে একদিন একেবারে গর্তের বাইরে চলে এল।

(সইখানে এক. মন্ত ষাড় ঘাস খাচ্ছিল। ছাগলছানা আর এত বড় জন্ত কখনো দেখেনি। কিন্ত শিং | মনে করে নিল, ওটাও ছাগল, খুব ভালো জিনিস খেয়ে এত বড় হয়েছে। সে বীড়ের-কাছে গিয়ে জিগগেস করল, 'হ্যাগা, তুমি কি খাও?

ফাড় বললে, 'আমি ঘাস খাই?

ছুগলছানা বললে, “ঘাস তো আমার মাও খায়। সে তো তোমার মতো এত বউইযনি।

ধাাড বললে, 'আমি তোমার মায়ের চেয়ে ঢের ঢের ভালো ঘাস অনেক করে খাই।'

ছাগলছানা বললে, “সে ঘাস কোথায় ?

শাড় বললে, “এ বনের ভিতরে" ডে

ছাগলছানা বললে, "আমাকে সেখানে নিয়ে যেতে হবে।' একথা শুঁনে ষাঁড় তাকে নিয়ে গেল।

সেই বনের ভিতরে খুব চমৎকার ঘাস ছিল। ছাগলছানার পেটে যত ঘাস ধরল, সে তত ঘাস (খন

উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র ১৯

খেয়ে তার পেট এমনি ভারি হল যে, সে আর চলতে পারে না। সন্ধে হলে যাঁড় এসে বললে, “এখন চল বাড়ি যাই।" কিন্তু ছাগলছানা কি করে বাড়ি যাবে? সে চলতেই পারে না।

তি 7811 ০] £)/ রি & ১1 11141 17) 1811?

১৮৮

সঁড় জার ছাগলছানা

তাই সে বললে, 'তুমি যাও, আমি-ক্লাল যাব।”

তখন ষাঁড় চলে গেল। ছাগলছান। একটি গর্ত দেখতে পেয়ে তার ভিতরে ঢুকে রইল।

সেই গর্তটা! ছিল এক শিয়ালের। সে তার মামা বাঘের বাড়ি নিমন্ত্রণ খেতে গিয়েছিল। অনেক রাত্রে ফিরে এসে দেখে, তার গর্তের ভিতর কি রকম একটা জন্ত ঢুকে রয়েছে। ছাগলছানাটা কালে৷ ছিল, তাই শিয়াল জন্ধকারৈর:ভিতর ভালো করে দেখতে পেল না। সে ভাবল, বুঝি রাক্ষস-টাক্ষস হবে। এই মনে করে সৈভয়ে-ভয়ে জিগগেস করল, "গর্তের ভিতর কে ও?

ঘগলহদাটা জু ছিল, সে বললে

ঘন ঘন নাড়ি। সিংহের মামা আমি নরহরি দাস পঞ্চাশ বাঘে মোর এক-এক প্রাস! 0১1৮7877777 ওখানে গিয়ে তবে সৈ নিঃশ্বাস ফেললে।

বাঘ তাকে দেখে আশ্চর্য হয়ে জিগগেস করলে, "কি ভাগ্ে, এই গেলে, আবার ইত হয়ে ফিরলে যে?, শিয়াল হাঁপাতে হীপাতে বললে, “মামা, সর্বনাশ তো হয়েছে, 'কনরহরি দাস

এসেছে। সে বলে কিনা যে পঞ্চাশ বাঘে তার এক গ্রাস!"

তা শুনে বাঘ ভয়ানক রেগে বললে, 'বটে, জন বা তো ভাগে! তাকে দেখাব কেমন পঞ্চাশ বাঘে তার এক গ্রাস!»

শিয়াল বললে, 'আধি আর সেখানে যেতে পারব না, আমি সেখানে গেলে যদি 'সে হী করে

২০ উপেঞ্কিশোর সম্গ্র

আমাদের খেতে আসে, তা হলে তুমি তো দুই লাফেই পালাবে। আমি তো তেমন ছুটতে পারব এ, আর সে নিট ানরেই বটে িতো বাঘ বললে, তাও কি হয়? আমি কখনো তোমাকে ফেলে পালাব ন1।, শিয়াল বললে, "তবে আমাকে তোমার লেজের সঙ্গে বেঁধে নিয়ে চল।” তখন বাঘ তে। শিয়ালকে বেশ করে লেজের সঙ্গে বেধে নিয়েছে, আর শিয়াল ভাবছে, 'এবার আর বাঘমামা আমাকে ফেলে পালাতে পারবে না। এমনি করে তারা দুজনে শিয়ালের গর্তের কাছে এল। ছাগলছান। দূর থেকেই তাদের দেখতে (পেয়ে শিয়ালকে বললে-_ দূর হতভাগা! তোকে দিলুম দশ বাঘের কড়ি, এক বাঘ নিয়ে এলি লেজে দিয়ে. দড়ি!

$

২২) রর রি নিউ) 3801 ঢা] | শা? 0

|]

বাঘ শিয়ালকে সুদ্ধ নিয়ে পালাচ্ছে

শুনেই তো ভয়ে বাঘের প্রাণ উড়ে গিয়েছে। সে ভাবলে যে, নিশ্চয় শিয়াল তাকে ফীকি দিয়ে শর্শহরি দাসকে.খেতে:দেবার জন্য এনেছে। তারপর সে কি আর সেখানে দাড়ায়! সে পচিশ হাত পথ এক-এক লাফ দিয়ে শিয়ালকে সুদ্ধ নিয়ে পালাল। শিয়াল বেচারা মাটিতে আছাড় খেয়ে, ] ৮৮

'আমা, আল! মামা, আল!" তা শুনে বাঘ ভাবে বুঝি সেই নরহরি দাস এল, তাই সে

খর ছোটে। এমনি করে সারারাত ছুটোছুটি করে সারা হল। ১০ সকালে ছাগলছানা বাড়ি ফিরে এল। শিয়ালের সেদিন ভারি সাজা হয়েছিল। সেই থেকে বাঘের উপর রাগ হল যে,

(রাগ আর কিছুতেই গেল না। বি

উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র ২১

বাঘ মামা আর শিয়াল ভাগ্নে

শিয়াল ভাবে, 'বাঘমামা, দাড়াও তোমাকে দেখাচ্ছি! এখন সে আর নরহরি দ!সের ভয়ে তার পুরনে! গর্তে যায় না, সে একটা নতুন গর্ত খুঁজে বার করেছে।

সেই গর্তের কাছে একটা কুয়ো ছিল।

একদিন শিয়াল নদীর ধারে একটা মদুর দেখতে পেয়ে, সেটাকে টেনে তার বাড়িতে নিয়ে এল। এনে, সেই কুয়োর মুখের উপর তাকে বেশ করে বিছিয়ে বাঘকে গিয়ে বললে, "মামা, আমার নতুন বাড়ি দেখতে গেলে না? শুনে বাঘ তখনি তার নতুন বাড়ি দেখতে এল। শিয়াল তাকে সেই কুয়োর মুখে বিছানো মাদুরটা দেখিয়ে বললে, “মামা, একটু বস, জলখাবার খাবে।

খাঁ কুয়োর ভিতর পড়ে বাচ্ছে

অলখাবারের কথা শুনে বাঘ ভারি খুশি হয়ে, লাফিয়ে সেই মাদুরের উপর বসতে গেল, আর অমনি সে কুয়োর ভিতরেংপড়ে গেল। তখন শিয়াল বললে, 'মামা, খুব করে জল খাও, একটুও রেখ না যেন!

সেই কুয়োর.ভিতরে কিন্তু বেশি জল ছিল না, তাই বাঘ তাতে ডুবে মারা যায় নি। সে আগে খুবই ভয় পেয়েছিল, কিন্তু শেষে অনেক কষ্টে উঠে এল। উঠেই সে বললে, 'কোথায় গেলিরে শিয়ালের বাচ্চ!?. দাঁড়া তোকে দেখাচ্ছি।' কিন্তু পিয়াল তার আগেই পালিয়ে গিয়েছিল, তাকে

তারপর থেকৈ.বাঘের ভয়ে শিয়াল আর তার ঝাড়িতেও আসতে পায় না, খাবার খুঁজ। যেতে গারে না। দূর থেকে দেখতে গেলেই বাঘ তাকে মারতে আসে। বেচারী না-খেয়ে নাট শেষে আধমরা হয়ে গেল। তখন সে ভাবলে, 'এমন হলে তো মরেই ষাব। তার কাছে খাই না কেন? দেখি যদি তাকে খুশি করতে পারি।,

এই মনে করে সে বাঘের সঙ্গে দেখা করতে গেল। বাঘের বাড়ি থেকে ্মৈর্ক দূরে থাকতেই সে খালি নমস্কার করছে আর বলছে, “মামা, মামা!

সুনে বাঘ আশ্চর্য হয়ে বললে, 'তাই তো, শিয়াল যে!

শিয়াল অমনি ছুটে এসে দুহাতে তার পায়ের ধুলো নিয়ে বললে, "মামা, আমাকে খুঁজতে গিয়ে তোমার বড় কষ্ট হচ্ছিল, দেখে আমার কান্সা পাচ্ছিল। মামা, আমি তোমাকে বড্ড ভালোবাসি,

২২ উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র

তাই এসেছি। আর কষ্ট করে খুঁজতে হবে না, ঘরে বসেই আমাকে মার।” শিয়ালের কথায় বাঘ তো৷ ভারি থতমত. খেয়ে গেল। সে তাকে মারলে না, খালি ধমকিয়ে ধললে, 'হতভাগা পাজি, আমাকে কুয়োয় ফেলে দিয়েছিলি কেন?,

কুমির রাঘকে কামড়ে ধরেছে

শিয়াল জিভ কেটে কানে হাত দিয়ে বললে, 'রাম-রাম! তোমাকে আমি কুয়োয় ফেলতে পারি? (গখানকার মাটি বড্ড নরম ছিল, তার উপর তুমি লাফিয়ে পড়েছিলে, তাই গর্ত হয়ে গিয়েছিল। (।মর মতো বীর কি মামা আর কোথাও আছে?”

তা শুনে বোকা বাঘ হেসে রললে, 'হ্যা-হ্য। ভাগ্নে, সে কথা ঠিক। আমি তখন বুঝতে পারিনি।'

এমনি করে তাদের আরার ভাব হয়ে গেল।

তারপর একদিন শিয়াল নূদীর ধারে গিয়ে দেখল যে, বিশ হাত লম্বা একট! কুমির ভাঙায় উঠে যদ পোয়াচ্ছে। তখন সে তাড়াতাড়ি ছুটে গিয়ে বাঘকে বললে, “মামা, মামা, একটা নৌকো 1/নছি, দেখবে

(ধোকা বাঘ,এসেসেই কুমিরটাকে সত্যি সত্যি নৌকো মনে করে লাফিয়ে তার উপর উঠতে 919, আর অমনি কুমির তাকে কামড়ে ধরে জলে গিয়ে নামল।

তা দেখে শিয়াল নাচতে-নাচতে বাড়ি চলে গেল। ৪১

(১

0

১. বোকা জোলা আর শিয়ালের কথা টে

এক বোকা জোলা ছিল। সে একদিন কাস্তে নিয়ে ধান কাটতে গি টি প৬খ। ঘুম থেকে উঠে আবার কাস্তে হাতে নিয়ে দেখল, সেটা গরম হয়েছে।

ণস্ডেখানা রোদ লেগে গরম হয়েছিল, কিন্তু জোলা ভাবলে তার জবর হয়েছে। তখন সে “আমার 1 তে। মরে যাবে রে!' বলে হাউ-হাউ করে কীদতে লাগল।

উপেন্দ্রকিশোর সমপ্র ২৩

পাশের ক্ষেতে এক চাষা কাজ করছিল।.জোলার কান্না শুনে সে বললে, 'কি হয়েছে? জোল! বললে, 'আমার কাত্তের জ্বর হয়েছে; - তা শুনে চাষা হাসতে-হাসতে বললে, "ওকে জলে ডুবিয়ে রাখ, জ্বর সেরে যাবে

ত্র হযেছে

জলে ডুবিয়ে কাস্তে ঠাণ্ডা হল,জোলাও খুব সুখী হল।

তারপর একদিন জোলার মায়ের জ্বর হয়েছে। সকলে বললে, “বদ্যি ডাক।' জোলা৷ বললে, 'আমি ওষুধ জানি। বলে, সে তার. মাকে পুকুরে নিয়ে জলের ভিতরে চেপে ধরল। সে বেচারী যতই ছটফট করে, জোলা ততই আরো চেপে ধরে, আর বলে, “রোস, এই তো জ্বর সারছে।

তারপর যখন ঝুড়ি আর নড়ছে-্চড়ছে না, তখন তাকে তুলে দেখে, সে মরে গেছে। তখন জোলা চেঁচিয়ে কাদতে লাগল, তিনদিন কিছু খেল না, পুকুর পাড় থেকে ঘরেও গেল না।

এক শিয়াল সেই.জোলার বন্ধু ছিল। সে জোলাকে কাদতে দেখে এসে বললে, 'বন্ধ, তুমি কেঁদ না, তোমাকে রাজার মেয়েবিয়ে করাব।'

শুনে জোলা চোধ মুছে ঘরে গেল। তারপর থেকে সে-রোজ শিয়ালকে বলে, “কই বন্ধু, সেই যে বলেছিলে?”

শিয়াল বললে; খন বলেছি, তখন করাবই। আগে তুমি খান কতক খুব ভালো কাপড় বুনগে দেখি।” জোইী দুম খালি কাপড়ই বুনল। তারপর শিয়াল তাকে খুর করে সাবান মেখে স্লান বলে, রাজার কাছেমেয়ে চাইতে বেরুল। লি

কানে কলম গুঁজে, পাগড়ি এঁটে, জামা জুতো পরে, চাদর জড়িয়ে, ছাতা বগলে যখন রাজার কাছে উপস্থিত হল, তখন রাজামশাই ভাবলেন, খুব পণ্ডিত জিন জিগ্গেস করলেন, “কি শিয়াল পণ্ডিত, কি জন্যে এসেছ?” স্১

শিয়াল বললে, “মহারাজ, আমাদের রাজার সঙ্গে আপনার মেয়ের কি-না, তাই জানতে এসেছি।

শিয়াল মিছে কথা বলেনি, সেই জোলার নাম ছিল “রাজা” কিন্ত মনে করলেন বুঝি

সত্যি-সত্যিই রাজা তিনি ব্যস্ত হয়ে জিগগেস করলেন, “তোমাদের রাজা কেমন? শিয়াল বললে-__

২৪ 0 উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র

দেখতে রাজ। বড়ই ভালো ঘরময় তার চাদের আলো। বুদ্ধি তার আছে যেমন লেখাপড়া জানে তেমন। এক ঘায় তার দশটা পড়ে তার গুণে লোক খায় পরে।

51১:৮1101

পাগড়ি এটে, জামা জুতো পরে, ছাতা বগলে করে, শিয়াল...

সত্যি-সত্যিই সে জোলা দেখতে ভারি সুন্দর ছিল, তাই শিয়াল বললে, দেখতে বড়ই ভালো।” তার ঘরে চাল ছিল:ন্না বলে ভিতরে ঠাদের আলো আসত, তাই শিয়াল বললে, ্ঘরময় টাদের আলো কিন্ত রাজামশাই ভাবলেন, বুঝি সেটা তীর নিজের বাড়ির মতন খুব ঝকঝকে জমকালো একটা বাড়ি! ৯,

বুদ্ধি তার ছিল না,আর সে লেখাপড়াও জানত ন|। কাজেই শিয়াল বললে, 'বুদ্ধি তার আছে যেমন, লেখাপড়া জানে: তেমন। কিন্তু রাজা ভাবলেন, তার ভারি বুদ্ধি, সে ঢের লেখাপড়া জানে।

'এক ঘায়) তার্‌ দশটা পড়ে” কথাও সত্যি। দশটা মানুষ নয়, দশটা ধানের গাছ! সে চাষা ছিল, কাক্তে নিয়ে ধান কাটত। রাজামশাই কিন্তু ভাবলেন, সে মস্ত বড় বীর, তার এক ঘায় মানুষ মরে

সে ধানের চাষ কর জার কাপড় বুনত। ধান থেকেই তো ভাত হয়, তাই লোকে কাপড় পরে। তাই শিয়াল বললে, 'তার গুণে লোক খায় পরে" রাজামশাই কিন্তু না। তিনি ভাবলেন, বুঝি সে ঢের গরীব লোককে খেতে পরতে দেয়। ₹২₹৯১

কাজেই তিনি খুব খুশি হয়ে শিয়ালকে এক হাজার টাকা বকশিশ বললেন, "এমন লোকের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দেব না তো কার সঙ্গে দেব£ তোমার নিয়ে এস, আট দিনের পর বিয়ে হবে।

শিয়াল সেই হাজার টাকার থলে বগলে করে, নাচতে-নাচতে জোলার কাছে এল। এসে দেখে, জোলা খালি কাপড়ই বুনছে। দুমাসে সে এত কাপড় বুনেছে যে সেই গ্রামের সকলের এক-একখানি

উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র 0 ২৫

করে কাপড় হতে পারে।

শিয়াল সেই টাকার থলে থেকে দুটি করে টাকা আর এক-একখানি কাপড় গ্রামের সকলকে দিয়ে বললে, 'আট দিন পরে রাজার মেয়ের সঙ্গে আমাদের বন্ধুর বিয়ে হবে, আপনাদের নিমন্ত্রণ ।” শুনে তারা ভারি খুশি হল। জোলা বোকা হলেও বড় ভালোমানুষ ছিল, তাই সকলে তাকে ভালোবাসত।

তারপর শিয়াল আর সব শিয়ালের কাছে গিয়ে বললে, 'ভাই সকল, আমার বন্ধুর বিয়ে, তোমাদের নিমন্ত্রণ তোমরা গান গাইতে যাবে।” শুনে শিয়াল সব হোয়া-হোয়া করে বললে, "হ্যা, হ্যা, যাব, যাব।'

তারপর শিয়াল ব্যা্ডদের কাছে গিয়ে বললে, ভাই ঃসরুল, আমার বন্ধুর বিয়ে, তোমাদের নিমন্ত্রণ। তোমরা গান গাইতে যাবে।'

সকল ব্যাঙ ঘোঁৎ-ঘোঁৎ করে বললে, হ্যা, হা, যার, যাবা" তারপর শিয়াল শালিকদের কাছে গিয়ে বললে, 'ভাই সকল, আমার বন্ধুর বিয়ে, তোমাদের নিমন্ত্রণ। তোমরা গান গাইতে যাবে।”

শালিকের দল কিচির-মিচির করে বললে, হ্যা, হ্যা, ঘাব, যাব”

তারপর শিয়াল হাড়ি্াচাদের কাছে, ঘুঘুদের কাছে,কুঁকো পাখিদের কাছে, উৎক্রোশ পাখিদের কাছে, বৌ কথা-ক-দের কাছে, ময়ূরদের কাছে, চোখগেলদের আর ভগদত্তদের কাছে গিয়েও তেমনি করে নিমন্ত্রণ করে এল। তার! সবাই বললে, 'হ্যা, হ্যা যাব, যাব।”

এ-সব কাজ শেষ হতে সাতদিন লাগল।-তার পরের দিন রাত্রিতে বিয়ে। শিয়াল তার বন্ধুর জন্যে চমৎকার পোশীক ভাড়া করে এনে যখন.সেই পোশাক তাকে পরিয়ে দিলে তখন সত্যিসত্যিই তাকে খুব বড় একটা রাজার মতন মনে হতে লাগল। যাদের নিমন্ত্রণ, তারা সবাই এল। খাবার সময় হলে, শিয়াল তাদের সকলকে নিয়ে রাজার বাড়ি চলল।

রাজার বাড়ি যখন এক ক্রোশ দূরে, তখন শিয়াল সকলকে ডেকে বললে, 'ভাই সকল, দেখ রাজার বাড়ির জালো দেখ৷ যাচ্ছে! তোমরা আলো! দেখে খুব ধীরে-ধীরে এস। আমি ততক্ষণ ছুটে গিয়ে রাজামশাইকে খবর: দি।,

সবাই বললে, 'আচ্ছা।,২.

শিয়াল বললে, “তরে একবার তোমরা সবাই মিলে গান ধর তো! দেখি কার কেমন গলার জোর। অমনি পাঁচ. হাজার শিয়াল মিলে ট্যাঠাতে লাগল, 'হয়া, হয়া, হয়া, হয়।!

বারে হাজার ব্যাউবললৈ, 'ঘোৎ ঘৌঁৎ খেঁয়াও ধেঁয়াও।”

সাত হাজার শালিক বললে_ ফড়িং সঙ্গে সঙ্গে চারিজনং

চকিৎ কাট কাট কাট গুরুচরণ!

দুহাজার হীঁড়িটাচা বললে, 'ঘ্যাচা, ঘ্যাচা, ঘ্যাচা, ঘ্যাচা, ঘ্যাচা, ঘ্যাচা”

চার হাজার ঘুঘু বললে, 'রঘু, রঘু, রঘু, রঘু, রঘু রঘু!" 3১

তিন হাজার কুঁকো বললে, 'পুৎ, পুৎ, পুৎ, পু, পুৎ, মা 2১০

উনিশ শে উৎক্রোশ বললে, “হী আঃ, হী আঃ, হ। আঃ,

আর যত বৌ-কথা-ক, ময়ূর, আদর চোখ গল, এরও সই নিজের গান ধরতে ছাড়ল না।

তখন শুনতে কেমন হয়েছিল, তা সেখানে থাকলে বোঝা৷ যেত বাড়ির লোকেরা দূর

থেকে তা শুনে তো ভয়ে কাপতেই লাগল। তারপর যখন শিয়াল রাজামশাইকে খবর দিতে এল, তখন তিনি ভারি ব্যস্ত হয়ে বললেন, "শিয়াল পণ্ডিত, ওটা কিসের গোলমাল?” শিয়াল বললে, “ওটা আমাদের বাজনা আর লোকজনের শব্দ।”

২৬ উপেঞ্রকিশোর সমগ্র

শুনে রাজা তো ভয়ে অস্থির হলেন। এত লোককে কোথায় বসাবেন, কি দিয়ে খাওয়াবেন, ভেবে ঠিক করতে পারলেন না। তিনি শিয়ালকে বললেন, 'তাই তো, কি হবে?

শিয়াল বললে, 'ভয় কি মহারাজ! আমি এখুনি গিয়ে লোকজন সব ফিরিয়ে দিচ্ছি। খালি রাজাকে আপনার কাছে আনব।”

রাজা তখন বড়ই খুশি হয়ে শিয়ালকে পাঁচ হাজার টাকা বকশিশ দিলেন। শিয়াল ফিরে এসে মাঠের মাঝখানে অনেক টাকার মুঁড়ি-মুড়কি, আর ছোট ছোট মাছ ছড়িয়ে দিয়ে বললে, 'তোমরা খাও ।” অমনি তার সঙ্গের সব শিয়াল, ব্যাউ আর পাখি মিলে কাড়াকাড়ি করে সে সব খেতে লাগল। শিয়াল গ্রামের লোকদের প্রাণ ভরে সন্দেশ খাইয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিল। তারপর জোলাকে নিয়ে রাজার কাছে এল। আসবার সময় তাকে শিখিয়ে আনল, "খবরদার! কথা বলো না যেন, তবে কিন্তু বিয়ে করতে পাবে না।” উর

রাজার বাড়ির লোকেরা বর দেখে কি যে খুশি হল, কি বলব! তারা খালি এইজন্য দুঃখ করতে লাগল যে, এমন সুন্দর বর, কিন্তু সে কথা কয় নাংকেন?

জোল। আর শিয়াল

শিয়াল বললে, €ওঁর মা মরে গিয়েছেন, সেই দুঃখে উনি কথা বলছেন না।” শুনে সবাই বললে, 'আহা!' কিন্তু: আসুল কথা এই যে, কথা বললেই কিনা জোলা ধরা পড়ে যাবে, তাই শিয়াল তাকে

খাবার সময় জোলাকে সোনার থালায় ভাত, আর একশোট। সোনার বাটিতে নানা তরকারি আর মিঠাই দিয়েছিল। সে এক-একটি করে সবগুলো! বাটি হাতে নিয়ে শুঁকে দেখুল তার কোনোটাই চিনতে না পেরে, মিঠাই, ঝোল, অন্বল সব একসঙ্গে ভাতের উপর মেখে নিল। তারপর তার খানিকটা খেতে না পেরে, য৷ বাকি ছিল চাদরে বাঁধতে

সকলে শিয়ালকে বললে, “তোমাদের রাজা কেন এমন? কখনো কিউুখী়্নি নাকি?

শিয়াল চোখ ঠেরে তাদের কানে-কানে বলল, উনি একবার মেখে খান না, আর পাতে যা থাকে তা চাদরে বেঁধে, সেই চাদরখানি সুদ্ধ গরীবকে দের্। একজন গরীবকে ডাক! বলে সে খাবার-বীধা চাদরখানি জোলার গা থেকে খুলে গরীবকে দ্রিতে দিল।

শোবার সময় জোলার ভারি মুশকিল হল। হাতির দীতের খাটে বিছানা, তাতে মশারি খাটানো।

উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র ২৭

সে বেচারা কোনদিন খাটও দেখেনি, মশারিও দেখেনি।

আগে গিয়ে খাটের তলায় ঢুকল, সেখানে বিছান! নেই দেখে বেরিয়ে এল। তারপর মশারির চারধার খুঁজে তার দরজা টের না পেয়ে বললে, 'বুঝেছি, ঘরের ভিতর ঘর করেছে, তার দোর রেখেছে চালের উপর!

সবসুদ্ ভেঙে নিয়ে ধপাৎ

বলে সে খাটের খুটি বেয়ে. যেই-মশারির চালে উঠতে গিয়েছে, অমনি সবসুদ্ধ ভেঙে নিয়ে ধপাৎ! তখন সে কাদতে কাদতে বললে, 'ধান কাটতুম, কাপড় বুনতুম, সেই ছিল ভালো। রাজার মেয়ে বিয়ে করে মোর কোমর ভেঙে গেল।”

ভাগ্যিস সেখানে:তার লৌক:ছিল না, কেবল রাজার মেয়ে ছিলেন, আর বাইরে শিয়াল বসে ছিল। রাজার মেয়ে অনেক-ক্লাদলেন, আর শিয়ালকে বকলেন। কিন্তু তার ভারি বুদ্ধি ছিল, তাই কথা আর কাউকে রূললেন না। 7

পরদিন রাজার- মেয়ের কথায় শিয়াল গিয়ে রাজাকে বললে, "মহারাজ, আপনার জামাই বলছেন, আপনার [ময়েকৈ নিয়ে তিনি নানান দেশ দেখতে যাবেন। তাই ছুটি চাচ্ছেন।'

রাজ৷ খুশি হয়ে ছুটি দিলেন, আর লোকজন, টাকাকড়ি সঙ্গে দ্রিলেন। তারপর রাজার মেয়ে জোলাকে নিয়ে আর-এক দেশে গিয়ে বড় বড় মাস্টার রেখে তাকে সকল রকম বিদ্যে শেখাতে লাগলেন। দু-তিন রছরের মধ্যে জোলা মস্ত পণ্ডিত আর বীর হয়ে উঠল।

তখন খবর এল যে, রাজা মরে গেছেন, আর তার ছেলে নেই বলে জামাইকে গিয়েছেন। তখন খুব সুখের কথা হল। (9৯)

২৯

রড

২৮ উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র

কুঁজো বুড়ির কথা

এক যে ছিল কুঁজো বুড়ি। সে লাঠি ভর দিয়ে কুঁজে! হয়ে চলত, আর তার মাথাটা খালি ঠক- ঠক করে নড়ত। বুড়ির দুটো কুকুর ছিল। একটার নাম রঙ্গা, আর একটার নাম ভঙ্গা।

বুড়ি যাবে নাতনীর বাড়ি, তাই কুকুর দুটোকে বললে, “তোরা যেন বাড়ি থাকিস, কোথাও চলে- টলে যাসনে।”

রঙ্গা-ভঙ্গ। বললে, 'আচ্ছা”। তারপর বুড়ি লাঠি ভর দিয়ে, কুঁজো হয়ে যাচ্ছে, আর তার মাথাটা খালি ঠক ঠক করে নড়ছে। এমনি করে সে খানিক দূর গেল।

তখন এক শিয়াল তাকে দেখতে পেয়ে বললে, রে, সেই কুঁজো বুড়ি যাচ্ছে। বুড়ি, তোকে তো খাব!”

বুড়ি বললে, “রোস, আমি আগে নাতনীর বাড়ি থেকে মটা হয়ে আসি, তারপর খাস। এখন খেলে তো শুধু হাড় আর চামড়া খাবি, আমার গায়েকি.আর কিছু আছে?

শুনে শিয়াল বললে, “আচ্ছা, তবে মোটা হুরে্তীর তারপর খাব এখন।” বলে শিয়াল চলে গেল।

তারপর বুড়ি আবার লাঠি ভর দিয়ে কুঁজে হয়ে যাচ্ছে, আর তার মাথাটা ঠক-ঠক করে নড়ছে। এমনি করে আরো খানিক দূর গেল।

তখন এক বাঘ তাকে দেখতে পেয়ে বললে, “ই রে, সেই কুঁজো বুড়ি যাচ্ছে বুড়ি, তোকে তো খাব!ঃ

$৯ ৪৯. 150 1 ॥া %.

পা

“নটি পু 05

শিয়াল বললে বুড়ী, তোকে তো খাব ০9০

বুড়ি বললে, 'রোস, আমি আগে নাতনীর বাড়ি থেকে মোটা হয়ে খেলে তো শুধু হাড় আর চামড়া খাবি, আমার গায়ে কি আর কিছু

01011 08

তারপর বুড়ি আবার লাঠি ভর দিয়ে কুঁজো হয়ে যাচ্ছে, আর তার থাটা ঠক-ঠক করে নড়ছে। এমনি করে সে আরো খানিক দূর গেল।

তখন এক ভালুক তাকে দেখতে পেয়ে বললে, “এ রে, সেই ঝুঁজো বুড়ি যাচ্ছে! বুড়ি, তোকে উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র ২৯

তো খাব!

বুড়ি বললে, 'রোস, আমি আগে নাতনীর বাড়ি থেকে মোটা হয়ে আসি, তারপর খাস। এখন খেলে তো শুধু হাড় আর চামড়া খাবি, আমার গায়ে কি আর কিছু আছেঃ,

শুনে ভাল্গুক বললে, 'আচ্ছা, তবে মোটা হয়ে আয়, তারপর খাব এখন”

এই বলে ভালুক চলে গেল। বুড়িও আর খানিক দূর গিয়েই তার নাতনীর বাড়ি পৌঁছল। সেখানে দই আর ক্ষীর খেয়ে-খেয়ে এমনি মোটা হল যে, কি বলব! আর একটু মোটা হলেই সে ফেটে যেত।

তাই সে তার নাতনীকে বললে, "ওগো নাতনী, আমি তো৷ বাড়ি চললুম। এবারে আর আমি চলতে পারব না। আমাকে গড়িয়ে যেতে হবে। আবার পথে ভাল্লুক, বাঘ আর শিয়াল হাঁ করে বসে আছে। আমাকে দেখতে পেলেই ধরে খাবে। এখন-বল দেখি কি করি?

নাতনী বললে, 'ভয় কি দিদিমা? তোমাকে এই লাউয়ের,খোলটার ভিতরে পুরে দেব। তাহলে বাথ ভালুক বুঝতেও পারবে না, তোমাকে খেতেও: পারবে.না।'

বলে, সে বুড়িকে একটা লাউরের খোলার ভিতর পুরে; তার খাবার জন্যে চিড়ে আর তেঁতুল

ভালুক.লাউটাকে নেড়ে-চেড়ে দেখল

বুড়ি তার ভিতর থেকে বলছে-_ 3৪৯

বুড়ি গেল ঢের দূর! পথের মাঝখানে সেই ভাল্লুক হাঁ করে বসে আছে, বুড়িকে সে বুড়ি-টুড়ি কিছু দেখতে পেলে না, খালি দেখলে একটা লাউ গড়িয়ে যাচ্ছে। লাউটাকে উ্নড়ে-চেড়ে দেখলে, বুড়িও নয়, খাবার জিনিসও নয়। আর তার ভিতর থেকে কে যেন বলছে, 'বুড়ি গেল ঢের দূর! শুনে সে ভাবলে, বুড়ি চলে গিয়েছে! তখন সে ঘোঁৎ করে তাতে দিলে এক ধাকা! আর সেটা গাড়ির

৩০ 0 উপেদ্রকিশোর সমগ্র

মতন গড়গড়িয়ে চলল। লাউ চলছে আর বুড়ি তার ভিতর থেকে বলছে-_ লাউ গড়-গড়, লাউ গড়-গড়, বীচি ফেলি টুল্-টুল্‌। বুড়ি গেল ঢের দূর! আবার খানিক দূরে বাঘ বসে আছে বুড়িকে খাবে বলে। সে বুড়িকে দেখতে পেল না, খালি দেখলে একটা লাউ গড়িয়ে যাচ্ছে৷ সেটাকে নেড়ে-চেড়ে দেখলে, ঝুঁড়িও নয়, খাবার জিনিসও নয়। আর তার ভিতর থেকে কে যেন বলছে, “বুড়ি গেল ঢের দূর।” শুনে সে ভাবলে বুড়ি চলে গিয়েছে। তখন সে ঘোঁৎ করে তাতে দিলে এক ধাকা,আর সেটা গাড়ির মতন গড়গড়িয়ে চলল লাউ চলছে জার বুড়ি তার ভিতর থেকে বলছে--. লাউ গড়-গড়, লাউ গড়-গড়, খাই চিড়ে আর তেঁতুল, বুড়ি গেল ঢের দূর! আবার খানিক দূরে সেই শিয়াল পথের মাঝখানে বসে আছে। সে লাউ দেখে বললে, “হই! লাউ কিনা আবার কথা বলে ওর ভিতরে কি আছে দেখতে হবে।' তখন সে হতভাগা লাথি মেরে লাউটা ভেঙেই বলে কিনা, 'বুড়ি তোকে তো-খাব!' বুড়ি বললে 'খাবি বইকি! নইলে এসেছি কি করতে? তা, আগে দুটো গান শুনবিনে? শিয়াল বললে, "হ্যা, দুটো গানহুলে অন্দ হয় না। আমিও একটু-আধটু গাইতে পারি” বুড়ি বললে, “তবে ভালোই হুল। চল:এ টিপিটায় উঠে গাইব এখন।” 7 'আয়, আয়, রঙ্গা-ভঙ্গা, তু-উ- রি অমনি বুড়ির দুই কুকুর্‌ ছুটেএসে, একটা ধরলে শিয়ালের ঘাড়, আর একটায় ধরলে তার কোমর। ধরে টান কিটান! শিয়ালের ঘাড় ভেঙে গেল, কোমর ভেঙে গেল, জিভ বেরিয়ে গেল, প্রাণ-বেরিয়ে গেল-_তবু তারা টানছেই, টানছেই, খালি টানছে।

উকুনে বুড়ির কথা

এক যেছিল উুনে-বুড়ি, তার মাথায় বড্ড ভয়ানক উকুন ছিল | সে যখন তার বুড়োকে খেতে দিতে যেত তখন ঝরঝর করে সেই উকুন বুড়োর পাতে পড়ত। তাইতে সে একদিন গিয়ে, ঠাই করে বুড়িকে এক ঠেডার বাড়ি মারলে। তখন বুড়ি ভাতের হাড়ি আছড়ে গর রাগের ভরে সেই যে নদীর ধার দিয়ে চলে গেল, আর তাকে বুড়ো ডেকে যিরা/ত্তেপ্পীরলে না। নদীর ধারে এক বক বসে ছিল, সে উকুনে-বুড়িকে দেখে বললে, উবু (কাথা যাস??

স্বামী মারলে, রাগে তাই ঘর-গেরক্ভী ফেলে যাই।

বক বললে, “তোর স্বামী মারলে কেন? কি হয়েছে?

উকুনে-বুডি বললে, “আমার মাথা থেকে তার পাতে উকুন পড়েছিল।”

উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র ৩১

বক বললে, “কেন, উকুন তো৷ বেশ লাগে! তার জন্যে মারলে কেন? তুই আমার বাড়ি চল। শুনেছি তুই খুব ভালো রাঁধিস।' তাইতে উকুনে-বুড়ি বকের বাড়িতে রীধুনি হল। তার রান্না বকের বেশ ভালো লাগত, আর পাতে উকুন পড়লে তো৷ সে খুব খুশিই হত।

তখন, একদিন হয়েছে কি--বক এনেছে একটা মস্ত শোল মাছ। এনে সে উকুনে বুড়িকে বললে, “উকুনে-বুড়ি, মাছটা বেশ করে রীধ।

হি

বি ৭1 51118 ৪৫

14 গু

উকুনে বুড়ী বক

বলে সে আবার নদীর ধারে. চলে গেল।উকুনে-বুড়ি মাছ রীধতে লাগল। রীধতে রীধতে বেচারা মাথা ঘুরে কখন কড়ার মধ্যে গড়ে গিয়েছে কেউ জানতে পারেনি।

বক এসে দেখলে, উকুনে-বুড়ি পুড়ে মরে আছে। দেখে তার এমনি দুঃখ হল যে, সে নদীর ধারে গিয়ে মুখ ভার:কুরে বসে রইল, সাতদিন কিছু খেল না।

নদী বললে, 'ভালোরে ভালো, সাতদিন ধরে এমন করে বক বসে আছে, খায় দায়নি! এর হল কি? হ্যা ভাই বক, তোর হয়েছে কি ভাই? বক বললে, 'আরে ভাই, সে কথা বলে কি হবে? আমার যা হবার তা হয়েছে।” নদী বললে, 'ভাই, আমাকে বলতে হবে।' বক বললে;*যুদি বলি, 5448

তখন বক বললে__ 3৪১

উকুনে-বুড়ি পুড়ে মোলো, ৩০৯ বক সাতদিন উপোস রইল।

অমনি ফ্যান-ফ্যান করে দেখতে-দেখতে নদীর জল ফেনিয়ে সাদা

সেই নদীতে এক হাতি রোজ জল খেতে আসে। সেদিন সে এসে দেখে, একি

কাণ্ড হয়ে আছে! হাতি বললে, “নদী, তোর কি হলঃ তোর জল কি করে ফেনা ইয়ে গেল? নদী বললে, "তা যদি বলি, তবে কিন্তু তোর লেজটি খসে পড়ে যাবে।” হাতি বললে, 'যায় যাবে, তুই বল

৩২0 উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র

তখন নদী ঝললে__ উকুনে-বুড়ি পুড়ে মোলো, বক সাতদিন উপোস রইল, নদীর জল ফেনিয়ে গেল। অমনি ধপাস করে হাতির লেজটা খসে পড়ে গেল! তারপর হত গাছভল। দিয়ে যাচ্ছে, গাছ তাকে দেখে বললে, “বাঃ রে, তোর একি হল? লেজ কোথায় গেল ত' হাতি বল/গা, 'তা যদি বলি, তবে কিন্তু তোর পাতাগুলি সব এক্ষুণি ঝরে পড়বো? গাছ বলণে, 'পড়ে পড়ুক, তুই বল্‌।”

তখন তি বললে-_ বক সাতদিন উপোস রইল, নদীর জল ফেনিয়ে_গেল, হাতির লেজ খসে. পড়ল। অমনি ধারার করে গাছের সব পাতাগুলি ঝরে পড়ে গেল। সেই গাছে এক ঘুঘুর বাসা ছিল। সে তখন খাবার খুজতে গিয়েছিল। ফিরে এসে দেখে, ওমা একি হয়েছে! ঘুঘু বললে, "গাছ, তোর একি হল? তের পাতা সব কোথায় গেল? গাছ থলে, 'তা যদি বলি, তবে বি জার চোখ কানা হয়ে যাবে।' ঘুথু বললে, "যায় যাবে, রী বব তখন গা বললে-_

বক সাতদিন উপোস রইল, ন্দীর জল ফেনিয়ে গেল, হাতির লেজ খসে পড়ল, ২. গাছের পাতা ঝরে পড়ল। অমনি টম করে 'ুঘুর একটা চোখ কানা হয়ে গেল। কানা চোখ নিয়ে ঘুঘু মাঠে চরতে গিয়েছে, তখন রাজার বাড়ির রাখাল তাকে দেখে বললে,

ঘুঘুর চোখ কানা হল।

* অমনি চটাস করে রাখালের লাঠি তার হাতে আটকে গেল। ঘেঁকত হাত ঝাড়লে, কিছুতেই

তাকে ফেলতে পারলে না। যখন গোরু নিয়ে সে রাজার বাড়িতে ফিরে এসেছে, তখনো! সে হাত বাড়ছে,

উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র-_-৩ উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র 0 ৩৩

রাজার বাড়ির দাসী ভাঙা কুলোয় করে ছাই ফেলতে যাচ্ছিল। সে রাখালকে দেখে বললে, “দুর হতভাগা! অমনি করে হাত ঝাড়ছিস কেন? কি হয়েছে তোর হাতে রাখাল বললে, “সে কথা যদি বলি, তবে কিন্ত আর এঁ কুলোখানা তোমার হাত থেকে নামাতে পারবে না, সেখানা তোমার হাতেই আটকে থাকবে।” দাসী বললে, 'ঈস! ভাচ্ছা থাকে থাকবে, তুই বল।” তখন রাখাল বললে__ . উকুনে-বুড়ি পুড়ে মোলো, বক সাতদিন উপোস রইল, নদীর জল ফেনিয়ে গেল, হাতির লেজ খসে পড়ল. গাছের পাতা ঝরে পড়ল, ঘুঘুর চোখ কানা হল, রাখালের হাতে লাঠি আটকাল। অমনি দাসী 'ওমা। কি গো! কি হবে গো$ বলে কাদতে লাগল। সে অনেক করেও কুলো হাত থেকে নামাতে পারলে না। শেষে রাখাল-ছোকরাকে গাল দিতে দিতে ঘরে গেল। ঘরে গিয়ে দাসী হাত থেকে আর কুলো মামাচ্ছে না। রানী তখন থালা হাতে করে রাজার জন্যে ভাত বাড়ছিলেন। দাসীকে দেখে তিনি হেসে বললেন, “দাসী, তোর হয়েছে কি? কুলোটা হাত থেকে ' নামাচ্ছিস নে কেন? দাসী বললে, “তা যদি বলি রানীমা, তি থালাখানা আর আপনার হাত থেকে নামাতে পারবেন না, ওখানা আপনার হাতে আটকে যাবে। রানী বললেন, 'টে। আট কেমন আটকায় তখন দাসী বললে__ 3 3 বকংসাতদিন উপোস রইল, অদীর জল ফেনিয়ে. গেল, ঘুঘুর চোখ কানা হল, রাখালের হাতে লাঠি আটকাল, দাসীর হাতে কুলো আটকাল। অমনি রানীরত্থাতে থালাধানি আটকে গেল, তিনি আর তা নামাতে পারে তখন আর কি করেন? আর একখানা থালায় করে রাজামশাইয়ের জন্যে ভাত বেড়ে নিয়ে রাজামশাই তাকে দেখেই বললেন, 'রানী, থালাখানা হাতে করে রেখেছ যে) রানী বললেন, “তা যদি বলি, তবে কিন্ত আর তুমি এখান থেকে উঠে না, তুমি পিঁড়িতে আটকে থাকবে? শুনে রাজা হো-হো করে হাসলেন, তারপর বললেন, “আচ্ছা , তুমি বল।? তখন রানী বললেন__ উকুনে-বুড়ি পুড়ে মোলো, বক সাতদিন উপোস রইল,

৩৪ উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র

নদীর জল ফেনিয়ে গেল, ঘুঘুর চোখ কানা হল, রাখালের হাতে লাঠি আটকাল, রানীর হাতে থালা আটকাল। খগতে বলতেই তো রাজামশাই পিঁড়িতে খুব ভালোমতোই আটকে গেলেন! কত টানাটানি সঞগেন, কিছুতেই উঠতে পারলেন না। চাকরদের ডাকলেন, তারাও কিছু করতে পারল ন!। তখন ৪8 (পাড়সুদ্ধ তাকে চারজনে৷ ধরাধরি করে এনে সভায় বসিয়ে দিলে!

_ পিড়িতে রাজা আটকাল

| দেখে সভার, লোকদের তে তো ভারি মুশকিলই হল। তাদের ভয়ানক হাসি পাচ্ছে। তারা হাসি গাথাতে পারছে না, হাসুতেও পারছে না, পাছে রাজামশাই রাগ করেন। কেউ ভয়ে জিগগেস দ//৩৩ পারছে নী; রাজামশাইয়ের কি হয়েছে।

খন রাজামশাই নিজেই বললেন, 'তোমরা বুঝি জানতে চাচ্ছ, আমি পিঁড়িতে কি করে আটকে চাগাম।'

তারা হাত করে বললে, "হ্যা, মহারাজ।”

রাজ। বললেন,:তা যদি বলি, তবে তোমরাও যে যার বসবার জায়গায় আটকে যাবে (৪১

এরা ঝললে, “মহারাজ যদি আটকালেন, তবে আমর! আর বাকি থাকি কেন? (২৫৯

তখন রাজা বললেন-__

উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র 0 ৩৫

রাখালের হাতে লাঠি আটকাল, দাসীর হাতে কুলো আটকাল, পিঁড়িতে রাজ! আটকাল।” বলতেই আর তারা যাবে কোথায়! এমনি করে তারা তক্তাপোশে আটকে গেল যে, আর তাদের উঠবার সাধ্য নেই। ভাগ্যিস সেই দেশে এক খুব বুদ্ধিমান নাপিত ছিল, নইলে মুশকিল হয়েছিল আর কি। নাপিত এসে বললে, “শিগগির ছুতোর ডাক। তখন ছুতোর এসে পিঁড়ি কেটে রাজামশাইকে ছাড়ালে, আর তক্তাপোশ কেটে সভার লোকদের ছাড়ালে। একটু একটু কাঠ তবু সকলের গায়ে লেগে ছিল, সেটুকু টেঁচে তুলে দিলে! রানীর হাতের থালা, দাসীর হাতের কুলো আর রাখালের. হাঁতের লাঠিও ফেলে দেওয়া হল।

পান্তাবুড়ির কথা

এক যে ছিল পাস্তাবুড়ি, সে পান্তাভাত.খেতে বড্ড ভালোবাসত।

এক চোর এসে রোজ পান্তাবুড়ির পাঁপ্তাভাত খেয়ে যায়, তাই বুড়ি লাঠি ভর দিয়ে রাজার কাছে নালিশ করতে চলল দ্র

পান্তাবুড়ি পুকুর ধার দিয়ে যাচ্ছিল। একটা: শিডিমাছ তাকে দেখতে পেয়ে বললে, 'পাস্তাবুড়ি, কোথায় যাচ্ছ?”

পাস্তাবুড়ি বললে, “চোরে আমার পান্তাভাত খেয়ে যায়, তাই রাজার কাছে নালিশ করতে যাচ্ছি! টস £ শিডিমাছ বললে, “ফিরে যারার সময় আমাকে নিয়ে যেও, তোমার ভালো হবে

৩৬ 0 উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র

গগগর পাস্তাবুড়ি বেলতল! দিয়ে যাচ্ছে। একটা বেল মাটিতে পড়ে ছিল, সে বললে, 'শ%া]ড়ি, কোথায় যাচ্ছ£

শঞণুড়ি বললে, "চোরে আমার পান্তাভাত খেয়ে যায়, তাই রাজার কাছে নালিশ করতে য়]

(99 বললে, ফিরে যাবার সময় আমাকে নিয়ে যেও, তোমার ভালো হবে।”

শ॥ঞ্ণুড়ি বললে, "আচ্ছা?

পর পান্তাবুড়ি পথের ধারে খানিকটা গোবর দেখতে পেলে। গোবর বললে, 'পাস্তাবুড়ি, গা 9?”

শাঞ্তাবুড়ি বললে, “চোরে আমার পাস্তাভাত খেয়ে যায়, তাই রাজার কাছে নালিশ করতে 20171

গোবর বললে, “ফিরে যাবার সময় আমাকে নিয়ে যেও, তোমার ভালো হবে

পাণ্তাধুড়ি বললে 'আচ্ছা।”

তারপর খানিক দূর গিয়ে পান্তাবুড়ি দেখলে, পথের-ধারে একখান! ক্ষুর পড়ে রয়েছে।

%4 বললে, 'পা্তাবুড়ি, কোথায় যাচ্ছ £”

গাঞণ্ডাবূড়ি বললে, চোরে আমার পাস্তাভাত-খেয়ে খায়, তাই রাজার কাছে নালিশ করতে ঘা

শুর ধললে, 'ফিরে যাবার সময় আমাকে সঙ্গে নিও, তোমার ভালো হবে?

গান্তাধুড়ি বললে, “আচ্ছা।”

তারপর পান্তাবুড়ি রাজার বাড়ি গিয়ে দেখলে, রাজামশাই বাড়ি নেই। কাজেই সে আর নালিশ গত পেল না।

খাড়ি ফিরবার সময় তার স্ষুর আর গোবর আর বেল আর শিিমাছের কথা মনে হল। সে দের সকলকে তার থলেয় করে নিয়ে এল।

পাস্তাবুড়ি যখন বাড়ির আঙিনায় এসেছে, তখন ক্ষুর তাকে বললে, “আমাকে ঘাসের উপর রেখে মা1।'

তাই বুড়ি ক্রখানাকে ঘাসের উপর রেখে দিল।

তারপর যখন সে ঘরে উঠতে যাচ্ছে, তখন গোবর বললে, “আমাকে পিঁড়ির উপর রেখে দাও!

২1515 01

১৯৮?

__ও মাগো! গেলুমগো! তাই বুড়ি গোবরটাকে পিঁডির উপর রেখে দিল। বুড়ি যখন ঘরে ঢুকল, তখন বেল বললে, “আমাকে উনুনের ভিতরে রাখ। শুনে বুড়ি তাই

ঝরলে। শেষে শিডিমাছ বললে, "আমাকে তোমার পান্তাভাতের ভিতরে রাখ।”

উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র 3 ৩৭

বুড়ি তাই করল।

তারপর রাত হলে বুড়ি রান্না-খাওয়া৷ সেরে ঘুমিয়ে রইল।

ঢের রাত্রে চোর এসেছে। সে তো৷ আর জানে না, সেদিন বুড়ি কি ফন্দি করেছে। সে এসেই পান্তাভাতের হাঁড়িতে হাত ঢুকিয়ে দিল। সেখানে ছিল শিঙিমাছ। সে চোর বাছাকে এমনি কীট! ফুটিয়ে দিল যে তার দুই চোখ দিয়ে জল পড়তে লাগল।

শিডিমাছের খোঁচা খেয়ে চোর কাদতে কাদতে উনুনের কাছে গেল। তার ভিতরে ছিল বেল। চোর যেই আঙুলে তাত দেবার জন্য উনুনে হাত ঢুকিয়েছে, অমনি পটাশ করে বেল ফেটে, তার চোখেমুৰে ভয়ানক লাগল।

তখন সে ব্যথা আর ভয়ে পাগলের মতো হয়ে যেই ঘর থেকে ছুটে বেরুবে, অমনি সেই গোবরে তার পা পড়েছে। তাতে সে পা' হড়কে ধপাস করে:সেই গোবরের উপরেই বসে পড়ল।

তারপর গোবর লেগে ভূত হয়ে বেটা গিয়েছে ঘাসে পা.মুছতে। সেইখানে ছিল ক্ষুর, তাতে ভয়ানক কেটে গেল। তাতে আর “ও মা গো! গেলুম গৌ!,রলে ন! চেঁচিয়ে বাছা যান কোথায়?

তা শুনে পাড়ার লোক ছুটে এসে বললে, সরি নিক সর নেক ছিড়ে ফেল!”

তখন যে চোরের সাজাটা!

চড়াই-আর কাকের কথা

কাক আর চড়াইপাখিতে খুব ভাব-ছিল।

_ গৃহস্থদের উঠানে চাটাই ফেলে ধান আর লকষা রোদে দিয়েছে। চড়াই তা দেখে কাককে বললে,

বন্ধু তুমি আগে লঙ্কা খেয়ে শেষ করতে পারবে, না আমি আগে ধান খেয়ে শেষ করতে পারব,

শি রার 'আমি লঙ্কা আগে খাব

চড়াই বললে, 'না, আমি. ধান আগে খাবা?

কাক বললে, 'যদিংনা খেতে পার, তবে কি হবে?”

চড়াই বললে, যদি না খেতে পারি, তবে তুমি আমার বুক খুঁড়ে খাবে। আর যদি তুমি না খেতে পার, তবে কি হবে £*২২

কাক বললে, 'তুষিআমার বুক খুঁড়ে খাবে।

এই বলে তো দুজনে ধান আর লঙ্কা খেতে লাগল। চড়াই কুট-কুট করে এক-একটি ধান খায়, আর কাক খপ্প-খপ করে একটি-একটি লঙ্কা খায়। দেখতে-দেখতে কাক সব লঙ্কা খেয়ে শেষ করলে, চড়াইয়ের তন ধানের সিকিও খাওয়া হয়নি।

তখন কাক বললে, 'কি বন্ধু, এখন?' (৪১

চড়াই বললে, “এখন আর কি হবে। বন্ধু হয়ে যদি আমার বুক খেতে চাও, ৮৫০০ ঠোট দুটো ধুয়ে নিও, তুমি নোংরা জিনিস খাও |

কা বারে, দি ঠোঁট পুলে জানা বলে লৈ দার টে

তখন গঙ্গা তাকে বললেন, “তোর নোংরা ঠোট আমার গায়ে ছোঁয় ধো।

তাতে কাক বললে, 'আচ্ছা, আমি ঘটি নিয়ে আসছি বলে সে

কুমোর, কুমোর! দে তো ঘটি, তুলব জল, ধোব ঠোট-_

৩৮ উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র

তবে খাব চড়াইর বুক। সুমোর বললে, পথটি তো নেই। মাটি আন, গড়ে দি।” শুনে কাক মোষের কাছে তার শিং চাইতে

।গপ, সেই শিং দিয়ে মাটি খুঁডবে। কাক বললে-_

চড়াই আর কাক ধান আর লক্ব। খেতে লাগল

মোষ, মোয!দে তো শিং খুঁড়র মাটি, গ্রড়বে ঘটি, তুলব জল, ধোব ঠোট-_ তবে খাব চড়াইর বুক। শুনে মোষ রেগে তাকে এমনি গঁতোতে এল যে সে সেখান থেকে দে ছুট! তারপর সে কুকুরের শগছে গিয়ে বললে লব শিং, খুঁড়ব মাটি, গড়বে ঘটি, তুলব জল, ধোব ঠোট-_ নু তবে খাব চড়াইর বুক। কুকুর বললে, 'আগে দুধ আন, খেয়ে গায়ে জোর করি, তবে মোধ মারব এখন।” শুনে গাইয়ের কাছে গিয়ে বললে__ ৬১ গাই, গাই! দে তো দুধ, (৬৯

খাবে কুত্তা, হবে তাজা, মারবে মোষ, লব শিং, খু়ব মাটি, গড়বে ঘটি, ৩১৯৮ তুলব জল, ধোব ঠোট তবে খাব চড়াইর বুক।

গাই বললে, “আগে ঘাস আন খাই, তারপর দুধ দেব।?

শুনে কাক মাঠের কাছে গিয়ে বললে-_

উপেন্দ্রকিশোর সম ৩৯

মাঠ, মাঠ! দে তো ঘাস, খাবে গাই, দেবে দুধ, খাবে কুত্তা, হবে তাজা, মারবে মোষ, লব শিং, খুঁড়ব মাটি, গড়বে ঘটি, তুলব জল, ধোব ঠোট-_ তবে খাব চড়াইর বুক।

মাঠ বললে, "ঘাস তো রয়েছে, নিয়ে যা না!”

তখন কাক কামারের বাড়ি গিয়ে বললে__ সু দেবে দুধ, খাবে কুত্তা, হবে তাজা, মারবে মোষ; লব শিং, খুঁড়ব মাটি, গড়বে ত্ঘটি,, তুলব জল, ধোব ঠোট__ তবে খাব চড়াইর বুক।

কামার বললে, 'আগুন নেই। আগুন নিয়ে আয়, কাণ্ডে গড়ে দি।' তা শুনে কাক গৃহস্থদের বাড়ি

গিয়ে বললে__

গেরস্ত ভাই, দাও তো আগুন, গড়বে ক্কান্ডে কাটব ঘাস,

খাবে গাই, দেবে দুধ, খাবে কুত্তা, হবে. তাজা, মারবে মোষ, লব শিং, খুড়ব মাটি, গড়বে ঘটি, ২.তুলবংজল, ধোব ঠোট-_ তবে খাব চড়াইর বুক।

তখন গৃহ এক কান এনে বললে, “কিসে করে নিবি?” বোকা কাক তার প্রাখা-ছড়িয়ে বললে, “এই আমার পাখার উপরে ঢেলে দাও।' গৃহস্থ সেই হাঁড়িসুদ্ধ আগুন কাকের পাখার উপর ঢেলে দিলে, আর সে বেটা তখুনি পুড়ে

মরে গেল। তার চড়াইর বুক খাওয়া হল না।

চড়াই আর বাঘের কথা

সে বোলে পি হো জর জি

একদিন চড়াই বললে, 'চড়নী, আমি পিঠে খাব” চড়াই বললে, “কি জিনিস লাগবে?

হজ , কাঠ লাগবে।”

চড়নী বললে, “ময়দা লাগবে, গুড় লাগবে, কলা লাগবে, দুধ

3৯

চড়াই বললে, “আচ্ছা আমি সব এনে দিচ্ছি। বলে সে বনের ভিতর গিয়ে গাছের সরু-সরু

শুকনো ভাল মট-মট করে ভাঙতে লাগল। ৪০ 9 উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র

সেই বনের ভিতর এক মস্ত বাঘ ছিল, সে চড়াইকে বলত, 'বন্ধু”। ডাল ভাঙার শব্দ শুনে সে শগলে, “মট-মট করে ডাল ভাঙছ, ওকি আমীর-বন্ধু£”

চড়াই বললে, হ্যা বন্ধু” রর

বাঘ বললে, “ডাল দিয়ে কি হবে?

চড়াই ভাল ভাঙছেসটসট করে . শুনে বাঘ বললে, 'বন্ধু, আমি কৃথ্থনো পিঠে খাইনি, আমাকে দিতে হবে।”

চড়াই বললে, 'তবে জোগাউ-সব এনে দাও।

বাঘ বললে, 'কি-কি জোগাড় চাই?”

চড়াই বললে, “ময়দা টাই,গুড় চাই, কলা চাই, দুধ চাই, ঘি চাই, হাঁড়ি চাই, কাঠ চাই।”

বাঘ পিঠের জিনিস নিয়ে চলেছে

উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র ৪১

বাঘ বললে, 'আচ্ছা তুমি ঘরে যাও, আমি সব এনে দিচ্ছি!” চড়াই তখন ঘরে চলে এল, আর বাঘ দুলতে দুলতে বাজারে চলল। বাজারে গিয়ে বাঘ খালি একটিবার বললে, “হাল্লুম! অমনি দোকানীরা 'বাবা গো! বাঘ এসেছে গো! পালা, পালা! বলে দোকান-টোকান সব ফেলে ছুটে পালাল। তখন বাথ সব দোকান খুঁজে ময়দা, গুড়, কল৷, দুধ, ঘি, হাঁড়ি আর কাঠ নিয়ে চড়াইয়ের বাড়িতে দ্বিয়ে এল।

তারপর চড়নী চমৎকার পিঠে গড়ল, আর দুজনে মিলে পেট ভরে খেল। শেষে বাঘের জন্য একখানা পাতায় করে কতকগুলি পিঠে মাটিতে রেখে দিয়ে, দুজনে চুপ করে হাঁড়ির ভিতর বসে রইল।

বাঘ এসে পিঠে দেখতে পেয়েই খেতে বসে গেল।

একখানা পিঠে মুখে দিয়ে সে বললে, 'বাঃ! কি চমৎকার!”

আর একখান৷ মুখে দিয়ে বললে, 'না, এটা তত ভালো নয়, খালি ময়দা দিয়ে গড়েছে!”

আর একখানা মুখে দিয়ে বললে, ছি! এটাতে খালি-ভুষি আর ছই। চড়াইব্ধ, কি খাওয়ালে!

আর একখানা মুখে দিয়ে বললে, উহ এটাতে কিসের গন্ধ গোবর দিয়েছে নাকি? চড়াই বেটা তে বড় পাজী ৷"

এমন সময় হয়েছেকি? চড়াই হাঁড়ির ভিতর থেকে নাক: মুখ সিটকিয়ে বলছে 'চড়নী,আমি হাচব

শুনে চড়নী ভারি ব্যস্ত হয়ে বললে, চুপ,চুপ! এখন হাঁচতে হবে না, তাহলে বড় মুশকিল হবে।

তাতে চড়াই চুপ করল। কিন্তু খানিক বাদেই আবার ভয়ানক নাক-মুখ সিঁটকিয়ে হাীচতে গেল। চড়নী তাকে থামাতে কত চেষ্টা করল,-রিছুতৈই থামিয়ে রাখতে পারল না।

বাঘ একটা বিশ্রী পিঠে খেয়ে বললে, "থু? থু! এটা খালি গোরর দিয়েই গড়েছে, আর কিছু দেয়নি! যদি চড়াইয়ের নাগাল পাই,.তাকে কামড়িয়ে চিবিয়ে খাব।”

তারপর আর একটা পিঠে মুখে দিয়ে সে সবে ওয়াক্‌-ওয়াক্‌ করতে লেগেছে, অমনি হ্যা-চ্ছোঃ করে চড়াই ভয়ানক শব্দে হেঁচে.ফেললে।. সে শব্দে বাঘ যেই চমকে লাফিয়ে উঠতে যাবে, অমনি হাড়িপুদ্ধ দড়ি ছিড়ে, চড়াই আর টড়নী তার ঘাড়ে পড়ল।

বাথ কিছুই বুঝতে পারলে না/কি বাজ বড়ল, না আকাশ ভেঙে পড়ল! সে খুব ভয় পেয়ে লেজ গুটিয়ে সেখান. থেকে ছুট-দিল, আর তার ঘরে না গিয়ে থামল না।

১২১।

ধু গানটার,

11111!

5725

হাঁড়ি ভাঙার শব্দে বাঘ পালাচ্ছে ৪২0 উপেক্দ্রকিশো।র সমগ্র

দুষ্ট বাঘ

রাজার বাড়ির সিংহ-দরজার পাশে, লোহা'র খাঁচায় একটা মত্ত বাঘ ছিল। রাজার বাড়ির সামনে দিয়ে যত লোক যাওয়া-আসা করত, বাঘ হাত জোড় করে তাদের সকলকেই বলত, "একটিবার খাঁচার দরজাটা খুলে দাও না দাদা!' শুনে তারা বলত, 'তা বইকি! দরজাটা খুলে দি, আর তুমি আমাদের ঘাড় ভাঙো।”

এর মধ্যে রাজার বাড়িতে খুব নিমন্ত্রণের ধুম লেগেছে। বড়-বড় পণ্ডিত মশাইয়েরা দলে-দলে নিমন্ত্রণ খেতে আসছেন। তাদের মধ্যে একজন ঠাকুর দেখতে ভারি ভালোধানুষের মতো ছিলেন। বাঘ এই ঠাকুরমশাইকে বারবার প্রণাম করতে লাগল।

ত৷ দেখে ঠাকুরমশাই বললেন, “আহা, বাঘটি তো৷ বড় লক্পী! তুমি কি চাও বাপু।

বাঘ হাত জোড় করে বললে, “আজ্ঞে, একটি বার যদি এই খাঁচার দরজাটা খুলে দেন! আপনার দুটি পায়ে পড়ি।” টি

ঠাকুরমশাই কিনা বড্ড ভালোমানুষ ছিলেন, তাই.তিনি.বাঘের কথায় তাড়াতাড়ি খাঁচার দরজা খুলে দিলেন।

তখন হতভাগা বাঘ হাসতে-হাসতে ধাইরে এসেই বললে, ঠাকুর, তোমাকে তো খাব!”

_ ঠাকুর, তোমাকে তো খাব! 3৪১

আর কেউ হলে হয়তো ছুটে পালাত। কিন্তু এই ঠাকুরটি ছুটতে জানতেন না। রি ব্যস্ত

হয়ে বললেন, “এমন কথা তো কখনো শুনিনি! আমি তোমার এত উপকার কুর র্‌ তুমি বলছ কিনা আমাকে খাবে! এমন কাজ কি কেউ কখনো করে?

বাঘ বললে, “করে বইকি ঠাকুর, সকলেই তো করে থাকে” ঠাকুরমশাই বললেন, "তা কখনোই নয়! চল দেখি তিনজন জিগগেস করি, তার! কি খলে।' বাঘ বললে, “আচ্ছা চলুন। আপনি যা! বলছেন, সাক্ষীর! যদি তাই বলে, আমি আপনাকে ছেড়ে উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র ৪৩

দিয়ে চলে যাব। আর যদি তারা আমার কথা ঠিক বলে, তবে আপনাকে ধরে খাব।

সাক্ষী খুঁজতে দুজনে মাঠে গেলেন। দুই ক্ষেতের মাঝখানে খানিকটা মাটি উঁচু রেখে, চাষীরা একটি ছোঁট পথের মতন করে দেয়, তাকে বলে আল। ঠাকুরমশাই সেই আল দেখিয়ে বললেন, “এই আমার একজন সাক্ষী।

বাঘ বললে, “আচ্ছা, ওকে জিগগেস করুন, কি বলে?

ঠাকুরমশাই তখন জিগগেস করলেন, “ওহে বাপু আল, তুমি বল দেখি, আমি যদি কারো ভালো করি, সে কি উল্টে আমার মন্দ করেঃ,

আল বললে, 'করে বইকি ঠাকুর। এই আমাকে দিয়ে দেখুন না। দুই চাযার ক্ষেতের মাঝখানে আমি থাকি, তাতে তাদের কত উপকার হয়। একজনের জমি আর একজন নিয়ে যেতে পারে না, একজনের ক্ষেতের জল আর একজনের ক্ষেতে চলে-যায় না। আমি তাদের এত উপকার করি, তবু হতভাগারা লাঙ্গল দিয়ে আমাকেই কেটে তাদের ক্ষেত. বাঁড়িয়ে নেয়।

বাঘ বললে, “শুনলেন, তো ঠাকুরমশাই, ভালো করলে তার মন্দ কেউ করে কি না!”

ঠীকুরমশাই বললেন, “রোসো, আমার তো আারো দুজন সাক্ষী আছে

বাঘ বললে, “আচ্ছা চলুন”

মাঠের মাঝখানে একটা বটগাছ ছিল। ঠাকুরমশাই তাকে দেখিয়ে বললেন, এর আমার আর একজন সাক্ষী

বাঘ বললে, “আচ্ছা, ওকে জিগগেস করুন। দেখি, কি বলে।”

ঠাকুরমশাই বললেন, 'বাপু বটগাছ, তোমার তো অনেক বয়েস হয়েছে, অনেক দেখেছ শুনেছ। বল দেখি, উপকার যে করে, তার অপকার.কি কেউ করে?

বটগাছ বললে, “তাই তো লোক আগে করে। লোকগুলো আমার ছায়ায় বসে ঠাণ্ড হয়েছে, আর আমাকেই খুঁচিয়ে আমার আঠা বার করেছে। আবার সেই আঠা রাখবার জন্যে আমারই গাতা ছিড়ছে। তারপর এঁ দেখুন, আমার 'ভালটা ভেঙে নিয়ে চলেছে।

বাঘ বললে, “কি ঠাকুরমশাই, ওকি বলছে!”

তখন ঠাকুরমশাই তো মুশকিলে পড়লেন। আর কি বলবেন, ভেবে ঠিক করতে পারলেন না। এমন সময় সেখান দিয়ে একটা শিয়াল যাচ্ছিল। ঠাকুরমশাই সেই শিয়ালকে দেখিয়ে বললেন, "ই আমার আর একজন _সাক্ষী 1 দেখি, কি বলে।”

তারপর তিনি শিয়ালকে ডেকে বললে, 'শিয়ালপণ্তিত, একটু দীডাও। তুমি আমার সাক্ষী?

শিয়াল দীড়াল; কিত্ত কাছে আসতে রাজী হল না। মে দূর থেকেই জিগগেস করল, “সে কি কথা! আমি কি-করে আপনার সাক্ষী হলুম?

ঠাকুরমশাই-বুললৈন, 'বল দেখি বাপু, যে ভালো করে, তার মন্দ কি কেউ করে?”

শিয়াল বললে, “কার কি ভালো কে করেছিল, 8 পারি। ঠাকুরমশাই বললেন, 'বাঘ খাঁচার ভিতরে ছিল, ভার আমি ব্রা্গাণ পথ দিয়ে

7775 খলে, আমি কিছুই বলতে পারব না।”

কাজেই সকলকে আবার সেই খাঁচার কাছে আসতে হল। কিন সেই খাঁচার চারধারে পায়চারি করে বললে, “আচ্ছা, খাঁচা আর পথ বুঝতে খন কি হয়েছে বলুন।

ঠাকুরমশাই বললেন, “বাঘ খাঁচার ভিতরে ছিল, আর আমি পথ দিয়ে যাচ্ছিলুম।” অমনি শিয়াল তাকে থামিয়ে দিয়ে বললে, 'দীড়ান, অত তাডাতাড়ি করবেন না, আগে এটুকু বেশ করে বুঝে নিই। কি বললেন? বাঘ আপনার বামুন ছিল, আর পথট! খাঁচার ভিতর দিয়ে

৪8 উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র

যাচ্ছিল? / এই কথ শুনে বাঘ হো-হো করে হেসে বললে, 'দূর গাধা! বাঘ খাঁচার ভিতর ছিল, আর বামুন পথ দিয়ে যাট্ছিল!'

1 1 4111]

ৰা

23 2২ চস

শিয়াল বললে, 'রোসো দেখি _বামুন খাঁচার ভিতরে ছিল, আর বাঘ পথ দিয়ে যাচ্ছিল?

বাঘ বললে, 'আরে বোকা, তা নয়। বাঘ খাঁচার ভিতরে ছিল, বামুন পথ দিয়ে যাচ্ছিল?

শিয়াল বললে, এ. তো ভারি গোলমালের কথা হল দেখছি। আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। কি বললে? বাঘ. বামুনের ভিতরে ছিল, আর খাঁচা পথ দিয়ে যাচ্ছিল?

বাথ বললে, “এমন বোকা তো আর কোথাও দেখিনি! আরে বাঘ ছিল খাঁচার ভিতরে, আর বামুন যাচ্ছিল-পথ দিয়ে

তখন শ্রিয়াল মীথা চুলকাতে-টুলকাতে বললে, “না! জত শক্ত কথা আমি বুঝতে পারব না!

ততক্ষণে বাঘ রেগে গিয়েছে।

সে শিয়ালকে এক ধমক দিয়ে বললে, “ও কথা তোকে বুঝতেই হবে! দেখ, আমি এই(খোঁচার ভিতরে ছিলুম_-দেখ্--এই এমনি করে-_” ০,

বলতে-বলতে বাঘ খাঁচার ভিতরে গিয়ে ঢুকল, আর শিয়ালও অমনি খাঁচা বন্ধ করে হুড়কো এঁটে দিল। তারপর শিয়াল ঠাকুরমশাইকে বলল, “ঠাকুর মি সব বুঝতে পেরেছি। আমার সাক্ষ্য যদি শুনতে চান, তবে তা হচ্ছে এই যে, উপকার করতে নেই। কাজেই বাঘ মামার জিৎ। এখন আপনি শিগগির যান, এখনে! ফর্জার ফুরোয়নি।” বলে শিয়াল বনে চরতে গেল, আর ঠাকুরমশাই ফলার খেতে গেলেন।

উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র 0) ৪৫

বাঘ-বর

এক গরীব ব্রাহ্মণ ছিলেন। তীর ঘরে ব্রাঙ্গণী ছিলেন, আর ছোট্ট একটি মেয়ে ছিল, কিন্তু তাঁদের খেতে দেবার জন্যে কিছু ছিল না। ব্রাহ্মণ অনেক কষ্টে, ভিক্ষে করে যা আনতেন, এক বেলায় ভালো৷ করে না খেতেই তা ফুরিয়ে যেত। সকল দিন আবার তাও মিলত না!

একদিন তাদের ছোট্ট মেয়েটি পাশের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল। গিয়ে দেখল, সে বাড়িতে পায়েস রানা হয়েছে, ছেলেরা পায়েস খাচ্ছে। দেখে সেই মেয়েটিরও বড্ড পায়েস খেতে ইচ্ছে হল। তাই সে বাড়ি এসে তার মাকে বললে, “মা, আমাকে পায়েস করে দাও না, আমি পায়েস খাব।”

যে চা 91/7২01৮

_ কাক পায়েস খেতে পেলে গা শুনে তো তার ম৷ কাদতে লাগলেন। ভাতই ভালো করে খেতে পান না, পায়েস আবার কি করে করবেন? এমন সময ব্রাহ্মণ ভিক্ষে নিয়ে ফিরে এসে বরাঙগাণী কাদছেন দেখে জিগগেস করলেন, 'কাদছ কেন ব্রাহ্গাণী, কি হয়েছে ব্রাহ্মণী বললেন, মেয়ে পায়েস খেতে চেয়েছে, পায়েস কোথেকে দেব, তাই কীদছি। নে ব্রাহ্মণ বললেন, 'আচ্ছা, আমি দেখছি এর একটা কিছু করতে পারি কি না, তুমি বঁ বলে তিনি তখুনি আবার বেরিয়ে গেলেন।

তিনি যেই শুনলেন, ব্রাহ্মণের মেয়ে পায়েস খেতে চেয়েছে, অমনি তাকে গোপালভোগ চাল, দু-সের দুধ, চিনি আর মসলা দিলেন।

পপ নাও, তোমার পায়েসের জোগাড় এনেছি। ২২১১

সেই ব্রাহ্মণী কি লক্ষ্মী মেয়েই ছিলেন! তিনি এমনি সুন্দর রী , তেমন রান্না কেউ কখনো খায়না তিনি যখন পায়েস রীধতে লাগলেন, তখন তার চমতফঁর গন্ধে আশেপাশে সকল লোক পাগল হয়ে উঠল!

একটা কাক সেই পায়েসের গন্ধ পেয়ে বললে, 'আহা ! এমন চমৎকার জিনিস একটু না খেয়ে

৪৬ উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র

দেখলে চলছে না।”

বলেই সে ব্রান্দমণের ঘরের চালে এসে বসল।

কাক অনেকক্ষণ ধরে ঘরের চালে চুপ করে বসে রইল। তারপর রান্নাঘরে একটু শব্দ হতেই সে বললে, “ই! এবারে রান্না হয়েছে।

খানিক বাদে আর একটু শব্দ হল, অম্মনি কাক বললে, "এ! এবারে বাড়ছে”

খানিক বাদে আর একটু শব্দ হল, অমনি কাক বললে, “এ! এবার খাচ্ছে”

সত্যি-সতিয ব্রাহ্মাণ আর তীর মেয়ে তখন খেতে বসেছিলেন। সে পায়েস এতই ভালো হয়েছিল যে তীরা দুজনেই তা প্রায় শেষ করে ফেললেন ব্রাঙ্মাণীর জন্যে খুব কম রইল। তারপর ব্রাহ্মণীর খাওয়া যখন শেব হল, তখন পাতে বা হাড়িতে পায়েসের একটু দাগ অবধি রইল না।

কাক এতক্ষণ বসে থেকেও যখন কিছু খেতে প্লে-না, তখন তার বড্ড রাগ হল। সে মনে- মনে বললে, 'আমাকে এমন করে ঠকালে! এর শোধ নিতেই হবে।”

ব্রাহ্মণের বাড়ির কাছে একটি প্রকাণ্ড বন ছিল, সৈই বনে মস্ত একটা বাঘ থাকত।

কাক দুষ্টু ফন্দি এ্টে সেই বাঘকে গিয়ে বললে, বারমশাই, আমাদের ব্রা্মাণঠাকুরের একটি সুন্দর মেয়ে আছে। আপনি এমন সুন্দর বর, আগনার-সঙ্গে মেয়েটির বিয়ে হলে বড় ভালো হয়।”

বাঘ বললে, 'বিয়ে ঠিক করে দেবে কে? আমি কথা কইতে গেলে তো তারা ছুটে পালাবে।”

বাথ বললে, বিয়ে ঠিক করে দেখে কে? 9:

কাক বললে, 'আপনার কিছু করতে হবে না, আমি সব করে দিচ্ছি। আগে আপনি কিছু খাবার পাঠিয়ে দিন।”

বাঘ বললে, “বেশ কথা! আমি গ্রামে গিয়ে কুত্তা মেরে বামুনের

কাক তা শুনে জিভ কেটে বললে, না-না! তারা কুত্তা খাবে না! গাছ আছে, সেই গাছের লেবু পাঠিয়ে দিন। আমি লেবু নিয়ে

বলে সে কয়েকটা লেবু নিয়ে ব্রাহ্মণের ঝাড়িতে দিয়ে এসে খেয়ে ভারি খুশি হয়েছে। এমনি করে দিন কতক লেবু দিলেই মেয়ে বিয়ে দেবে”

শুনে বাঘ আহাদে মাটিতে গড়াগড়ি দিতে লাগল।

উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র 0 ৪৭

এমনি করে কাক রোজ লেবু নিয়ে যায় আর বাথকে এসে বলে, 'তারা মেয়ে বিয়ে দেবে। আসলে সেটা মিথ্যে কথা, কিন্ত বাঘ মনে করে, ত্রান্গাণ বুঝি সত্যি-সত্যি মেয়ে দেবে বলেছে।

তারপর একদিন বাঘ বললে, “কই, লেবু তো ফুরিয়ে গেল, মেয়ে তো বিয়ে দিলে না!”

কাক বললে, 'দেবে বইকি! আপনি যখন চাইবেন, তক্ষুণি দেবে”

বাঘ বললে, 'তবে তাদের বল গিয়ে যে, যদি কাল রাত্রে মেয়ের বিয়ে না দেয়, তাহলে তাদের সবাইকে চিবিয়ে খাব।”

কাক তো তাই চায়। সে তক্ষুণি ব্রাহ্মণের বাড়ি গিয়ে বললে, "ওগো শুনছ। কাল রাত্রে বাঘ আসবে, তোমাদের মেয়ে বিয়ে করতে। যদি বিয়ে না দাও, সকলকে চিবিয়ে খাবে!

একথা শুনেই তো ব্রাঙ্মাণ আর ব্রাহ্মাণী বুক চাপড়ে টেচিয়ে কাদতে লাগলেন!

কানা শুনে গ্রামের লোক ছুটে এসে বললে, 'কি হয়েছে?”

ব্রাহ্মণ কীদতে-কীদতে বললেন, 'কাল বাঘ আসবে, আমাদের মেয়েকে বিয়ে করতে। বিয়ে না দিলে সকলকে চিবিয়ে খাবে।”

শুনে গ্রামের লোক বললে, 'এই কথা! আচ্ছা, দেখ। যাবে বেট! কেমন বিয়ে করে, আর না দিলে চিবিয়ে খায়! আপনার কোনো ভয় নেই, আমরা. সব ঠিক করে দিচ্ছি।" বলে তারা বাঘের কাছে খবর পাঠিয়ে দিলে, 'বাঘমশাই, আপনার অতন এমন ভালো ধর কি আর হবে! আপনি পোশাক পরে আসবেন, সভার মাঝে বসবেন, গান বাজনা শুনবেন, নিমন্ত্রণ খাবেন, তারপর বেশ ভালো মতো করে বিয়ে করে চলে যাবেন)”

রত ? "৬/%

1175 5

বাথ-বর চলেছে বিয়ে করতে 3৪১

পাপ লি পি পল চড়াল। কুয়োর উপর চমৎকার বিছানা করে রাখল। তারপর ঢাক ঢোল সোরগোল করতে লাগল। ব্৯

বাঘ সেই গোলমাল শুনে বললে, 'এ রে আমার বিয়ের ধুম তখন সে তাড়াতাড়ি জামা-জোড় পরে, পাগড়ি এঁটে, নাচতে-নাচতে এসে ব্রা্মাণের বাড়িউপস্থিত হল।

অমনি সকলে “আরে, বর এসেছে! বাজা, বাজা! বলে বাঘমশাইকে সেই কুয়োর উপরকার ি্যারিছি নর গত হাতি মুজ্তিরাতে বির “ঘেয়াও! করে বিছানাসুদ্ধ

৪৮ উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র

কুয়োয় পড়েছেন, আর তার সঙ্গে-সঙ্গে প্রামের সকলে মিলে সেই তিনশে| হাঁড়ির গরম তেল, আর তিনশো উনুনের আগুন কুয়োয় এনে ঢেলেছে।

তারপর দেখতে-দেখতে বোকা বাঘ পুড়ে ছাই হল, ব্রাহ্মাণেরও আপদ কেটে গেল।

কাক তামাশা দেখবার জন্যে ঘরের চালে বসে ছিল, পাড়ার ছেলেরা টিল ছুঁড়ে তার মাথা গুঁড়ো করে দিল।

বাঘের উপর টাগ

এক জোলা ছিল। তার একটি বড় আদুরে ছেলে-ছিল। সে যখন যা চাইত, সেটি না নিয়ে কিছুতেই ছাড়ত না।

একদিন এক বড়মানুষের ছেলে জোলার বাড়ির সামনে দিয়ে ঘোড়ায় চড়ে যাচ্ছিল। তাকে দেখে জোলার ছেলে তার ঝাগকে ডেকে বলনে/বষ্ি্সীর কেন ঘোড়া নেই? আমাকে ঘোড়া এনে দাও।

জোলা বললে, 'আমি গরীব মানুষ, ঘোড়া িংরুরে আনব? ঘোড়া কিনতে ঢের টাকা লাগে।

ছেলে বললে, 'তা হবে না। আমাকে ঘোড়া এনে দিতেই হবে।

বলে, সেই ছেলে আগে নেচে-নেচে কীদল, তারপর গড়াগড়ি দিয়ে কাদল, তারপর উঠে তার বাপের কো কলকে ভেঙে ফেলল। তাতেও থোড়া কিনে দিচ্ছে ন! দেখে, শেষে খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিল।

তখন জোলা তো ভারি মুশকিলে পড়ল। ছেলে কিছুতেই খাচ্ছে না দেখে সে ভাবল, 'এখন তো আর ঘোড়া কিনে না দিলেই হচ্ছে না। দেখি ঘরে কিছু টাক! আছে কি না।'

অনেক খুঁজে সে কয়েকটি টা বার ব্রল। তারপর সেই টাকা কাপড়ে বেঁধে সে ঘোড়া কিনতে হাটে চলল।

হাটে গলিয়ে জোলা ছাপে ছিগগেন করল, হী গা, তোমার ঘোড়ার দাম ক-টাকা £,

ঘোড়াওয়ালা বললে, “পঞ্চাশ টাকা"।

জোলা কাপড়ে রেঁধে মোটে পাঁচটি টাকা এনেছে, পঞ্চাশ টাকা সে কোথা থেকে দেবে? কাজেই সে ঘোড়া কিনতে নাঁপ্রেরে মনের দুঃখে বাড়ি ফিরে চলল।

এমন সময় হয়েছে কি__দুজন লোক সেইখানে দাঁড়িয়ে ঝগড়া করছে। তাদের একদ্ন বললে,

তা শুনে-আর্‌. একজন বললে, “ঘোড়ার ডিম হবে!” ঘোড়ার কিনা ডিম হয় না, তাই ঘোড়ার ডিম হবে” বললে বুঝতে হয় যে, 'কিচ্ছু হবে কিন্ত জোলা সে কথা জানত না। সে ঘোড়ার ডিমের নাম শুনেই ব্যস্ত হয়ে বললে, হা ডিম কোথায় পাওয়া যায় বলতে পার? সেখানে একটা ভারি দুষ্টু লোক ছিল। সে জোলাকে বললে, জা লে ডিম আছে।, সে দুষ্টু লোকটার ঘরে ছিল একটা ফুটি। সে জোলাকে তার তার হাতে দিয়ে বললে, "এই নাও ঘোড়ার ডিম। দেখ, কেমন বউ (থেকে ছানা বেরুবে। দেখো ছুটে পালায় না যেন! তখন জোলার আনন্দ দেখে কে! সে জিগগেস করলে, “এর দাম কত? দুষ্টু লোকটা! বললে, “পাঁচ টাকা। জোলা তখুনি সেই

উপেকিশোর সমগ্র উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র 0 ৪৯

পাঁচটা টাকা খুলে দিয়ে ফুটি নিয়ে ঘরে চলল। ফুটি ফেটে রয়েছে, তার ভিতরে লাল দেখা যাচ্ছে। জৌলা ভাবলে, “ই রে, ছানা যদি বেরিয়ে পালাতে চায়, তখুনি খপ করে ধরে ফেলব। তারপর গলায় চাদর বেঁধে তাকে বাড়ি নিয়ে যাব। যদি' লাফায়, তবু ছাড়ব না।

রা

ফুটিটাকে জোল। ভাবলে খোড়ার ডিম এমনি নানা কথা ভাবতে-ভাবতে জোলা একটা নদীর ধারে এসে উপস্থিত হল, আর ঠিক তখুনি তার ভয়ানক জল তেষ্টা পেল্‌। জোলা ডাঙার উপর ফুটিটা রেখে জল খেতে গিয়েছে, তার মধ্যে যে কোথা থেকে এক শিয়াল সেখানে এসেছে, তা সে দেখতে পায়নি। তার জল খাওয়া হতে- হতে, শিয়ালও ফুটি প্রায় শেষ করে-এনেছে। এমন সময় জোল! তাকে দেখতে পেয়ে, 'হায় সর্বনাশ! আমার ঘোড়ার ছানা-পালাল।*বলে তাড়া করলে!

যে, ঘোড়ার ছানা পালাচ্ছে

৫০ 0 উপেন্দ্রকিশোর সমপ্র

শয়াগকে ছুটে ধরা কি জোলার কাজ! শিয়াল তাকে মাঠের উপর দিয়ে, বনের ভিতর দিয়ে, (শাখায় নিয়ে গেল তার ঠিকানা নেই। শেষে জোলা আর চলতে পারে না। তখন ঘরে ফিরতে গিঞ শিখে, পথ হারিয়ে গেছে। পাত হয়েছে, কাজেই আর ঘরে ফিরবার জো ছিল না জোল৷ অনেক খুঁজে এক বুড়ির [গয়ে, একটু শোবার জায়গা চেয়ে নিলে। বুড়ির দুটি বই ঘর ছিল না। তার একটিতে না আর তার নাতনী থাকত। জার একটিতে জিনিসপত্র ছিল, সেইটিতে সে জোলাকে জায়গা টা

৭4101 বাঘ রোজ রাত্রে বুড়ির ঘরের পিছনে এসে বসে থাকত। বুড়ি তা টের পেয়ে, রাত্রে খখনে। ঘরের বাইরে আসত না, তার নাতনীকেও আসতে দিত না। কিন্তু নাতনীটি জোলার কাছে এনএ খোড়ার ডিমের কথা একটু শুনতে পেয়েছিল, তার কথা ভালো করে শুনবার জন্যে সে আবার ছে, যেতে চাইল। তখন বুড়ি তাকে বললে, 'না-নাযাস্‌ নে! বাঘে-টাগে ধরে নেবে!”

'মাথে-টাগে' এমনি করে লোকে বলে থাকে। টাগ্ন বলে কোনো জন্ত নেই। কিন্তু বাঘ তো আর £॥ খা জানে না, সে ঘরের পিছনে বসে টাগের কথা শুনে ভারি ভাবনায় পড়ে গেছে। সে ঠিক সুগা নিয়েছে যে, টাগ তার নিজের চেয়েও ঢের ভয়ীনক. একটা জানোয়ার বা! রাক্ষস বা ভূত হবে। আগ তখন থেকে তার বেজায় ভয় হয়েছে, আরে ভাবছে, টাগ ঘদি আসে, কোনখান দিয়ে সে সগ|ণে।

এমন সময় সেই জোলা ভোর হয়েছেকিনা দেখবার জন্যে বাইরে এসেছে। এসেই সে বাঘকে (৭ পেয়ে মনে করলে “এ রে! আমার ঘোড়ার ছানা বসে আছে!

এমনি সে ছুটে গিয়ে, মিরার রাহাত গতির না হ্টিহিত তর শঠগ।

মারি 0. 1% চও

টি রন 7

ঝা যে তখন কি ভয়ানক চমকে গেল কি বলব! সে ভাবল, 'হায়-হীয়! সর্বনাশ হয়েছে! নিশ্চয় "আমাকে টাগে ধরেছে! এই মনে করে বাঘ প্রাণের ভয়ে ছুটতে লাগল। কিন্তু চোখে কাপড় বাঁধা

17 ঝলে ভালো করে ছুটতে পারল ন। উপেনম্্রকিশোর সসপ্র 3৫১

জোলা তো গোড়া থেকেই তার পিঠে চড়ে বসে আছে, আর ভাবছে এটা তার ঘোড়ার ছানা! সে ঠিক করে রেখেছে যে একটু ফরসা হলেই পথ চিনতে পারবে, ঘোড়ার ছানাটিকে নিয়ে বাড়ি যাবে। ফরসা যখন হল তখন জোল। দেখলে যে, কাজ তো হয়েছে! সে ঘোড়া মনে করে বাঘের উপর চড়ে বসেছে! তখন ভার সে কি করে? সে ভাবলে যে এবারে আর রক্ষা নেই!

বাঘ ছুটছে আর বলছে, 'দোহাই টাগদাদ1! আমার ঘাড় থেকে নামো, আমি তোমায় পুজো করব।' জোল৷ জানে না যে বাঘ তাকেই টাগ বলছে! জোলা৷ খালি ভাবছে, সে কি করে পালাবে।

এমন সময় বাঘ একট! বটগাছের তলা দিয়ে যাচ্ছিল। সেই গাছের ডালগুলি খুব নিচু, হাত বাড়ালেই ধরা যায়! জোলা খপ করে তার একটা ডাল ধরে ঝুলে গাছে উঠে পড়ল।

তখন জোলাও বললে, “বড্ড বেঁচে গিয়েছি!”

বাঘও বললে, "বড্ড বেঁচে গিয়েছি!

টি ভাই, গাছের উপর ওটা কি?

কিন্তু খালি গাছে উঠলে কি হবে? তা থেকে নামতে পারলে তো হয়। সে হতভাগা বাঘটা সেখান থেকে ছুটে না পালিয়ে গাছতলায় বসে হাপাতে লাগল, আর চেঁচিয়ে অন্য বাঘদের ডাকতে লাগল। ভাক গুনে চার-পাঁচটা বাঘ সেখানে এসে বললে, “কি হয়েছে তোমারঃ তোমার চো বাধলে কে?

বাঘ হাপাতে-হাপাতে বললে, “আরে ভাই, আজ আর একটু উস আমাকে টাগে ধরে ছিল। অনেক হাত জোড় করে পুজো দেব বলতে তবে মরছে! সেই বেটা আমার চোখ বেঁধে রেখেছে, পুজো না দিলে আবার এসে ধরবে:

এই কথা শুনে সব বাঘ মিলে, সেই গাছতলায় টাগের পুজো রল। বড়-বড় মোষ আর হরিণ নিয়ে দলে-দলে বাঘ আসতে লাগল। জোলা আর অত ঝু্থ কখনো দেখেনি। সে তো গাছে বসে কেঁপেই অস্থির!

জোলা কীপছে ভার গাছের পাতা নড়ছে। বাঘের! তাতে ব্যস্ত হয়ে চেয়ে দেখল, পাঁতার আড়ালে ছিল বলে জোলাকে চিনতে পারল না।

৫২ 9 উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র

খর্শগান বললে, 'ভাই, গাছের উপর ওটা কি?”

1 একজন বললে, “দেখ ভাই, ওটার কি মস্ত লেজ!”

গিঞ্র তো নয়, জোলার কাপড় ঝুলছিল। পাতার জন্যে ভালো করে দেখতে না পেয়ে বাঘেরা গত লেজ মনে করেছে। সেই লেজ দেখে একটা বুড়ো বাঘ বললে, “ওটা একটা খুব ভয়ানক ক্া/আায়ার হবে, হয়তো বা টাগই হবে!” এই কথা শুনেই তো সব বাঘ মিলে 'ধরলে, ধরলে! পালা, আল।।' বলে সেখান থেকে ছুটে পালাল। তখন জোলাও গাছ থেকে নেমে বাড়ি গেল। ালাকে দেখে তার ছেলে বললে, 'কই বাবা, ঘোড়া কই?" থিগগ| তার গালে ঠাস করে এক চড় মেরে বললে, 'এই নে তোর ঘোড়া!” ছরগর থেকে সে-ছেলে আর ঘোড়ার কথা বলত না।

বাঘের পালকি চড়া শাথ কিনা মামা আর শিয়াল কিনা ভাগে, তাই,দুজনের মধ্যে বজ্ড ভাব। 1শয়াল একদিন বাঘকে নিমন্ত্রণ করল, কিন্তু তার জন্যে খাবার কিছু তয়ের করল না! বাঘ যখন £/৩ এল, তখন তাকে বললে, “মামা, একটু বস। আর দু-চারজনকে নিমন্ত্রণ করেছি, তাদের ডেকে নায় আসি) '1ই বলে শিয়াল চলে গেল, আর সে. রাত্রে ফিরল না। বাঘ সারারাত ধসে থেকে, সকালবেলা 1গয/খকে বকতে-বকতে বাড়ি চলে গেল। :

কি ভাগ্গে পেট ভরল তো? তারপর একদিন বাঘ শিয়ালকে নিমন্ত্রণ করল। শিয়াল এলে তা! তি দিল মস্ত-মন্ত মোটা-

(মাটা হাড়। তার এক-একটা লোহার মতো শক্ত। শিয়াল বেচারার রটে দাত ভেঙে গেল, তবু (2 হাড়ের একটুও সে চিবিয়ে ভাঙতে পীরল না। বাঘ. এরকম হাড় খেতেই খুব ভালোবাসে। ( মনের সুখে পেট ভরে হাড় চিবিয়ে খেলে, আর বললে, “কি ভাগ্নে, পেট ভরল তো?

উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র ৫৩

শিয়াল হাসতে হাসতে বললে, 'হ্যা মামা, আমার বাড়িতে তোমার থেমন পেট ভরেছিল, তোমার বাড়িতেও আমার তেমনি পেট ভরেছে।” মনে-মনে কিন্তু তার ভয়ানক রাগ হল, আর সে বললে, “যদি বাধমামাকে জব্দ করতে পারি, তবে দেশে ফিরব, নইলে আর দেশে ফিরব না।

এই মনে করে শিয়াল সে-দেশ ছেড়ে আর এক দেশে চলে গেল। সে নতুন দেশে অনেক আখের ক্ষেত ছিল। শিয়াল সেই আখের ক্ষেতে থাকত আর খুব করে আখ খেত। যা খেতে পারত না, ভেঙে রেখে দিত।

চাবীরা বললে, “ভালো রে ভালো, এমন করে আমাদের আখ কোন দুষ্টু শিয়াল ভেঙে রেখে দেয়? বেটাকে এর সাজা দিতে হবে।”

বলে তারা৷ ক্ষেতের পাশে এক খোঁয়াড় তয়ের করল।

কাঠ দিয়ে ছোট্ট ঘরের মতন করে খোয়াড় তয়ের করতে হয়। তার ভিতরে কোনো জন্ত ঢুকলে তার দরজা ভাপনি বন্ধ হয়ে যায়। তাতেই সেই জস্ত খোঁয়াড়ের ভিতর আটকা পড়ে।

চাষীরা যখন খোঁয়াড় তয়ের করছে, শিয়াল তখন হাসছে আর বলছে “আমার জন্যে, না মামার জন্যেঃ এমন সুন্দর ঘরে মাম! থাকলেই ভালো হয়।ঃ.....

তার পরদিনই সে বাঘকে গিয়ে বললে, "মামা, একটি বড় নিমন্ত্রণ তো এসেছে। রাজার ছেলের বিয়ে, সেখানে আমি গান গাইব, আর তুমি বাজাবে। আর খাব যা, তার তে| কথাই নেই! তারা পালকি পাঠিয়েছে, যাবে মামা?

রী

এবারের নিগন্তরণটা আমিই খাইগে (৪১ বাঘ বললে, 'তা আর যাব না! এমন নিমন্ত্রটা কি ছাড়তে আছে৷ আবার তালি পাঠিয়েছে!

শিয়াল বললে, “সে কি যে-সে পালকি? এমন পালকিতে আর উনি মামা।” এমনি

কথাবার্তা বলে দুজনে সেই আখের ক্ষেতের ধারে এল, যেখানে খ্বীয়ীড় রয়েছে। খোঁয়াড়

দেখে বাঘ বললে, “খালি পালকি পাঠিয়েছে, বেয়ারা পাঠায়নি থে? শিয়াল বললে, “আমরা উঠে বসলেই বেয়ারা আসবে এখন” বাঘ বললে, “পালকির যে ভাণ্ডা নেই, বেয়ারারা কি করে বইবে£,

৫৪ উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র

শয়াল বললে, 'ডাণ্ডা তারা সঙ্গে আনবে।'

এগথা শুনে বাঘ যেই খোঁয়াড়ের ভিতর ঢুকেছে, অমনি ধড়াস করে তার দরজা বন্ধ হয়ে [1 তখন শিয়াল বললে, “মামা. দরজাটা বন্ধ করে দিলে, আমি ঢুকব কি করে?

শাণ বললে, “তোমার ঢুকে ক'জ নেই এবারের নিমন্ত্রণটা আমিই খাইগে।?

|গয়াল বললে, 'বেশ কথা মামা! খুব ভালো করে পেট ভরে নিমন্ত্রণ খেও। কম খেও না যেন!

'2 বলে শিয়াল হাসতে-হাসতে তার দেশে চলে গেল।

ফারপর চাষীরা এসে দেখল যে বাঘমশাই খোয়াড়ের ভিতর বসে আছেন। তখন তার! কি খাশ খে হল, কি বলব!

ওরা সকলকে ডেকে বললে, 'আন খন্তা, আন বল্লম, আন যে যা পারিস! খোঁয়াড়ে বাঘ পঞেছছ। আয় তোরা কে কোথায় আছিস।”

অমনি সকলে ছুটে এসে বাঘকে মেরে শেষ করল।

বুদ্ধুর বাপ

এক যে ছিল বুড়ো চাষী, তার নাম ছিল বুদ্ধুর বাগ।

খুদ্ধুর বাপের ক্ষেতে ধান পেকেছে, জার ছ্বলে-দলে বাবুই এসে সেই ধান খেয়ে ফেলছে। বুদ্ধুর 14 ঠকঠকি বানিয়ে তাই দিয়ে বাবুই তীড়াতে যায়। কিন্ত ঠকঠকির শব্দ শুনেও বাবুই পালায় || ৬খন সে রেগেমেগে বললে, “বেটার! ! এবার যদি ধরতে পারি, তাহলে ইড়ি-মিডি-কিড়ি-বাধন (পাখয়ে দেব!, ইং

ইড়ি-মিডি-কিডি-বাঁধন বলে কোনো-একটা জিনিস নেই ।বুদ্ধুর বাপ আর কোনো ভয়ানক গাল খুজে না পেয়ে কথা বলে। রোজই বাবুই ভাসে, রোজই বৃদ্ধুর বাপ তাদের তাড়াতে না পেরে

উপেন্দ্রকিশোর সমপ্র ৫৫

বলে, 'ইডি-মিডি-কিডি-বীধন দেখিয়ে দেব!

এর মধ্যে একদিন হয়েছে কি-_একটা মস্ত বাঘ রাত্রে এসে বুদ্ধুর বাপের ক্ষেতের ভিতর ঘুমিয়ে ছিল, ঘুমের ভিতর কখন সকাল হয়ে গেছে, আর সে বাঘ সেখান থেকে যেতে পারেনি।

সেদিনও বুদ্ধুর বাপ বাবুই তাড়াতে এসে, ঠকঠকি নাড়ছে আর বলছে, “বেটারা, যদি ধরতে পারি তবে ইড়ি-মিডি-কিড়ি-বীধন দেখিয়ে দেব!”

ইড়ি-মিডি-কিড়ি-বাঁধন শুনেই তো বাঘের বেজায় ভাবনা হয়েছে। সে ভাবলে, “তাই তো! এটা আবার কি নতুন রকমের জিনিস হল? এমন বাঁধনের কথা তো কখনো গুনিনি! যতই ভাবছে, ততই তার মনে হচ্ছে যে, এটা না দেখলেই নয়। তাই সে আস্তে-আন্তে ধানের ক্ষেতের ভিতর থেকে বেরিয়ে এসে, বুদ্ধুর বাপকে ডেকে বললে, 'ভাই, একটা কথা আছে।”

বাথ দেখে বুদ্ধুর বাপ যে কি ভয় পেল, ত৷ কি বলব! কিন্তু সে ভারি বুদ্ধিমান লোক ছিল। সে তথুনি সামলে গেল, বাঘ কিছু টের পেল ন|। বুদ্ধুর বাপ-বাঘকে বললে, 'কি কথা ভাই?

বাঘ বললে, “ই যে তুমি কি বলছ, “কিড়ি-মিডি-বাঁধন-না কি! সেইটে আমাকে একটিবার দেখাতে হচ্ছে।?

বুদ্ধুর বাপ বললে, 'সে তো৷ ভাই অমনি দেখানো যায় না! তাতে ঢের জিনিসপত্র লাগে।'

বাঘ বললে; 'আমি সব জিনিস এনে দিচ্ছি।আমাকে সেটা না দেখালে হবে না।

11//

৬? 2 ৫008 ডি

খইসুদ্ধ থলেগুলি এনে বুদ্ধুর বাপকে দিল বুদ্ধুর বাপ বললে, (আচ্ছা, তুমি আগে জিনিস আনো, তারপর আমি দেখাব।” বাঘ বল্‌্লে১কি জিনিস চাই?” বুদ্ধুর রাগ বললে, “একটা খুব বড় জার মজবুত থলে চাই, এক গাছি খুব মোটা আর দড়ি চাই, আর একটা মস্ত মুণ্ডর চাই!” বাঘ বললে, “শুধু এই চাই? এসব আনতে আর কতক্ষণ

বাদেই সেই পথ দিয়ে তিনজন খইওয়ালা স্বাচ্ছে। খইওয়ালাদের থলেগুলি আর তার এক-একটা ভারি মজবুত থাকে। বউ বাঘ ঝোপের ভিতর বসে আছে, আর খইওয়ালারা একটু তার সামনে এসেছে,

অমনি সে 'হালুম” বলে লাফিয়ে এসে রাস্তার মাঝখানে দাঁড়াল। খইওয্বীলারা তে! খই-টই ফেলে, চেচিয়ে কোথায় পালাবে তার ঠিক নেই। তখন বাঘ তাদের খইসুদ্ধ থলেগুলি এনে বুদ্ধুর বপকে দিল। তারপর সে গেল দড়ি আনতে।

৫৬ উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র

দড়ির জন্যে তার আর বেশি দূর যেতে হল ন1। মাঠে.ঢের গরু খোঁটায় বাঁধা ছিল, বাঘ তাদের শগছে যেতেই তারা দড়ি ছিড়ে পালাল। সেই সব দড়ি এনে সে বুদ্ধুর বাঁপকে দিল। তারপর সে গেল মুণ্ডর আনতে।

পালোয়ানের। তাদের আড্ডায় মুণ্ডর ভীজছে, এমন সময় বাঘ গিয়ে সেখানে উপস্থিত হল। তাতেই তো 'বাপ রে, মা রে! বলে তার! ছুট দিল। তখন বাঘ তাদের বড় মুণগ্ডরটা মুখে করে ধানে বুদ্ধুর বাপকে বললে, “তোমার জিনিস তো এনেছি, এখন সেটাকে দেখাও ।”

বুদ্ধুর বাপ বললে, “আচ্ছা, তবে তুমি একটিবার এই থলের ভিতরে এস দেখি।'

বলতেই তে বাঘমশাই গিয়ে সেই থলির ভিতরে ঢুকেছেন। তখন বুদ্ধুর বাপ তাড়াতাড়ি থলের মুখ বন্ধ করে, তাকে আচ্ছা করে দড়ি দিয়ে জড়াল। একটু নড়বার জো অবধি রাখল না।

তারপর দু-হাতে সেই মুণ্ডর তুলে ধাই করে সেই থলের উপর যেই এক ঘ৷ লাগিয়েছে, অমনি ঝাঘ ভারি আশ্চর্য হয়ে বললে, «ও কি করছ?

বুদ্ধুর বাপ বললে, “কেন? ইড়ি-মিডি-কিড়ি-বীধন দেখাচ্ছি তোমার ভয় হয়েছে নাকি?'

ভয় হয়েছে বললে তো বড় লজ্জার কথা হয়, তাই.বরাথ বললে, 'না।

তখন বুদ্ধুর বাপ সেই মুণ্ডর দিয়ে ধাই ধাইকরে:থলের উপর মারতে লাগল। ট্যাচালে পাছে সিন্দে হয়, তাই মার খেয়েও বাঘ অনেকক্ষণ টুপ-কুরে ছিল। কিন্তু চুপ করে আর কতক্ষণ থাকবে! দশ-বারো ঘা খেয়েই সে 'ঘেঁয়াও ঘেঁয়াও করে ভয়ানক ট্যাচাতে লাগল। খানিক বাদে আর ট্যাচাতে না পেরে, গোঙাতে আরম্ত করল। বুদ্ধুর বাপ তবুও ছাড়ছে না, ধাই-ধাই করে সে খালি মারছেই। শেষে আর বাঘের সাড়া শূব্দ-নেই দেখে সে ভাবলে, মরে গেছে। তখন থলে খুলে, বাঘটাকে ক্ষেতের ধারে ফেলে রেখে বুদ্ধুর বাপ ঘরে এসে বসে রইল।

বাঘ কিন্তু মরেনি। চার-পাঁচ ঘণ্টা মরার মতো পড়ে থেকে, তারপর সে উঠে বসেছে। তখনো তার গায় বড্ড বেদনা, আর জ্বর খুব। কিন্তু.রাগের চোটে সেসবে সে মন দিল না। সে খালি চোখ ১০ আনু সির বাপ। পাজি, হতভাগা, লক্ষ্মীছাড়া! দাড়া, তোকে দেখাচ্ছি

সেই কথা শুনেই তো জরে বাপের মুখ শুকিয়ে গেল। সে তখুনি ঘরে দোর দিয়ে কো এঁটে বসে রইল। তিনদিন আর-ঘর থেকে বেরুল না।

মুণডর দিয়ে খালি মারছেই

উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র 0 ৫৭

বাঘ সেই তিনদিন বুদ্ধুর বাপের ঘরের চারধারে ঘুরে বেড়াল, আর তাকে গালি দিল। তারপর করেছে কি-_দরজার কাছে এসে খুব ভালোমানুষের মতন করে বলছে, “আমাকে একটু আগুন দেবে দাদা? তামাক খাব!»

বুদ্ধুর বাপ দেখলে, কথাগুলি মানুষের মতো, কিন্তু গলার আওয়াজটা বাঘের মতে] তখন সে ভাবলে, আগুন দেবার আগে একবার ভালো করে দেখে নিতে হবে। এই ভেবে সে যেই দরজার ফীক দিয়ে উঁকি মেরেছে, অমনি দেখে, সর্বনাশ- বাঘ! তখন আর কি সে দরজা খোলে! সে কৌকাতে-কৌকাতে বললে, 'ভাই, বড্ড জ্বর হয়েছে, দোর খুলতে পারবো ন1। তুমি দরজার নীচ দিয়ে তোমার লাঠিগাছটা ঢুকিয়ে দাও, আমি তাতে আগুন বেঁধে দিচ্ছি।

আ্ . ষ্টাচ করে লেজ কেটে ফেলল বাঘ লাঠি কোথায় পাবেও.সে তার লেজটা! দরজীর নীচ দিয়ে ঢুকিয়ে দিল। ভমনি বুদ্ধুর বাপ বটি দিয়ে খ্যাচ করে সেই লেজ কেটে ফেললে। বাঘ তখন 'ঘেঁয়াও' বলে বুদ্ধুর বাপের চালের সমান উচু লাফ দিল। তারপর একটুখানি লেজ

যা ছিল, তাই গুটিয়ে ঠ্যাচাতে-্যাগাতে ছুটে পালাল। তাতে কিন্তু বুদ্ধুর বাপের ভয় গেল না। সে বেশ বুঝাতে পারল যে, এর পর সব বাঘ মিলে তাকে মারতে আসবে। সত্যি-সত্যি সে তার পরদিন দেখলে, কুড়ি-পঁচিশটা বাঘ তার ঘরের দিকে তখন সে আর কি করবে! ঘরের গিছনে খুব উঁচু একটা তেঁতুল গাছ ছিল, তার আগায় গিয়ে বসের সেইখানে একটা হাঁড়ি বীধা ছিল। বুদ্ধুর বাপ তার পিছনে লুকিয়ে দেখতে লাগল, করে। বাঘেরা এসেই সেই হাঁড়ির আড়ালে বুদ্ধুর বাগকে দেখতে পেয়েছে। দেয়, ভেঙচায় আর কত রকম ভয় দেখায়! বুদ্ধুর বাপ চুপটি করে বলে না। তারপর বাঘের মিলে বুদ্ধুর বাপকে ধরবার এক ফন্দি ঠিক করলৈ। তাদের মধ্যে যার খুব বুদ্ধি ছিল, সে বললে, 'আমাদের মধ্যে যে সকলের বড়, সে মাটিতে গুঁড়ি মেরে বসবে। তার চেয়ে যে ছোট, সে তার ঘাড়ে উঠবে। তার চেয়ে থে ছোট, সে আবার তার ঘাড়ে উঠবে। এমনি করে

৫৮ উপেন্দ্রকিশোর সম্গ্র

উচু হয়ে, আমরা হতভাগাকে ধরে খাব।,

তাদের মধ্যে সকলের বড় ছিল সেই ঠোখেকৌ লেডকাটা বাঘটা। তার লেজের ঘা তখনো শুকোয়নি বলে সে বসতে পারত না, বসতে গেলেই তার বড্ড লাগত। কিন্তু না বলেও তো চলবে না, যেমন করেই হোক বসতে হবে। এখন সময় একটি গর্ত দেখতে পেয়ে, সে সেই গর্তের ভিতরে লেজটুকু ঢুকিয়ে, কোনো মতে বসল। তারপর জন্য বাঘেরা এক-একজন করে তার পিঠে উঠতে ল৷গল।

বাঘের উপরে ঝাঘ

এমনি করে, বাঘের:প্রিঠে বাঘ উঠে দেখতে-দেখতে তারা৷ প্রায় বুদ্ধুর ধাপের সমান উঁচু হয়ে গেল। আর একটু-উঁচু হলেই তাকে ধরে ফেলবে!

বুদ্ধুর বাপ বলছে, "হয় হবে, একবার শেষ এক ঘা মেরেই নি" এই বলে সে হাড়িটি খুলে হাতে নিয়ে বসেছে২সেই হাঁড়ি সকলের উপরকার বাঘটার মাথায় ভাঙবে।

এমন সময় ভারি.একটা মজা হয়েছে। যে গর্তে সেই লেজকাট! বাধ তার লেজ 0ব্িরেছিল, সেই গর্তটা ছিল ফাঁকড়ার। কাকড়া কাটা লেজের গন্ধ পেয়ে, আন্ডে-আক্তে এসে তার দুহ দাঁড়া দিয়ে তাতে চিমটি লাগিয়েছে। চিমটি খেয়ে বেঁড়ে বাঘ বললে, 'উঃ ছঃ! ঘেঁয়াও! হাল্লুম! আনে উপরেও বুদ্ধুর বাপ; নীচেও বুদ্ধুর বাপ।' বলতে বলতেই তো সে লাফিয়ে উঠল আর তার বাঘগুলি জড়াজড়ি করে ধুপধাপ শব্দে মাটিতে পড়ে গেল। ঠিক সেই সময়ে বুদ্ধ লেজকাটা বাঘের পিঠে হাড়ি আছড়ে ফেলে বললে, 'ধর্‌। ধর্‌ বেঁড়ে বেটার সঁধর্!

এর পর কি আর বাঘের দল সেখানে দীড়ায়? তার৷ লেজ গুটিয়ে, ব্খ্ড র, যে যেখান দিয়ে পারল ছুটে পালাল। আর কোনদিন তারা বুদ্ধুর বাপের বাড়ির এল না।

উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র ৫৯

বোকা বাথ

এক রাজার বাড়ির কাছে এক শিয়াল থাকত। রাজার ছাগলের ঘরের পিছনে তার গর্ত ছিল। রাজার ছাগলগুলি খুব সুন্দর আর মোটা-সোটা ছিল।

তাদের দেখলেই শিয়ালের ভারি খেতে ইচ্ছে হত। কিন্ত রাজার রাখালগুলির ভয়ে তাদের কাছে আসতে পারত না।

তখন শিয়াল তার গর্তের ভিতর থেকে খুঁড়তে আরম্ত করল। খুঁড়ে-খুঁড়ে তো সে ছাগলের ঘরে এসে উপস্থিত হল, কিন্তু তবুও ছাগল খেতে পেল ন|।

রাখালের দল তখন সেখানে বসেছিল। তারা শিয়ালকে দেখতে পেয়েই ধরে বেঁধে ফেলল। তারপর তাকে খোঁটায় বেঁধে রেখে তারা চলে গেল। যাবার সময় বলে গেল, “কাল এটাকে নিয়ে সকলকে তামাশা দেখাব, তারপর মারব। আজ রাত হয়ে গ্রেছে।

রাখালেরা চলে গ্রেছে, শিয়াল মাথা হেট করে বসে আাছে,এমন সময় এক বাঘ সেইখান দিয়ে যাচ্ছে। শিয়ালকে দেখে বাঘ ভারি আ্চর্য হয়ে বল "রি ভাগ্লে, এখানে বসে কি করছ?” শিয়াল বললে, “বিয়ে করছি।”

বাঘ বললে, 'তবে কনে কোথায়? লোকজন কৌথায়?”

শিয়াল বললে, 'কনে তো রাজার মেয়েঃ লোকজন তাকে আনতে গেছে।

বাঘ বললে, 'তুমি বাঁধা কেন? রি, 'আমি কিনা বিয়ে করতে চাইনি, তাই আমাকে বেঁধে রেখে গেছে, পাছে আমি

1

বাঘ বললে, সত্যি নাকি। তুমিঃবিয়ে করতে চাচ্ছ না?"

শিয়াল বললে, “সত্যি মামা। আমার বিয়ে করতে একটুও ইচ্ছে হচ্ছে না।"

তাশুনে বাধ ভারি বা হুর বে তোমার জায়গায় আমাকে বেঁধে রেখে তুমি চলে যাও না।?

শিিতিতি কি! ভুমি আমার বাধন ঝুলে দাও, তারপর আমি তোমাকে বেঁধে রেখে যাচ্ছি।

তখন বাঘের আনন্দ দেখে কে। সে অমনি এসে শিয়ালের বাঁধন খুলে দ্িল। শিয়ালও আর দেরি না করে, তাকে ভালো মতো খোঁটায় বেঁধে বললে, “এক কথা, মাম|। তোমার শালারা এসে তোমার সঙ্গে হাফিন্তামাশা করবে। তাতে তুমি চটো না যেন?

বাঘ বললে, 'আরে নীঁ। আমি তাতে চটি? আমি বুঝি এতই বোকা” কথায় শিয়াল হাসতে- হাসতে চলে গেল। বাঘ ভাবতে লাগল, কখন কনে নিয়ে আসবে।

সকালবেলায় রাখালের দল এসে উপস্থিত হল। বাঘ তাদের দেখে ভাবল, 'এই আমার এসেছে। এক্ষুণি হয়তো ঠাট্টা করবে। আর তাহলে আমাকেও খুব হাসতে হবে।'

রাখালেরা এসেছিল শিয়াল মারতে। এসে দেখলে, বাঘ বসে আছে। অমনি তো হৈ-চৈ পড়ে গেল। কেউ-কেউ পালাতে চায়, কেউ-কেউ তাদের থামিয়ে বললে, রয়েছে দেখছিস না? ভয় কি? কুডুল, খস্তা, বল্লম নিয়ে আয়। 2

তখন একজন একটা মস্ত ইট এনে বাঘের গায়ে ছুঁড়ে মারল। ২৯

তাতে বাঘ বললে, "হী হীঃ, হিহি, হিহি।'

আর একজন একটা বাঁশ দিয়ে ওঁতো মারলে।

তাতে বাঘ বললে, “হীঃ, হীঃ, হিহি, হিহি।”

আর একজন একটা বল্পম দিয়ে খোঁচা মারলে।

৬০ উপেন্দ্রকিশে।র সমগ্র

তাতে বাঘ বললে, “উঃ হু, হুঃ। হোহো৷ হোহো হোহো।__বুঝেছি তোমরা আমার শাল!”

রিনি

সী হি হীঃ, হীঃ হিহি, হিহি? আবার তারা বল্লমের খোঁচা মারলে।

তাতে বাঘ বেজায় রেগে বললে, “দুত্তোর! এমন ছাই বিয়ে আমি করব না। বলে সে দড়ি ছিড়ে বনে চলে গেল। হু উজ

বনের ভিতরে এক জায়গায়. করাতীরা করাত দিয়ে কাঠ চিরত। একটা মস্ত কাঠ আধখান৷ চিরে রেখে, সেইখানে গৌঁজ মেরে করাতীরা চলে গিয়েছে। এই সময় বাঘ বনের ভিতর এসে দেখে, শিয়াল সেই আধচেরা কাঠখানার উপরে বসে বিশ্রাম করছে।

বাঘ বললে, 'না ভাগ্নে১ওরা বড্ড বেশি ঠা্টী করে। তাই আমি চলে এসেছি।"

শিয়াল বললে, “তা.বেশ করেছ। এখন এস, দুজনে বসে গল্প-সঙ্প করি।'

বলতেই বাঘ লাফিয়ে কাঠের উপর উঠেছে, আর বসেছে ঠিক যেখানটায় কাঠটা খুব হা করে আছে, সেইখানে তার লেজটা সেই ফাকের ভিতরে ঢুকে ঝুলে রয়েছে।

শিয়াল দেখলে যে, এবারে কাঠ থেকে গৌজটি খুলে নিলেই বেশ তামাশা হবে। সে বাঘকে নানান কথায়, ভোলাচ্ছে, আর একটু-একটু করে গৌঁজটিকে নাড়ছে। নাড়তে-নাড়তে এমন কর যে, এখন টানলিইংসেটা খুলে যাবে, আর কাঠ বাধের লেজ কামড়ে ধরবে তখন সে

গেলুম!' বলে সেই গোৌঁজসুদ্ধ মাটিতে পড়ে গড়াগড়ি দিতে লাগল। চি আর বাঘের যে কি হল, সে আর বলে কি হবে? কাঠ লেজ কামড়ে ধরতে বেজায় চেঁচিয়ে এক লাফ দিল। সেই লাফে ফটাং করে লেজ ছিড়ে তখন বাঘও শিয়ালের সঙ্গে মাটিতে গড়াগড়ি দিতে লাগল। বাঘ বললে, 'ভাগ্লে, গেলুম! আমার লেজ ছিড়ে গিয়েছে।

শিয়াল বললে, "মামা, গেলুম! আমার কোমর ভেঙে গিয়েছে এমনি করে দুজনে গড়াগড়ি দিয়ে এক কচুবনে ঢুকে শুয়ে রইল। বাঘ আর নড়তে-চড়তে পারে না। কিন্তু শেয়াল বেটার কিচ্ছু হয়নি, সে আগাগোড়াই বাঘকে ফীকি দিচ্ছে।

উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র 0 ৬১

সেই কচুবনের ভিতরে ঢের ব্যাঙ ছিল, শিয়াল শুয়ে-শুয়ে তাই ধরে পেট ভরে খেল। বাঘ বেদনায় আস্থির, সে ব্যাউ দেখতেই পেল না- খাবে কি! কিন্ত তার এমনি খিদে পেয়েছে যে, কিছু না খেলে সে মূরেই যাবে! তখন সে শিয়ালকে জিগগেস্‌ করলে, 'ভাগ্নে, তুমি কিছু খেয়েছ নাকি ??

শিয়াল বললে, রহ? 2 জাননা

বাঘ আর কি করে। সে কচুই চিবিয়ে খেতে লাগল। তারপর গলা ফুলে, ষুখ ফুলে, সে যায় আর কি!

তা দেখে শিয়াল বললে, ধকিমীয়ী কিছু খেলে?

বাঘ বললে, “খেয়েছি তো ভাগে, কিন্তু ব্ড গলপ। ফুলেছে। তোমার তো পেট ফেঁপেছে, আমার কেন গল! ফুলল?,

ঝঘ নিজের হাত-গ| চিবিয়ে খেল

৬২ উপেন্দ্রকিশে!র সমগ্র

শিয়াল বললে, 'আমি কিনা শিয়াল, আর তুমি কিনা বাঘ, তাই।

লেজের ব্যথায় আর গলার ব্যথায় বাঘ ষোলো! দিন উঠতে পারলে না। এই যোলো৷ দিন কিছু না খেয়ে সে আধমরা হয়ে গিয়েছে।

এমন সময় সে দেখলে যে, শিয়াল গা ঝাড়া দিয়ে উঠে দিব্যি চলে যাচ্ছে। তাতে সে আশ্চর্য হয়ে জিগগেস করলে, “কি ভাগ্নে, তোমার অসুখ কি করে সারল?”

শিয়াল বললে, “মামা, একটি ভারি চমণ্কার ওষুধ পেয়েছি। আমি আমার হাত-পা চিবিয়ে খেলুম আর তক্ষুণি আমার অসুখ সেরে গেল। তারপর দেখতে-দেখতে নতুন হাত-পা হল।”

বাঘ বললে, “তাই নাকি? তবে আমাকে বলনি কেন?”

শিয়াল বললে, “তুমি কি আর তোষার হাত-পা চিবিয়ে খেতে পারবে? তাই ধলিনি।”

কথায় বাঘ ভীযণ রেগে বললে, “তুই শিয়াল হয়ে পারলি, আর আমি বাথ হয়ে পারব না?

শিয়াল বললে, 'তুমি দুটো ঠা্টার ভয়ে অন বিয়েটা ছেড়ে এলে! এখন যে হাত-পা চিবিয়ে খেতে পারবে, তা আমি কি করে জানব? তখন ঝর বললে, “পারি কি না, এই দেখ!” বলে সে নিজের হাত-পা চিবিয়ে খেল। তারপর তিন-চার দিনের. মধ্যেই ভয়ানক ঘ! হয়ে সে মার! গেল।

বাঘের রীধুনি

এক বাঘের বাধিনী মরে গিয়েছিল: মর্বার সময় বাখিনী বলে গিয়েছিল, 'আমার দুটো ছানা রইল, তাদের তুমি দেখো।”

বাঘিনী মরে গেলে বাঘ বললে, 'আমি কি করে বা ছানাদের দেখব, কি করে বা ঘরকন্না করবা

তা শুনে অন্য বাঘেরা বললে, “আবারএকট বিয়ে কর, তাহলে সব ঠিক হয়ে যাবে।

বাঘও ভাবলে, “একটা বিয়ে করলে হয়। কিন্তু ভার বাঘিনী বিয়ে করব না, তারা রীধতে -টাধতে জানে না। এবারে বিয়ে করব মানুষের মেয়ে, শুনেছি তারা খুব রীধতে পারে ।"

এই মনে করে সে মেয়ে খুঁজতে গ্রামে গেল! সেখানে এক গৃহস্থের একটি ছেলে আর একটি মেয়ে ছিল। বাঘ সেই. মেয়েটিকে ধরে এনে, তার ছানা দুটোকে বললে, “দেখ রে, এই তোদের মা।'

রা “লেজ নেই, দত নেই, রৌয়৷ নেই, ডোরা নেই-_-ও কেন আমাদের মা

সক কি ডি ডে তখন পি এটির াত হা

যায়।

আর তার মা-বাপ তো কেঁদে-কেঁদে অন্ধই হয়ে গেল। তার ভাইটি, তারপর তার মা-বাপকে বললে, “শুধু ঘরে বসে কাদলে কি হবে চললুম, রি সন্ধান করতে পারি কিনা।” এই বলে সে ঘর থেকে বেরিয়ে, খালি বনে-খনে ঘুরতে লাগলো ঘুরতে-

ঘুরতে শেষে সেই বাঘের বাড়ি এসে তার বোনকে দেখতে পেল। বোনটি তো তাকে দেখেই কীদতে-কাদতে বললে, “ও দাদা, তুমি কেন এলে? বাঘ এলেই যে

উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র ৬৩

তোমাকে ধরে খাবে!” ভাই বললে, “খায় খাবে! আমি তোকে না নিখে ফিরছি না। এখন আমাকে লুকিয়ে রাখ, তারপর দেখব এখন।”

তখন তার দুজনে মিলে রান্নাঘরে গর্ত খুঁড়ল। মেয়েটি সেই গর্তের ভিতরে তার ভাইকে বসিয়ে, শিল চাপা দিয়ে রাখল। ...

/7%

কনক ১৬৭ রং ভাই-বোন সেখান থেকে ছুটে পালালে

তার পরেই বাঘ এসে, তার ছানা দুটোকে নিয়ে খেতে বসল ছানা দুটো ভালো করে খাচ্ছে না। খালি বলছে

৬৪ 0 উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র

৬৯৮12

'বাবাগে! বাবা, তোর কি শালা? মোর কি ম্রামা£ মা'র কি সোদর ভাই? শিলের তলে কুমকুম করে তুলে দে না বাবা খাই! বাঘ সেদিন কার উপরে চটে এসেছিল, তাই ছানা দুটোর কথা শুনেই, ঠান-ঠাস করে তাদের ঘুটো চড় মারল। তারা কি বলছে, তা ভেবে দেখল না! খাওয়া শেষ হলে সে মেয়েটিকে বলল, 'আজ পিঠে করিস, বিকেলে খাব। দেখিস যেন ভালে! হয়।” এই বলে মে আধার বেরিয়ে গেল। বাঘ চলে গেলে পর মেয়েটি শিলের তলা থেকে তার ভাইকে বার করল। তারপর দুজনে খাওয়া-দাওয়া সেরে, উনুন ধরিয়ে তার উপর কড়ায় করে তেল চড়াল। তারপর বাঘের ছান! দুটোকে কেটে, উনুনের উপর ঝুলিয়ে রেখে, ভাই-বোন সেখান থেকে ছুটে পালাল। বাঘের ছানা উনুনের উপর ঝুলছে, আর ঝ্যাৎ-ব্যাৎ করে রক্তের ফৌটা তপ্ত তেলে পড়ছে। বিকেলে বাঘ ফিরে এসে ঘরে ঢুকবার আগেই সেই শব্দ শুনতে গেল। শুনে সে বললে, 'বাঃ রে বা! পিঠে হচ্ছে। পিঠে যদি ভালো হয় তো ভালো, নইলে আমরা তিন বাপ-বেটায় মিলে রীধুনী হতভাগীকে ছিড়ে খাব!” ঠা তারপর ঘরে ঢুকেই তে! দেখল কি রকম পিঠে হচ্ছে! তখন বাঘ 'হালুম হালুম' করে ঘরময় খুঁজতে লাগল। কিন্তু গৃহস্থের মেয়েকে আর কোথায় পাবে! সে ততক্ষণে তার ভাইকে নিয়ে, মা- বাপের কাছে গিয়ে উপস্থিত হয়েছে। তার গ্রামের সকল লোক ছুটে এসে তাদের নিয়ে কি আনন্দই যে করছে কি বলব!

বোকা-কুমিরের কথা

কুমির আর শিয়াল মিলে চাষ করতে গেল। কিসের চাষ করবে? আলুর চায। আলু হয় মাটির নীচে। তার গাছ থাকে মাটির উপরে, তা দিয়ে কোনো কাজ হয় না। বোক৷ কুমির সে কথা জানত না। সে ভাবলে বুঝি আালু-তার গাছের ফল।

উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র 0৬৫

উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র-_€৫

তাই সে শিয়ালকে ঠকাবার জন্যে বললে, “গাছের আগার দিক কিন্তু আমার, আর গোড়ার দিক তোমার”

শুনে শিয়াল হেসে বললে, 'আচ্ছা তাই হবে।”

তারপর যখন আলু হল, কুমির তখন সব গাছের আগা কেটে তার বাড়িতে নিয়ে এল। এনে দেখে, তাতে একটাও আলু নেই। তখন সে মাঠে গিয়ে দেখল, শিয়াল মাটি খুঁড়ে সব আলু তুলে নিয়ে গেছে। কুমির ভাবলে, 'তাই তো। এবার বড্ড ঠকে গিয়েছি! আচ্ছা, আসছে বার দেখব!»

তার পরের বার হল ধানের চাষ। এবারে কৃমির মনে ভেবেছে, আর কিছুতেই ঠকতে যাবে না। তাই সে আগে থাকতেই শিয়ালকে বললে, “ভাই, এবারে কিন্তু আমি আগার দিক নেব না, এবার আমাকে গোড়ার দিক দিতে হবে!”

তারপর যখন ধান হল, শিয়াল সে ধানসুদ্ধ গাছের আগা-করেটে নিয়ে গেল। কুমির তো এবারে ভারি খুশি হয়ে আছে। ভেবেছে, মাটি খুঁড়ে সব ধান তুলে.নেবে। কপাল! মাটি খুঁড়ে দেখে সেখানে কিছুই নেই। লাভের মধ্যে খড়গুলো পেলো?

তখন কুমির তো বড্ড চটেছে, আর বলছে, 'দীডাও-শিয়ালের বাছা, তোমাকে দেখাচ্ি। এবারে আর আমি তোমাকে আগা নিতে দেব না। সব আগা আমি নিয়ে আসব?

সেবার হল আখের চাষ।

কুমির তো আগেই বলেছে, এবার আর সে আগা না নিয়ে ছাড়বে না। কাজেই শিয়াল তাকে আগাগুলে। দিয়ে নিজে আখগুলো নিয়ে.ঘরে ধসে মজা করে খেতে লাগল।

কুমির আখের আগা ঘরে এনে চিবিয়ে দেখলে, খালি নোস্তা, তাতে একটুও মিষ্টি নেই। তখন সে রাগ করে আগাগুলো সব ফেলে.দিয়ে-শিয়ালকে বললে, 'না ভাই, তোমার সঙ্গে আর আমি চাষ করতে যাব না, তুমি বা

শিয়াল পণ্ডিত

কুমির দেখলে, সে শিয়ালের সঙ্গে কিছুতেই পেরে উঠছে না। তখন ভাবলে, “ও ঢের লেখাপড়া জানে, তাতেই খালি আমাকে ধীকি দেয়। আমি মুর্খ লোক, তাই তাকে াঁটতে পারি না।' অনেকক্ষণ ভেবেকুমির এই ঠিক করল যে, নিজের সাতটা ছেলেকে শিয়ালের কাছে দিয়ে খুব করে লেখাপড়া শেখাতে হবে। তার পরের দিনই সে ছান। সাতটাকে সঙ্গে করে শিয়ালের বাড়ি গিয়ে উপস্থিত হব শিয়াল তখন তার গর্তের ভিতর বসে কীকড়া খাচ্ছিল। কুমির এসে ডাকলে, “শিয়াল পণ্ডিত, শিয়াল পণ্ডিত, বাড়ি আছ?

র. এসে বললে, 'কি ভাই, কি মনে করে? 38১ ৮1৮৮ পারবে না। ভাই, তুমি যদি এদের একটু লেখাপড়া শিখিয়ে দাও

লে সি কি দি শুনে কুমির তো খুব খুশি হয়ে ছানা সাতটাকে রেখে চলে গেল।

তখন শিয়াল তাদের একটাকে আড়ালে নিয়ে বললে-__

পড় তো বাপু- কান! খানা গানা ঘানা, কেমন লাগে কুমির

এই কথা বলে, সেটার ঘাড় ভেঙে, খেয়ে ফেললে।

পরদিন যখন কুমির তার ছানা দেখতে এল, তখন শিয়াল তাদের একেকটি করে গর্তের বাইরে

৬৬ উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র

বে শত লাগল।

স্ািণ। ওয়নার দেখালে, শেষেরটা দেখালে দু'বার। বোকা কুমির তা বুঝতে না পেরে ভাবলে, শাকয় পখানে। হয়েছে। তখন সে চলে গেল, আর অমনি শিয়াল ছানাগুলোর একটাকে আড়ালে নয এন

ভাই, এই আমার ছেলে সাতটাকে তোমার কাছে এনেছি

পড় তো বাপু-কানা খানা গানা ঘানা, কেমন লাগে কুমির ছানা? “1 ঞখ। বলে, সেটার ঘাড় ভেঙে, খেয়ে ফেলল।

রর 17 ডু

১১/%% (২) টা |

১১11// আগের মতো৷ করে আর-একটা ছানাকে খেলে পযাদন ঝুমির তো ছানা দেখতে এল। শিয়াল একেকটি করে গর্তের বাইরে এনে, পাঁচবার উপেন্্রকিশোর সমগ্র ৬৭

পীঁচটাকে দেখাল, শেষেরটিকে দেখাল তিনবার! তাতেই কুমির খুশি হয়ে চলে গেল তখন শিয়াল ঠিক আগের মতো করে আর একটা ছানাকে খেল। -*

এমনি করে সে রোজ একটি ছানা খায়, আর কুমির এলে তাকে ফীকি দিয়ে ভোলায়। শেষে যখন একটি ছানা বই আর রইল না, তখন সেই একটিকেই সাতবার দেখিয়ে সে কুমিরকে বোঝাল। তারপর কুমির চলে গেলে সেটিকেও খেয়ে ফেলল। তারপর আর একটিও রইল না।

তখন শিয়ালনী বললে, 'এখন উপায়? কুমির এলে দেখাবে কি? ছানা না৷ দেখতে পেলে তো অমনি আমাদের ধরে খাবে!”

শিয়াল বললে, “আমাদের পেলে তো ধরে খাবে। নদীর ওপারের বনটা খুব বড়, চল আমরা সেইখানে যাই। তাহলে কুমির আর আমাদের খুঁজে বার করতেই পারবে না।”

এই বলে শিয়াল শিয়ালনীকে নিয়ে তাদের পুরনো গর্ত ছেড়ে চলে গেল।

এর খানিক বাদেই কুমির এসেছে। সে এসে "শিয়াল পণ্ডিত; শিয়াল পণ্ডিত” বলে কত. ডাকল, কেউ তার কথার উত্তর দিল না! তখন সে গর্তের ভিতর-বার খুঁজে দেখল-_শিয়ালও নেই, শিয়ালনীও নেই! খালি তার ছানাদের হাড়গুলো পড়ে.আছে।

তখন তার খুব রাগ হল, আর সে চারদিকে ছুঁটোছুটি.করে শিয়ালকে খুঁজতে লাগল। খুঁজতে- খুঁজতে নদীর ধারে গিয়ে দেখল, এ! শিয়াল আর শিয়ালনী সীতারে নদী পার হচ্ছে।

অমনি 'দাড়া হতভাগা! বলে সে জলে ঝাপ দিয়ে পড়ল। জলের নীচে ছুটতে কুমিরের মতো কেউ পারে না, দেখতে-দেখতে সে গিয়ে শিয়ালের পিছনের একটা গা কামড়ে ধরল!

শিয়াল সবে তার সামনের দু-পা ডাঙায় তুলেছিল, শিয়ালনী তার আগেই উঠে গিয়েছিল। কুমির এসে শিয়ালের পা ধরতেই সে শ্রিয়ালনীকে ডেকে বললে, 'শিয়ালনী, শিয়ালনী, আমার লাঠিগাছা ধরে কে টানাটানি করছে! লাঠিটা বা নিয়েই যায়!

আমার লাঠিগাছাটা ধরে কে টানাটানি করছে (৮ একথা শুনে কুমির ভাবলে, 'তাই তো, পা ধরতে গিয়ে লাঠি 1 শিগগির লাঠি

ছেড়ে পা ধরি? এই ভেবে যেই সে শিয়ালের পা ছেড়ে দিয়েছে, অমনি শিয়াল একলাফে ডাঙীয় উঠে গিয়েছে। উঠেই বে করে দে ছুট। তারপর বনের ভিতরে ঢুকে পড়লে আর কার সাধ্য তাকে ধরে।

৬৮ উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র

চ্চারগর থেকে কুমির কেবলই শিয়ালকে খুঁজে বেড়ায়। কিন্তু শিয়াল রড্ড চালাক, তাই তাকে বট পারে না। তখন সে অনেক ভেবে এক ফন্দি করল।

নর "্পার্ ) ১8 5 বাঁচি ৯১111 ,

অত বেশি মরাটা আমর। খাই না

শুর একদিন চড়ায় গিয়ে হাত পাঁ ছড়িয়ে মড়ার মতো পড়ে রইল। তারপর শিয়াল আর

170 কচ্ছপ খেতে এসে দেখল, কুমির কেমন হয়ে পড়ে আছে! তখন শিয়ালনী বললে, "মরে 1011 ১ন খাইগে শিয়াল বললে, “রোস্‌, একটু দেখে নিই এই বলে সে কুমিরের আর একটু ৭11 গিয়ে বলতে লাগল, না! এটা দেখছি বড্ড বেশি যরে গেছে! অত বেশি মরাটা আমরা খাই 1 (গুলো একট্-একটু নড়েচড়ে, আমরা সেগুলো খাই।” »। নে কুমির ভাবলে, একটু, নড়ি-চড়ি, নইলে খেতে আসবে না। এই মনে করে কুমির তার (রগ আগাটুকু নাড়তৈ.লাগল। তা দেখে শিয়াল হেসে বললে, “এ দেখ, লেজ নাড়ছে! তুমি (এ গলেছিলে, মরেংগেছে! তারপর আর কি তারা সেখানে দাঁড়ায়! তখন ফুমির বললে, 'বড্ড %1৭ দিলে তো !আচ্ছা এরারে দেখাব!”

%)1ট| জায়গায় শিয়াল রোজ জল খেতে আসত! কুমির ত৷ দেখতে পেয়ে সেখানে গিয়ে আনায় শিয়াল জল খেতে এলেই ধরে খাবে। সেদিন শিয়াল এসে দেখল, সেখানে ণ)।ও মাছ নেই ।:অন্য দিন ঢের মাছ চলা-ফেরা করে। শিয়াল ভাবল, “ভালো রে ভালো, আজ হন মাছ গেল কোথায় ? বুঝেছি, এখানে কুমির আছে তখন সে বললে, “এখানকার জলটা

|এদ111 একটু ঘোলা না হলে কি খাওয়া যায়? চল শিয়ালনী, আর-এক জায়গায় খাই।" গেছ কুমির তাড়াতাড়ি সেখানকার জল ঘোলা! করতে আরম্ত করলে তা৷ দেখে গিয় £1)/ত ছুটে পালিয়েছে!

আর একদিন শিয়াল এসেছে কাকড়া খেতে কুমির তার আগেই সে বসে আছে। 1881 তা টের পেয়ে বলল, 'এখানে কাকড়া নেই, থাকলে দু-এ া”

গমনি কুমির তার লেজের আগাটুকু ভাসিয়ে দিল। কাজেই শ্ক্ীল আর জলে নামল না।

"মনি করে বারবার শিয়ালের কাছে ঠকে গিয়ে, শেষে কুমিরের ভারি লঙ্জা হল। তখন সে »1। কি করে মুখ দেখাবে? কাজেই সে তার ঘরের ভিতরে গিয়ে বসে রইল

উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র ৬৯

সাক্ষী শিয়াল

একজন সওদাগর একটি ঘোড়া নিয়ে বেড়াতে যাচ্ছিল। যেতে যেতে তার বড্ড ঘুম পেল। তখন সে ঘোড়াটিকে এক গাছে বেঁধে, সে গাছের তলায় ঘুমিয়ে রইল।

এমন সময় এক চোর এসে সওদাগরের ঘোড়াটিকে নিয়ে চলে যাচ্ছে।

সওদাগর ঘোড়ার পায়ের শব্দে জেগে উঠে বললে, “কি ভাই, তুমি আমার ঘোড়াটিকে নিয়ে কোথায় যাচ্ছ?

চোর তাতে ভারি রাগ করে বললে, “তোমার ঘোড়া আবার কোনটা হল£

শুনে সওদাগর ভাশ্চর্য হয়ে বললে, “সেকি কথা! তুমি আমার ঘোড়৷ নিয়ে চলে যাচ্ছ, আবার বলছ কোন্টা আমার ঘোড়া?

দুষ্টু চোর তৃখন মুখ ভার করে বললে, বদর! তি আমার ছোড়াকে তোমার ঘোড়া বলবে না!”

সওদাগর বললে, “কি? আমি আমার ঘর থেকে ঘোড়াটাকে নিয়ে এলুম,আর তুমি বলছ সেটা তোমার?

চোর বললে, 'বটে! এটা তে৷ আমার গাছের ছানা। এক্ষুণি হল। তুমি বুঝে শুনে কথা৷ কও, নইলে বড় মুশকিল হবে।?

তখন সওদাগর গিয়ে রাজার কাছে নালিশ করল, “মহারাজ, আমি গ্রাছে আমার ঘোড়াটি বেঁধে ঘুমুচ্ছিলুম, আর বেটা এসে তাকে নিয়ে যাচ্ছে।'

রাজামশাই চোরকে ডেকে জিগগেস করলেন, “কি হে, তুমি ওর ঘোড়া নিয়ে যাচ্ছ কেন?

গাছের ছানা। ছানাটি হতেই আমি তাকে নিয়ে যাচ্ছিলুম, আর বেটা উঠে বলছে কিনা, ওটা ওর ঘোড়া! সব মিথ্যে কথা!”

৭০ 0 উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র

তখন বাজামশাই বললেন, 'এ তো ভারি অন্যায়। গাছের ছানা হল, আর তুমি বলছ সেটা 151মা7 ঘোড়া। তুমি দেখছি বড় দুষ্টু লোক। পালাও এখান থেকে! বলে তিনি ঘোড়াটা চোরকেই [দা দিলেন।

সঞ্দাগর বেচারা তখন মনের দুঃখে কাদতে-কাদতে বাড়ি ফিরে চলল। খানিক দূরে গিয়ে এক থয সাথে তার দেখা হল।

শয়ল তাকে কাদতে দেখে বললে, “কি ভাই? তোমার মুখ এমন ভার দেখছি যে!কি হয়েছে?

»খদাগর বললে, “আর ভাই, সে কথা বলে কি হবে? আমার ঘোড়াটি চোরে নিয়ে গেছে। খান কাছে নালিশ করতে গেলুম, সেখানে চোর বললে কিনা, ওটা তার গাছের ছানা! রাজামশাই 1৮ এনে ঘোড়াটি চোরকেই দিয়ে দিয়েছেন।

॥) কথা শুনে শিয়াল বললে, 'আচ্ছা, এক কাজ বুতৈ পার£

ওদাগর বললে, "কি কাজ?

শয়ন বললে, ভুমি জাবার রাজামশায়ের কাছীর রন, মহারাজ, জামার একজন সান্ী ৪1181 আপনার বাড়িতে যদি কুকুর না থাকে, তবে সেই সাক্ষীটিকে নিয়ে আসতে পারি।*

খন সওদাগর আবার রাজার কাছে গিয়ে বললে, মহারাজ, আমার একটি সাক্ষী আছে, কিন্ত গাএণ।র বাড়ির কুকুরদের ভয়ে সে আসতে পারছে না। অনুগ্রহ করে যদি কুকুর তাড়িয়ে দেবার ধম (ধন, তবে আমার সাক্ষীটিকে নিয়ে আসতে পারি।

মাথা টেঁছে, তাতে ঘোল ঢেলে, হতভাগাকে দূর করে দেওয়। হ'ল 'া গুনে রাজামশাই তখুনি সব কুকুর তাড়িয়ে দেবার হুকুম দিয়ে , এখন (মার সাক্ষী আসুক।” এঃব কথা সওদাগর শিয়ালকে এসে বলতেই শিয়াল চোখ ত-উলতে রাজার সভায়

&81। সেখানে এসেই সে দেয়ালে হেলান দিয়ে ঝিমুতে লাগল। রাজ তা দেখে হাসতে- ₹া)ত বললেন, 'কি, শিয়াল পণ্ডিত? ঘুমুচ্ছ যে? গিয়াল আধ চোখে মিট-মিট করে তাকিয়ে বললে, “মহারাজ, কাল সারা রাত জেগে মা

উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র 0 ৭১

খেয়েছিলুম, তাই আজ বড্ড ঘুম পাচ্ছে।”

রাজা বললেন, “এত মাছ কোথায় পেলে?

শিয়াল বললে, 'কাল নদীর জলে আগুন লেগে সব মাছ এসে ডাায় উঠল। আমরা সকলে মিলে সারা রাত খেলুম, খেয়ে কি শেষ করতে পারি!' কথা শুনে রাজামশাই এমনি ভয়ানক হাসলেন যে, আর একটু হলেই তিনি ফেটে যেতেন। শেষে অনেক কষ্টে হাসি থামিয়ে বললেন, “এমন কথা তো কখনো শুনিনি! জলে আগুন লাগে, এও কি কখনো হয়ঃ সব পাগলের কথা!”

তখন শিয়াল বললে, "মহারাজ, ঘোড়া গাছের ছানা হয়, এমন কথাও কি কখনো শুনেছেন? সে কথা যদি পাগলের কথা না হয়, তবে আমার এই কথাটার কি দোষ হল?”

শিয়ালের কথায় রাজামশাই ভারি ভাবনায় পড়লেন।

ভেবে-চিন্তে শেষে তিনি বললেন, 'তাই তোঃ ঠিকরে! গাছের আবার কি করে ছানা হবে? সে বেটা তবে নিশ্চয় চোর।

তখনই হুম হল, “আন তো রে সেই চোর কেক রেধে।

অমনি দশ পেয়াদা গিয়ে চোরকে বেঁধে আনলে আনতেই রাজামশাই বললেন, “মার বেটাকে পঞ্চাশ জুতে।!

বলতে বলতেই পেয়াদারা তাদের নাগরা জুতো খুলে চ্টাস-চটাস চোরের পিঠে মারতে লাগল। সে বেটা পঁচিশ জুতো খেয়ে টেচিয়ে বললে, “গেলুম গেলুম! আমি ঘোড়া এনে দিচ্ছি। আর এমন কাজ কখনো করব না!” কিন্ত-তার কথা আর তখন কে শোনে। পঞ্চাশ জুতো মারা হলে রাজা বললেন, শিগগির ঘোড়া এনে, দেনইলে আরো পঞ্চাশ জুতো!”

চোর তাড়াতাড়ি ছুটে গিয়ে ঘোড়া এনে দিল। তারপর তার নিজ হাতে তার নাক-কান মলিয়ে মাথা চেঁছে, তাতে ঘোল ঢেলে হতভাগাকে দেশ থেকে দূর করে দেওয়া হল। সওদাগর তার ঘোড়া পেয়ে শিয়ালকে আশীর্বাদ কর লা

-বাথৈকো শিয়ালের ছানা এক শিপন শর এক শিযালীছিল। তাদের তিনটি ছন। ছিল, কিন্তু থাকবার জায়গা ছিল তারা ভাবে ্ছানাগুলোকে এখন কোথায় রাখি? একটা গর্ত না হলে তো এরা বৃষ্টিতে ভিজে

মারা যাবে॥ তখন তারা অনেক খুঁজে একটা গর্ত বার করলে, কিন্তু গর্তের চারধারে দেখলে, খালি দেখে শিয়ালনী বললে, 'ওগে। এটা যে বাথের গর্ত। এর ভিতরে কি করে

শিয়াল বলল, এত খুঁজেও তো আর গর্ত পাওয়া গেল না। এখানেই থাকতে হবে! (৪১ শিয়ালনী বললে, 'বাঘ যদি আসে, তখন কি হবে? তেও শিয়াল বললে, “তখন তুমি খুব করে ছানাগুলির গায়ে চিমটি কাটবে। তাতে আর আমি জিগগেস করব-__ওর! কাদছে কেন? তখন তুমি বলবে_ রাতে চায়।” তা গুনে শিয়ালনী। বললে, 'বুঝেছি। আচ্ছা, বেশ! বলেই সে য় গর্তের ভিতরে ঢুকল। তখন থেকে তারা সেই গর্তের ভিতরেই থাকে। এমনি করে দিন কতক যায়, শেষে একদিন তারা দেখলে যে, বাঘ আসছে। অমনি শিয়ালনী তার ছানাগুলোকে ধরে খুব চিমটি কাটতে লাগল। তখন ছানাগুলি যে টেঁচাল, তা কি বলব! শিয়াল তখন খুব মোটা ভার বিশ্রী গলার সুর করে জিগগেস করলে, "খোকারা কাদছে কেন?)

৭২ 0 উপেপ্রকিশোর সমগ্র

শিয়ালনী তেমনি বিশ্রী সুরে বললে, 'ওরা বাঘ খেতে চায়, তাই কীদছে।"

বাঘ তার গর্ভের দিকে আসছিল। এর মধ্যে ওরা বাঘ খেতে চায়” শুনে সে থমকে দীড়াল। সে ভাবলে, “বাবা ! আমার গর্তের ভিতর না জানি ওগুলো কি ঢুকে রয়েছে। নিশ্চয় ভয়ানক রাক্ষস হবে, নইলে কি ওদের খোকার। বাঘ খেতে চায়।”

২. শিয়াল. দেখলে, বাঘ আসছে তখুনি শিয়াল বললে, “আরে বাঘ কোথায় পাব? যা ছিল, সবই তো ধরে এনে ওদের খাইয়েছি তাতে শিয়ালনী বললে, “তী,বললে কি হবে? যেখন করে পার একটা ধরে জানো, নইলে খোকারা থামছে নারে সে ছানাগুলোকে আরো বেশি করে চিমটি কাটতে লাগল তখন শিয়াল রল্‌লে, 'আচ্ছা, রোস রোস। যে একটা বাঘ আসছে। ভামার ঝপাংটা দাও, এখুনি ওকে ভতাং করছি!”

ঝপাং বলেও কিচ্ছু, নেই, ভতাং বলেও কিচ্ছু নেই--সব শিয়ালের চালাকি। বাঘের কিন্তু সেই ঝপাং আর ভতাং গুনেই প্রাণ উড়ে গেল। সে ভাবলে, "মাগো, এই বেল পালাই, নইলে না জানি কি দিয়ে কিংকরবে এসে!” বলে সে আর সেখানে একটুও দাঁড়াল না। শিয়াল চেয়ে দেখল যে, লম্বা লম্বা লাফ দ্দিয়ে ঝোপ জঙ্গল ডিডিয়ে ছুটে পালাচ্ছে! তখন শিয়াল আর শিয়ালনী নিঃশ্বাস ছেড়ে বললে, 'যাক, আপদ কেটে গেছে!"

বাঘ তখনো এমনি ছুটেছে যে তেমন আর সে কখনো! ছোটেনি।

একটা বানর গাছের উপর থেকে তাকে ছুটতে দেখে ভারি আশ্চর্য হয়ে বাঘ এমনি ছুটছে, তো সহজ কথা নয়! নিশ্চয় একটা ভয়ানক কিছু বাঘকে ডেকে জিগগেস করলে, “বাঘ ভাই, বাঘ ভাই, কি হয়েছে? পালাচ্ছ?

বাঘ হাপাতে-হাপাতে বললে, “সাধে কি পালাচ্ছি? নইলে এম

বানর বললে, “তোমাকে ধরে খায়, এমন কোনো জানোয়ারের কথা তো জামি জীনিনে। কথা আমার বিশ্বাস হচ্ছে না!”

উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র ৭৩

বাঘ বললে, 'যদি সেখানে থাকতে বাপু, তবে দেখতুম! দূর থেকে অমনি করে সকলেই বলতে পারে!”

বানর বললে, 'আমি যদি সেখানে থাকতুম, তবে তোমাকে বুঝিয়ে দিতুঘ যে সেখানে কিছু নেই! তুমি বোকা, তাই মিছামিছি অত ভয় পেয়েছ।' কথায় বাঘের ভারি রাগ হল।

সে বললে, “বটে! আমি বোকা? আর তোমার বুঝি ঢের বুদ্ধি! চল তো৷ একবার সেখানে যাই”

বানর বললে, 'যাব বইফি, যদি আমাকে পিঠে করে নিয়ে যাও।”

দা ১২২২২ রা রা / উঠ০১]14/ উউউ বনে নিঠেকরে আর রে দিকে চলল ধা

বাঘ বললে, 'তাই-সই! আমার পিঠে বসেই চল। এই বলে সে বানরকে পিঠে করে আবার গর্ভের দিকে ফিরে চললা

শিয়াল আর শিয়ালনী সবে ছানাদের শান্ত করে একটু বসেছে, আর অমনি দেখে, বানরকে পিঠে করে বাঘ আবার আজছে। তখন শিয়ালনী তাড়াতাড়ি ছুটে গিয়ে আবার ছানাগুলোকে চিমটি কাটতে লাগল, ছানাগুলিও ভূতের মতো ্্যাচাতে শুরু করল।

তখন শিয়াল ত্বাবার সেই রকম সুর করে বললে, 'আরে থামো, থামো! অত চেচিও না__অসুখ করবে।শিয়ালনী বললে, “আমি বলছি, যতক্ষণ ন| একটা ঘাঘ এনে এদের খেতে দেবে, ততক্ষ এরা কিছুতেই থামবে না।'

শিয়াল বললে, 'আমি যে ওদের মামাকে বাঘ আনতে পাঠিয়েছি। এখুনি সে বা নিব, তোমরা থামে।?' $১

তারপর একটু চুপ করেই সে আবার বললে, 'এ, এ! যে তোদের একটা বাঘ ধরে এনেছে! আর কীদিসনে ; শিগগির ঝপাংটা দে, ভতাং করি!”

বানরের এতক্ষণ খুব সাহস ছিল। কিন্তু ঝপাং আর ভতাঙের ক' আর সে বসে থাকতে পারল না। সে এক লাফে একটা গাছে উঠে, দেখতে দেখতে কোথীয় পালিয়ে গেল।

আর বাঘের কথা কি আর বলব! সে যে সেইখান থেকে ছুট দিলে, দুদিনের মধ্যে আর দীড়ালই না।

৭৪ উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র

তারপর থেকে আর শিয়ালদের কোনো কষ্ট হয়নি। তারা মনের সুখে সেই গর্তে থেকে দিন কাটাতে লাগল।

আখের ফল

শিয়াল পণ্ডিত আখ খেতে বড় ভালোবাসে, তাই সে রোজ আখ ক্ষেতে ঘায়। একদিন সে আখের ক্ষেতে ঢুকে একটি ভিমরুলের চাক দেখতে পেল। ভিষরুলের চাক সে আগে কখনো দেখেনি, সে মনে করল ওটা বুবা আখের ফল।

8৮4052882- ক্ষেতকে বলে “ক্ষেত্র, লাঠিকে বলে

'দণ?।

ই্ষুর ক্ষেত্রে আর যাৰ না!”

ট্ দেখে সে বললে, “আহা, ইক্ষুর কি চমতকার ফল! খেতে না জানি কতই হবে? এই মনে করে যেই সে ভিমরুলের চাক খেতে গিয়েছে, অমনি সব ভিমরুল বেরিয়ে মজাটাই তাকে দেখাতে লাগল! শিয়াল তো প্রাণের ভয়ে খালি ছোটে, আর বলে, আর যাব না!”

খানিক বাদে ভিমরুলগুলো তাকে ছেড়ে গেল। তখন সে ভাবলে, “কে তাতে তো কিছু হয় না। ফল খেতে গিয়েই আমার বিপদ হল। তবে ত্য কো ফল না খেলেই হল।” এই ভেবে সে বলতে লাগল, "যদি ইক্ষুর প্্যুই খাব!" দুদিন সে খালি এই কথাই বলে।

তারপর যখন বেদনা একটু কমে এল, তখন সে ভাবলে, “এ ফলটার ভিতর পোকা ছিল, তারাই আমাকে কামড়েছে। আগে যদি ফলটাতে নাড়া দিতুঘ তবে পোকাণগুলি বেরিয়ে যেত। তারপর

উপেন্রকিশোর সমগ্র ৭৫

ফল খেতে কোনো কষ্ট হত না! আহা, সে ফল খেতে না জানি কতই মিষ্টি। তবে আর ফল খাব না কেন? খাবার আগে পোকা তাড়িয়ে দিলেই হবে।' এই ভেবে সে বলতে লাগল, 'যদি ইক্ষুর ফল খাব, আগে দণ্ড দিয়ে নাড়া দিব!" বলতে-বলতে আখের ক্ষেতে গিয়ে সে তো লাঠি দিয়ে নাড়া দিয়েছে। অমনি আর যাবে কোথায়! ভিমরুলের দল এসে তাকে কামড়িয়ে আধমরা করে তবে ছাড়ল। সেই থেকে সে আর ইক্ষুর ফল খেত না।

রাজার রে হাতিট। তার আর দাকল হাতির চেয়ে রা আর বড় আর দেখতে সুর) সেইটে তার 'পাটহভী"।

সেই হাতিতে চড়ে রাজামশাই চলাফেরা করেন, আর তাকে খুব ভালোবাসেন।

একদিন রাজার পাটহত্তী মরে গেল। রাজা অনেকক্ষণ ভারি দুঃখ করলেন, শেষে বললেন, “ওটাকে ফেলে দিয়ে এসা।

তখন সেই হাতির পায়ে বড়-বড় দড়ি বেঁধে-প্রাচশো লোক টেনে তাকে মাঠে ফেলে দিয়ে এল।

সেই মাঠের কাছে এক শিয়াল থাকত। সে অনেক দিন পেট ভরে খেতে পারনি। মাঠে মরা হাতি দেখতে পেয়ে, সে খুব খুশি হয়ে এসে, তাকে খেতে আরম্ত করল। তার এতই খিদে হয়েছিল যে, খেতে-খেতে সে হাতির পেটের-ভিতর টুকে গেল, তবুও 'তার খাওয়া শেষ হল না। এমনি করে দুদিন চলে গেল, তখনো সে হাতির পেটের ভিতরে বসে কেবল খাচ্ছেই। ততদিন রোদ লেগে চামড়া শুকিয়ে, হাতির পেটের ফুটো ছোট হয়ে গেছে, আর শিয়ালও অনেক খেয়ে মোটা হয়ে গেছে। তখন তো তার ভারি মুশকিল হল। সে অনেক চেস্টা করেও হাতির পেটের ভিতর থেকে বেরুতে পারল না। এখন উপায় কি হবে?

এমন সময় তিনজন চাষী সেখান দিয়ে যাচ্ছিল। তাদের দেখতে পেয়েই শিয়ালের মাথায় এক ফন্দি জোগাল। সে হাতির পেটের ভিতর থেকে তাদের ডেকে বললে, "ওহে ভাই সকল, তোমরা রাজার কাছে একটা খবর 'দিতে পারবে? আমার পেটে বদি পঞ্চাশ কলসী ঘি মাখানো হয়, তবে আমি উঠে দীঁড়াব।*

চাষীরা তাতে ভারি আশ্চর্য হয়ে বলল, “শোন-শোন, হাতি কি বলছে! চল তামরা! রাজামশাইকে খবর দিইগে।” তারা তখুনি রাজার কাছে ছুটে গিয়ে বললে, 'রাজামশাই, আপনার সেই মরা হাতি পঞ্চাশ কলসী ঘি মাখালে সে আবার উঠে দাঁড়াবে। শিগগির পঞ্চাণ কলসী

কথায় রাজামশাই যে কি খুশি হলেন, কি আর বলব! তিনি বললেন, 'আমার হাতি বাঁচে, পঞ্চাশ কলসী খি আর কত বড় একটা কথা! হাজার কলসী ঘি নিয়ে তার পেটে ম৪। তখুনি হাজার মুটে হাজার কলসী ঘি নিয়ে মাঠে উপস্থিত করল। দুহাজার লোক তে হাতির পেটে মাখাতে লাগল। সাতদিন খালি “আনো ঘি', ৮53 কথাই শোনা গেল না।

সাতদিনের পরে শিয়াল দেখলে যে, হাতির চামড়াও ঢের নরম হও বড় হয়েছে, এখন সে ইচ্ছে করলেই বেরিয়ে আসতে পারে। তখন সের্সব ডেকে বলল, 'ভাই সকল, এইবার আমি উঠব। তোমরা একটু সরে দীড়াও, নইলে যদি আমি মাথা ঘুরে তোমাদের উপরে পড়ে উড়ে যাই!”

৭৬ উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র

ঘি-টি সব ফেলে তারা পালাতে লাগল

তখন ভারি একটা গোলমাল হল$যে যাকে সামনে পাচ্ছে, তাকেই ধাকা মেরে বলছে, 'আরে বেটা, শিগগির সর! হাতি উঠছে, ঘাড়ে পড়বে |

একথা শুনে কি কেউ আর-সেখানে দীড়ায়? ঘি-টি সব ফেলে তার! পালাতে লাগল, একবার চেয়েও দেখল না, হাতি উঠেছে কি পড়েই আছে। তা৷ দেখে শিয়াল ভাবলে, “এই বেলা পালাই।' তখন সে তাড়াতাড়ি হাতির. পেটের ভিতর থেকে বেরিয়ে দে ছুট্‌।

মজন্তালী সরকার

এক গ্রামে দুটো.বিড়াল ছিল তার একটা থাকত গোয়ালাদের বাড়িতে, সে খেত দই, দুধ, ছানা, মাখন ভার একটা থাকত জেলেদের ঝাড়িতে, সে খেত খালি ঠেঙার বাড়ি আর লাথি। গোয়ীলাদের বিড়ালট। খুব মোটা ছিল, আর সে বুক ফুলিয়ে চলত। জেলেদের বিড়া গায় খালি চামড়া জার হাড় কখানি ছিল। সে চলতে গেলে টলত আর ভাবত,

গোয়ালাদের বিড়ালের মতো মোটা হব টে শেষে একদিন সে গযলাবের নাকে বলে, ভাই, আজ আমার তোমা নিমন্ত্রণ" সব কিন্ত মিছে কথা নিজেই খেতে পায় না, সে আবার নিমন্ত্রণ কোথা থেকে? সে

(ভেবেছে, “গোয়ালাদের বিড়াল আমাদের বাড়ি এলেই আমার মত গা খাবে আর মরে যাবে, তারপর আমি গোয়ালাদের বাড়িতে গিয়ে থাকব।” যে কথা সেই কাজ। গোয়ালাদের বিড়াল জেলেদের বাড়িতে আসতেই জেলেরা বললে, “ব

উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র 0 ৭৭

রে। গোয়ালাদের সেই দই-দুধ-খেকো চোর বিড়ালটা এসেছে, আমাদের মাছ খেয়ে শেষ করবে। মার বেটাকে!,

আজ আমার বাড়িতে তোমার নিমন্ত্রণ

বলে তারা তাকে এমনি ঠেঙান ঠেঙালে যে, বেচারা তাতে মরেই গেল। রোগা বিড়াল তো জানতই যে, এমনি হবে। সে তার আগেই .গোয়ালাদের বাড়ি গিয়ে উপস্থিত হয়েছে! সেখানে খুব করে ক্ষীর-সর খেয়ে, দেখতেদেখতে সে মোটা হয়ে গেল। তখন আর সে অন্য বিড়ালদের সঙ্গে কথা কয় না, আর নাম জিগ্রগেস করলে বলে, "মজন্তালী সরকার।,

১1471,

7) ১111 ২২11,

তমার নাম মজন্তালী সরকার একদিন ম্জন্তালী সরকার কাগজ কলম নিয়ে বেড়াতে বেরুল। বেড়াতে-বেড়াতে সে বনের ভিতরে গিয়ে দেখল যে, তিনটি বাঘের ছানা খেলা করছে। সে তাদের তিন তাড়। লাগিয়ে বলল,

৭৮ উপেন্দ্রকিশোর সমপ্র

'এই- য়ো! খাজনা দে! বাঘের ছানাগুলে। তার কাগজ কলম দেখে আর ধম্ক খেয়ে বড্ড ভয় (গেল। তাই তারা তাড়াতাড়ি তাদের মায়ের কাছে গিয়ে বললে, “ও মা, শিগগির এস! দেখ এটা কি এসেছে, আর কি বলছো

বাঘিনী তাদের কথা শুনে এসে বললে, 'তুষি কে বাছা? কোথেকে এলে? কি চাও?

মজজ্তালী বললে, “আমি রাজার বাড়ির সরকার, আমার নাম মজন্তালী। তোরা যে আমাদের রাজার জায়গায় থাকিস, তার খাজনা কই? খাজনা দে!”

বাঘিনী বললে, "খাজনা কাকে বলে তা তো আমি জানিনে! আমরা খালি বনে থাকি, আর কেউ এলে তাকে ধরে খাই। তুমি না হয় একটু বস, বাঘ আসুক।”

তখন মজন্তালী একটা উঁচু গাছের তলায় বসে, চারিদিকে উকি মেরে দেখতে লাগল। খানিক বাদেই সে দেখল_--এ বাঘ আসছে। তখন সে তাড়াতাড়ি কাগজ কলম রেখে, একেবারে গাছের আগায় গিয়ে উঠল।

বাঘ আসতেই তো বাঘিনী তার কাছে সব কথা বলে দিয়েছে, আর বাঘের যে কি রাগ হয়েছে কি বলব! সে ভয়ানক গর্জন করে বললে, 'কোথায়২সৈ. হতভাগা এখুনি তার ঘাড় ভাঙচি!'

মজন্তালী গাছের আগ! থেকে বললে, 'কি রে বাঘা, খাজনা দিবি না? আয়, আয়!

শুনেই তো বাঘ দাঁত মুখ খিঁচিয়ে হা্নুম* বলে দুই লাফে সেই গাছে গিয়ে উঠেছে। কিন্ত খালি উঠলে কি হয়? মজন্তালীকে ধরতে পারলে তো! সে একটুখানি হালকা জন্ত, সেই কোন সরু ডালে উঠে বসেছে, ভাত বড় ভারি বাধ সেখানে যেতেই পারছে না। না পেরে রেগে-মেগে বেটা দিয়েছে এক লাফ, অমনি পা হড়কে গিয়েছে পড়ে ! পড়তে গিয়ে দুই ডালের মাঝখানে মাথ। আটকে, তার ঘাড় ভেঙে প্রাণ বেরিয়ে গিয়েছে।

তা দেখে মজন্তালী ছুটে এসে তার নীকে তিন চারটে আঁচড় দিয়ে, বাঘিনীকে ডেকে বললে, “এই দেখ, কি করেছি। আমার স্লামনে বেয়াদবি!

1 11! ৬1 15)

আমার. সামনে বেয়!দপি

উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র ৭৯

সব দেখে শুনে তো ভয়ে বাঘিনী বেচারীর প্রাণ উড়ে গেল! সে হাত জোড় করে বললে, “দোহাই মজন্তালী মশাই, আমাদের প্রাণে মারবেন না! আমরা আপনার চাকর হয়ে থাকব!” তাতে মজন্তালী বললে, 'আচ্ছা তবে থাক্‌, ভালো করে কাজকর্ম করিস, আর আমাকে খুব ভালো খেতে দিস।”

সেই থেকে মজস্তালী বাঘিনীদের বাড়িতেই থাকে। খুব করে খায় আর বাঘিনীর ছানাগুলির খাড়ে চড়ে বেড়ায়। সে বেচারারা তার ভয়ে একেবারে জড়-সড় হয়ে থাকে, আর তাকে মনে করে, না জানি কত বড় লোক!

একদিন বাঘিনী তাকে হাত জোড় করে বললে, মজস্তালী মশাই, বনে খালি ছোট-ছোঁট জানোয়ার, এতে কিছু আপনার পেট ভরে না। নদীর ওপারে খুব ভারি বন আছে, তাতে খুব বড় বড় জানোয়ারও থাকে। চলুন সেইখানে যাই।, ...

শুনে মজন্তালী বললে, 'ঠিক কথা! চল ওপারে যাই। তখন বাঘিনী তার ছানাদের নিয়ে, দেখতে-দেখতে নদীর ওপারে চলে গেল। কিন্তু মজন্তালী কই? বাঘিনী আর তার ছানারা অনেক খুঁজে দেখল-_এঁ ম্জন্তালী সরকার নদীর মাঝখানে পড়ে হাবু-ডূবু খাচ্ছে শ্রোতে তাকে ভাসিয়ে সেই কোথায় নিয়ে গিয়েছে, আর ঢেউয়ের তাড়ায় তার শ্রাণ যায়-যায় হয়েছে!

ম্জন্তানী তো ঠিক বুঝতে পেরেছে যে, আর.দুটো ঢেউ এলেই সে মারা যাবে। এমন সময় ভাগ্যিস বাঘিনীর একটা ছানা তাকে তাড়াতাড়ি ডাঙায় তুলে এনে বাঁচাল, নইলে সে মরেই. ঘেত, তাতে আর ভুল কি?

কিন্ত ঝাল সরকার তাদের স্রকতেই দিল না। সে ডাণডায় উঠে ভন্নামক চোখ রাঙিয়ে বাঘের ছানাকে চড় মারতে গেল, আর গাল যে কত দিল, তার তো লেখাজোথাই নেই। শেষে ধললে, 'হতভাগা মূর্খ, দেখ দেখি কিংকরলি! আমি অমন চমতকার হিসাবটা করছিলুম, সেটা শেষ না হতেই তুই আমাকে টেনে তুলে আনলি__-আর আমার সব হিসাব গুলিয়ে গেল! আমি সব গুণছিলুম, নদীর কটা ঢেউ, কতগুলো মাছ আর কতখানি জল আছে। মূর্খ বেটা, তুই এর মধ্যে গিয়ে সব গোলমাল করে দ্বিলিঃ এখন যদি আমি রাজাম্শাইয়ের কাছে গিয়ে এর হিসাব দিতে না পারি, তবে মজাটা টের পাবি!ঃ

এসব কথা শুনে-বাঘিনী ভাড়াতাড়ি এসে হাত জোড় করে বললে, 'মজন্তালী মশাই, ঘাট হয়েছে, এবারে মাপ করুন।.ওটা মূর্, লেখাপড়া জানে না, তাই কি করতে কি করে ফেলেছে! মজন্তালী বললে, “আচ্ছা, এবারে মাগ করলুম! খবরদার! আর যেন কখনো এমন হয় না” এই বলে মজস্তালী-তার 'ভিজে গা শুকাবার জন্যে রোদ খুঁজতে লাগল।

গভীর বনের ভিতরে সহজে রোদ ঢুকতে পায় না। সেখানে রোদ খুঁজতে গেলে উচু গাছের আগায় গিয়ে উঠতে ইয়। মজস্তালী একটা গাছের আগায় উঠে দেখলে যে, খুব বড় একটা মরা মহিষ মাঠের মাঝখানে পড়ে আছে। তখন সে তাড়াতাড়ি গিয়ে সেই মহিষটার গায়ে কয়েকট! আঁচড় কামড় দিয়ে.এসে বাঘিনীকে বললে, 'শিগগির যা, আমি একটা মোষ মেরে রেখে বাঘিনী আর তার ছানাগুলো ছুটে গিয়ে দেখল, সত্যি মন্ত্র এক মোষ পড়ে আছে। তারা! চাঃ মিলে অনেক কষ্টে সেটাকে টেনে আনলে, আর ভাবলে, 'ঈস! মজন্তালী মশায়ের গা

জোর!

আর একদিন তারা মজগালীকে বললে, 'মজসতালী মশাই, বনে বহি আর গণার আছে। চলুন একদিন সেইগুলো মারতে যাই।”

একথা শুনে মজস্তালী বললে, “তাই তো, হাতি গণ্ডার মারব না তা মারব কি? চল আজই যাই।”

বলে সে তখুনি সকলকে নিয়ে হাতি আর গণ্ডার মারতে চলল। যেতে-যেতে বাঘিনী তাকে

৮০0 উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র

ডিগগেস করলে, “মভজস্তালী মশাই, আপনি খাপে থাকবেন, না ঝাপে থাকবেন? খাপে থাকবার মানে কি? না_ জজ্ত এলে তাকে ধরে মারবার জন্যে চুপ করে ওুঁড়ি মেরে বসে থাকা। আর ঝাপে কার মানে হচ্ছে, বনের ভিতরে গিয়ে ঝাঁপার্বাপি করে জন্ত তাড়িয়ে আনা

মজন্তালী ভাবলে, 'আমার তাড়ায় আর কোন জন্ত ভয় পাবে! তাই সে ধললে, 'আমি ঝাপিয়ে €ধ সব জন্ত পাঠাব, তা কি তোরা মারতে পারবি? তোরা ঝাপে যা, আমি খাপে থাকি।”

বাঘিনী বললে, “তাই তো, সে সব ভয়ানক জ্ত কি আমরা মারতে পারব? চল বাছারা, আমর। ঝাপে বাই),

এই বলে বাঘিনী তার ছানাগুলোকে নিয়ে বনের অন্য ধারে গিয়ে, ভয়ানক -হাল্নুম-হাল্লুম' করে জ।নোয়ারদের তাড়াতে লাগল। মজন্তীলী জানোয়ারদের ডাক শুনে, একটা গাছের তলায় বসে ভয়ে কাপতে লাগল।

খানিক বাদে একটা সজারু সড়-সড় করে সেই দিক পানে ছুটে এসেছে, আর মজস্তালী তাকে দেখে 'মাগো” বলে সেই গাছের একটা শিকড়ের তলীয় গিয়ে লুকির়েছে, এমন সময় একটা হাঁতি সেইখান দিয়ে চলে গেল। সেই হাতির একটা পায়ের এক পাশ সেই শিকড়ের উপরে পড়েছিল, তাতেই মজস্তালীর পেট ফেটে গিয়ে, বেচারার প্রাণ যায় আর কি!

১7, 44 11771 4 রর

হাসতে হাসতে আমার পেটটাই ফেটে গিয়েছে

অনেকক্ষণ ঝাপার্াগি করে বাঘেরা ভাবল, 'মজন্তালী মশাই না জানি এতক্ষণে কত ০১528542944 জী্তাল মশায়ের কি হল?" ₹্‌

মজন্তালী বললে, 'আর কি হবে? তোরা যে সব ছোট-ছোট ছিলি, দেখে হাসতে-হাসতে আমার পেটই ফেটে গিয়েছে? এই বলে মজন্তালী মরে গেল।

উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র-_-৬ উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র 3৮১

এক পিঁপড়ে ছিল আর তার পিঁপড়ী ছিল, আর তাদের দুজনের মধ্যে ভারি ভাব ছিল।

একদিন পিপড়ী বললে, “দেখ পিঁপড়ে, আমি যদি তোমার আগে মরি, তবে কিন্তু তুমি আমাকে গঙ্গায় নিয়ে ফেলবে। কেমন পিঁপড়ে, ফেলবে তো?”

পিঁপড়ে বললে, "হ্যা পিপড়ী, অবশ্যি ফেলব। আর আমি যদি তোমার আগে মরি, তবে কিন্তু তুমি আমাকে গঙ্গায় নিয়ে ফেলবে। কেমন পিঁপড়ী, ফেলবে তো?

এমনি দুজনের কথাবার্তা হয়েছে, তারপর একদিন পিপড়ী মরে গেল। তখন পিঁপড়ে জনেক কীদল, তারপর ভাবল, “এখন প্িপড়ীকে তো নিয়ে গঙ্গায় ফেলতে হয়।'

এই ভেবে সে গিঁপড়ীকে কাধে করে নিয়ে গঙ্গায় চল্ল। সৈখান থেকে গঙ্গা অনেক দূরে, যেতে অনেক দিন লাগে। পিঁপড়ে পিঁপড়ীকে কীধে নিয়ে সমস্ত দিন চলল। তারপর যখন সম্ব্যা হল, তখন সে দেখল যে সে রাজার হাতিশালে এসেছে-_সেই যেখানে'তীর সব হাতি থাকে! পিঁপড়ের বড্ড পরিশ্রম 'হয়েছিল, তাই সে পিঁপড়ীকে নিয়ে সেইখানে বসে বিশ্রাম করতে লাগল। সেইখানে মস্ত একটা হাতি বাঁধা ছিল, সেটা রাজার পাটহস্তী+ হাতিটা শুঁড় নাড়ছিল, আর ফৌস-ফৌস করে নিঃশ্বাস ফেলছিল, আর তাতে পিঁপড়ীকে সুদ্ধ পিঁপুড়েকে উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। কাজেই পিঁপড়ে রেগে বললে, "খবরদার! হাতি কিন্তু তা শুনতে পেল না। সে আবার নিঃশ্বাস ফেললে, আবার তাতে পিঁপড়েকে উড়িয়ে নিল। তাই পিঁপড়ে আরো রেগে খুব চেচিয়ে বলল, 'এইয়ো! খবরদার ভালো হবে না কিন্তু! হতভাগা, পাজী!

পিপড়ে তার পিঁপড়ীকে কীধে করে নিয়ে গঙ্গায় চলল বট হাতি ভাবলে, 'ভালোরে ভালো, ওখান থেকে কে আমায় চি-টি ?আমি তো কাউকে দেখতে পাচ্ছি না এই বলে সে তার পা দিয়ে সে জায় দিলে!

পিপড়ের তো৷ এখন ভারি বিপদ! সে ভাবলে, “মাগো, এই বুঝি পি গেলুম!'কিন্তু তারপরেই সে দেখলে যে সে পিষে যায়নি, হাতির পায়ের তলায় যে ছোট-ছোট গর্ত থাকে, তারই একটায় ঢুকে সে বেঁচে গিয়েছে, আর পিঁপভ়ীকেও ছাড়েনি।

৮২ উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র

খন আর তার আনন্দ দেখে কে? সেই গর্তের ভিতরে বসে সে হাতির পায়ের মাংস খুঁড়ে গ্ল/গল। যতক্ষণ না সে পিঁপড়ীকে নিয়ে একেবারে হাতির মাথার ভিতরে গিয়ে ঢুকেছিল, ৮1 সে খুঁডতে ছাড়েনি। ৪? কি তাতে ভারি অসুখ হল। সে খালি মাথা! নাড়ে, তার চ্যাচায় আর পাগলের মতন ফ্কা/মু) রে সকলে বললে, 'হায়-হায়! হাতির কি হল? তারা কেউ জানে না যে, হাতির মাথায় 1গখা্ ঢকেছে। যদি জানত আর হাতির পায়ের তলায় খুব করে চিনি মাখাত, তাহলে সে চিনির স% |শপড়ে তখুনি বেরিয়ে আসত। কিন্তু তারা তো আর তা জানে না! তারা বদ্যি ডাকল, ওষুধ শ্বাগ, আর তাতে হাতি মরে গেল। . . .

(80৭ রাত্রে রাজামশাই স্বপ্ন দেখলেন যে, তার হাতি যেন্‌ এসে তাকে বলছে, “মহারাজ, এগার জনে) আমি অনেক খেটেছি। আমাকে নিয়ে_গঙ্গীয় ফেলবে।,

তং রি

আমি হাতিটাকে একলাই নিয়ে যেতে পারি

দলে খুম রে রাজামশাই ুম দিলেন, “আমার হাতিকে নিয়ে শঙ্গায় ফেলতে হবে। যা দিল সেই হাতির পায়ে বেঁধে, তাকে হয়ো! হেরে হেইয়ো” করে

নে দিকে বসে হাপাতে দেখে সেই চাকরটা বললে, “ইঁদুরের মতো একটা হাতি, সাতে ডিশ লোক হাঁপাচ্ছে! আমি হলে ওটাকে একলাই নিয়ে যেতে পারি।” ০)

* শাঞা নেই তো সেই তিনশো! লোক লাফিয়ে উঠল। তারা বড় কথা! গা (তিশা লোক যা পারছিনে, তুই একলাই তা৷ করতে পারবি? রি বিচার না হলে ঞ।নরা আর হাতি টানছি না। চল্‌ বেটা, রাজার কাছে চল্‌, কেমন জোয়ান!”

সেই চাকর বললে, 'আচ্ছা চল্‌ না! আমি কি তোদের জোয়ান? খু মাঠে হাতি ফেলে রেখে তারা সকলে রাজার কাছে এসে বললে, 'দোহাই রাজামশাই, গর 1৯7 ক্ষন! আমরা তিনশো লোক আপনার হাতি টেনে হাঁপিয়ে গেলুম, আর এই বেটা

উপেন্দ্রকিশোর সমপ্র 0 ৮৩

বলছে কিনা, সে একলাই সেটা নিয়ে যেতে পারে এর বিচার না হলে আমরা আপনার হাতি ছৌব না।”

একথা গুনেই রাজামশাই বামুনের চাকরকে বললেন, "কি রে, সত্যি কি তুই হাতি একলা নিয়ে যেতে পারিস?

চাকর জোড়হাতে নমস্কার করে বললে, “মহারাজের যদি হুকুম হয়, তবে পারি বইকি। কিন্তু আগে আমাকে পেট ভরে চারটি খেতে দিতে হবে।”

রাজা বললেন, 'দাও তো ওকে এক সের চাল আর ডাল তরকারি। আগে পেট ভরে খেয়ে নিক, তারপর হাতি নিয়ে যেতে হবে?

তাতে সে চাকর হেসে বললে, “মহারাজ, এক সের চাল তো ঝাডুওয়ালা খায়--তাতে কি হাতি টানা চলে?

রাজা বললেন, 'তবে তুই কি চাস?”

চাকর বললে, "মহারাজ, হস্তে দুটো খাসী আর এক মণ দই হলেই চলবে)

রাজা বললেন, 'আচ্ছা তাই পাবি, কিন্ত খেতে হুবে সব”

চাকর বললে, 'যে আজ্ঞে, মহারাজ!” 5...

বামুনের চাকর সেই দু মণ চালের ভাতআর দু'টো খাসী, আর এক মণ দই দিয়ে পেট ভরে খেয়ে তে। আগে খুব এক চোট ঘুমিয়ে নিল। তারপর নিজের গামছাখানি দিয়ে সেই হাতিটাকে জড়িয়ে, বেশ করে একটি পুটলি বাঁধল। তারপর পুটুলিকে লাঠির আগায় ঝুলিয়ে, সেই লাঠিসুদ্ধ সেই পুটুলি কাধে ফেলল। তারপর গঞ্ডা দশেক পান মুখে গুঁজে গান গাইতে গাইতে গঙ্গায় চলল। কাদের রাামাইিহা সরে হর নালা করের আর সকলে ছুটে বাড়িতে খবর দিতে গেল!

চাকরের কাধে গ!ঈছায় ঝাধা হাতির পু পুটলি

ততক্ষণে সে চাকর অনেক দূরে চলে গিয়েছে, আর খুব চনচনে টৌদ উঠেছে। আরো অনেক দূর গিয়ে চাকর বললে, 'উঃ! কি ভয়ানক রোদ! আমার গলাটা বড্ড শুকিয়ে গেছে, একটু জল খেতে গেলে হত!”

৮৪ উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র

খন/(তই, সে দেখল যে খানিক দূরে একটি পুকুর রয়েছে, সেই পুকুরের ধারে গাছপালার আনন) কুড়ে খর। চাকরটি পুকুরের ধারে তার পুটুলিটি রেখে, সেই ঘরের কাছে গিয়ে ।খা/ন একটি ছোট মেয়ে বসে আছে৷

(শুয়োটকে ঝললে, 'বাছা, আমার বড্ড তেষ্টা পেয়েছে, একটু জল খেতে দেবে? গঞালে, “মোটে এক জালা জল আছে। তোমাকে যদি দিই, তবে বাবা মাঠ থেকে এসে

9 0 ঠা পুকুরে নেমে, চৌ-টো৷ করে তার জল খেতে ল/গল। যতক্ষণ সেই পুকুরে /গণ খালি চো-চো শব্দ শোনা গিয়েছিল! দেখতে-দেখতে সে সেই এক পুকুর জল শাম বল! অল খেতে-খেতে তার পেটটা ফুলে আগে ঢাকের মতো হল, তারপর হাতির (শেখে একেবারে পাহাড়ের মতো হয়ে: গেল।২এমনি করে পুকুরের সব জল খেয়ে গন এশা দেখল যে, সে জল আর কিছুতেই তার.পেটে থাকতে চাচ্ছে না। তখন সে আর 1, াড়।তাড়ি একটা বটগাছ গিলে ফেললে।.(সই বটগাছ তার গলার মাঝামাঝি গিয়ে 1: আটকে রইল--জল আর বেরুতে. পারল না! [শের চাকর খুব খুশি হয়ে,,সেই পুকুরের ধারে শুয়ে বিশ্রাম করতে লাগল। তার | ানগ॥ছের চেয়েও উচু হয়ে উঠল, যেন একটা পাহাড়! সেই মেয়েটির বাপ তখন মাঠে (স সেই পাহাড়ের মতো. পেট দেখে ভাবল, “বাবা, না জানি ওটা কি! বলে সে শাড়িতে ছুটে এল। 71৬ আসতেই তার মেয়ে বললে, 'বাবা, বাবা, দেখ কি দুষ্টু লোক! আমার কাছে জল খর এক জালা বই জল নেই,'ওকে দিলে তুমি এসে কি খাবে? তাই আমি জল দিইনি খামার পুকুরের সব জল খেয়ে. ফেলেছে শপতে তারা দুজনে সেই চাকরের কাছে এল। সেখানে এসে সে মেয়েটি ভয়ানক নাক শপলে, উঃ, সুই! কি গন্ধ! দেখ বাবা, একটা পচা ইদুর না কি পুটুলিতে বেঁধে এনেছে!” £ 99 (স এক হাতে নীকে কাপড় দিয়ে, আর এক হাতের দু-আঙুলে সেই হাতিসুদ্ধ পুটুলিটা সুজ মল দিল। গে পুটুলি পড়ল গিয়ে একেবারে সেই গঙ্গায়! ধাপ করেছে কি! কষে কোমর বেঁধে মুখ খামুটি করে মেরেছে বামুনের চাকরের রা যেমন তেমন লাথি! লাথির চোটে, 8৮1 পেটের

বাল রিনিতা রিমি জোদাকলি বত রন হলে সেই মেয়ের বাপ বললে, “আরে ভাই, তোর মতন জোয়ান তো আর এক পুকুর জল খেয়ে সব শেষ করলি! শাঘুণেন চাকর ঝললে, "ভাই, তোর মতন জোয়ানও তো আমি আর কোথাও দহ আিতে, আমর পেট হালকা করে দিলি!” রি গণ নিয়ে তখন তাদের মধ্যে ভারি তর্ক আরম্ত হল। বলে তুই, বেনি্টোয়ান, বলে ডোয়ান। এখন কার কথা ঠিক, তা কে বলবে!

৭৭ তর্ক করে তারা এই ঠিক করলে, 'চল একটা খুব বড় গিয়ে দুজনে কৃত্তি লড়ি, (নখ! যাবে কে বেশি জোয়ান!

।& বলে তারা দুজন কুস্তি লড়তে বাজারে চলেছে, এমন সময় এক মেছুনীর সঙ্গে তাদের শী চে মেছুনী খুড়িতে করে মাছ নিয়ে বাজারে বেচতে যাচ্ছিল। তাদের দুজনকে দেখে

উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র ) ৮৫

জিগগেস করলে, হ্যা গা, তোমরা কোথা যাচ্ছ?

তার বললে, “বাজারে যাচ্ছি, কুস্তি লড়তে?

তা শুনে মেছুনী বললে, “বাজার তো ঢের দূর বাছা, এত কষ্ট করে তোরা সেখানে যাবি কি করতে? তার চেয়ে আমার ঝুঁড়ির ভিতর এসে কুত্তি কর। কুস্তি করতে-করতে যার দিকে ঝুড়ি ঝুঁকে পড়বে, আমি জানব তারই হার হয়েছে

শুনে তারা দুজনে বললে, “বাঃ, বেশ কথা! কুস্তিও করতে পাব, হাটতেও হবে নাঃ

এই বলে তার৷ মেছুনীর ঝুড়িতে ঢুকে কুম্তি আরম্ত করল, আর মেছুনী সেই ঝুড়ি মাথায় করে বাজারে চলল।

এমন সময় এক কাণ্ড হয়েছে। সেই দেশে এক সর্বনেশে চিল থাকত। সে গরু, যহিষ, হাতি, ঘোড়া যা পেত তাই ধরে গিলত। খালি সেই মেছুনীর.কাঁছে সে জব্দ ছিল। মেছুনীর ঝুড়ি ধরতে এলেই, মেছুনী তাকে এমনি বকুনি দিত যে, সে পালাবার-প্রথ পেত না। কিন্তু তাতে তার' রাগ আরো বেড়ে যেত আর সে ভাবত যে, যেমন করেই হোক একদিন ঝুড়িটা কেড়ে নিতেই হবে।

সেদিনও' সেই চিল খাবার খুঁজতে বেরিয়েছে, দূর.থেকে তার পাখার শো-শে! শব শোনা যাচ্ছে। টি

২৫৯৮ দাসী, দেখ দেখ আমার চোখে কি পড়েছে €৯ আব , "সর্বনাশ! প্র সেই চিল আসছে, আমার মোষ খেয়ে ফেলবে। এখন কি করি? ২৯

এই ভেবে গোয়ালা সেই সাতশো মোষ ট্যাকে গুঁজে নিয়ে, ভৌ-€ বাড়ির পানে ছুটল। বাড়ির লোক জিগগেস করল, “কি হয়েছে? অত যে ছুটে এলে?

সে বললে, 'ছুটব না! চিল আসছে যে, আমার মোষ খেয়ে ফেলবে।,

তারা বললে, তবে মোয কোথায় রেখে এলে?”

৮৬ উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র

€স বললে, “রেখে আসব কেন? সঙ্গে এনেছি।'

তার। বললে, "তবে কই মোষ?”

(স বললে, এই দেখ না।”

খলে সে ট্যাক খুলে দিলে, আর সাতশো মোষ তার ভিতর থেকে বেরিয়ে এল।

ত। দেখে তারা খুব খুশি হয়ে বললে, “ভাগ্যিস তুমি ট্যাকে করে নিয়ে এসেছিলে, নইলে আজ শপ খেধ খেয়ে ফেলত ।'

খৈহ্‌ চিল তো খাবার খুঁজতেই বেরিয়েছে, আর মেছুনীর ঝুঁড়ির ভিতর থেকে দুই পালোয়ান প্ষ্উ পড়ছে। মেছুনী খালি তাদের কথাই ভাবছে, চিলের কথা৷ আর তার মনে নেই। ঠিক এমনি মগ। চিল তাকে দেখতে পেয়ে ছোঁ মেরে তার মাথা থেকে ঝুড়ি নিয়ে পালাল।

গেই দেশের রাজার মেয়ে ছাতে বসেছিলেন। দাসী তার চুল আঁচড়ে দিচ্ছিল।

গাজার মেয়ে আকাশের দিকে চেয়ে দেখছেন, এমন সময় তার চোখে কি যেন পড়ল।

গাজার মেয়ে চোখ বুজে বললেন, 'দাসী, দেখ দেখ, আমার চোখে কি পড়েছে!”

দ!সী। কাপড়ের কোণ পাকিয়ে, তাতে থুথু লাগিয়ে,তাই দিয়ে রাজকন্যার চোখের ভিতর থেকে ক্র ৮মতকার একটি ছোট্ট কালো৷ জিনিস বার করলে।

ক্জকন্য। বললেন, “কি সুন্দর! কি সুন্দর! দাসী, এটা কি?

সী বলতে পারলে না সেটা কি। বাড়ির ভিতরের সকলে দেখলে, কেউ ধলতে পারলে না টা! কি। রাজা এলেন, মন্ত্রী এলেন, তারাও বলতে পারলেন না সেটা কি।

তখন রাজা বড়-বড় পণ্ডিতদের ডাকিয়ে আনলেন।

৩1%র কাছে এমন সব কল ছিল; যা! দিয়ে পিঁপড়েটাকে হাতির মতন দেখা যায়। সেই কলের 1৬তন দিয়ে দেখে তারা বললেন, “এটা, তো দেখছি একটা ঝুঁড়ি, তার ভিতরে কতকগুলি মাছ আছে, 'াগ গুন লোক কুত্তি লড়ছে। .

3৪৯

রড

উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র ৮৭

পিঁপড়ে আর পিঁপড়ীর কথা

এক পিঁপড়ে, আর তার গিপড়ী ছিল। পিঁপড়ী বললে, 'গপড়ে, আমি বাপের বাড়ি যাব, নৌকো নিয়ে এস।' পিপড়ে একটি ধানের খোস৷ ভাসিয়ে নিয়ে এল। পিপড়ী তা দেখে বললে, “কি সুন্দর নৌকো! এস পিঁপড়ে, আমাকে বাপের বাড়ি নিয়ে চল।” পিপড়ে আর পিঁপড়ী ধানের খোসার নৌকোয় উঠে বসে, নৌকো! ছেড়ে দিল। খানিক দূরে গিয়ে সেই নৌকো চড়ায় আটকে গেল! তখন পিঁপড়ে বললে, 'গিপড়ী, আমিও ঠেলি, তুমিও ঠেল! আমার কথাও ফুরিয়ে গেল!

৮৮ উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র

৪, সমগ্র ৮৯

সহজে কি বড়লোক হওয়া যায়?

ছেলেবেলায় একটু একটু একরুঁয়েমো প্রায় সকলেরই থাকে। আমার কণা শুনিয়া কেহ চটিবেন না।চটিলেও বড় একটা অসুবিধা বোধ করিব না। অনেকের অভ্যাস আছে, তাহারা খাঁটি কথা শুনিলে বিরক্ত হয়, কিন্তু কাহাকেও বিরক্ত করা আমার উদ্দেশ্য নহে। আমার নিজের দশ! দ্রেখিয়াই ভামি উপরের কথাগুলিতে বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছি।

ছেলেমানুষের একটা রোগ আছে। জনেক কাজ তাহারা আপনা আপনি করিয় অন্য লোককে বিরন্ত করে, আবার যদি কেহ সেই কাজ তাহাদিগকে করিভে বলিল, অমনি সেই কাজের মিষ্টতবটুকু তাহাদের নিকট হইতে চলিয়া ায়। দাদ! গ্রথম বই পড়িতে শিখিয়াছে, তার বইয়ে সুন্দর সুন্দর ছবি। পড়িবার সময় দাদা বই খুঁজিয়া পাইত না। আমার চোখ পড়িলেই আমি বইখানা হস্তে করিয়া, কেহ খুঁজিয়া না পায় এমন কোনো জায়গায় যাইয়৷ বসিতাম|.শেষে, একদিন শুনিলাম বইখানা আমারও পড়িতে হইবে। আমার আনন্দের সীমা রহিল নাও তখনই দৌড়িয়া যাইয়া সঙ্গীদের সকলকে খবরটা দিয়া আসিলাম। পরদিন্‌ মাষ্টার আসিলেই বই.হাতে করিয়া হাজির। মনে করিলাম, প্রথম ছবিটার কথা আজ হইবে। মাস্টার প্রথম ছবির পাতে একটু আদিলেনও না-_ছবিশূন্য একটা পাতা উল্টাইয়া, এ, বি, সি, ডি করিয়া কি বলিতে লাগিলেন! তখন: হইতে আর সেই বই আমার ভাল লাগিল না।

দাদা ইস্কুলে যাইবার সময় মাঝে মাঝে আমাকে সঙ্গে করিয়া নিয়া যাইত। দাদাদের মাস্টার বড় ভালমানুষ। আমি মনে করিলাম, ইস্কুলের সকল মাষ্টারই বুঝি এরূপ বাড়িতে তিন বছর থাকিয়া কয়েকখানা বই শেষ করিলাম। তাহার পর.আমাকেও স্কুলে পাঠাইয়া দিল। কয়েক বছর বেশ চলিতে লাগিলাম ; কিন্তু মাষ্টারকে আর তত-ভাল লাগে না। কবে বড়মানুয হইয়া ইস্কুল ছাড়িয়া দিব, এই চিন্তাটা বড় বেশি মনে হইত। তখন তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ি, ইংরাজি যে কয়েকখানা বই পড়িয়াছিলাম তাহার একখানিতে এক সাহেবের কথা লেখা ছিল। তিনি বাড়ি ছাড়িয়া বিদেশে গিয়াছিলেন, সেখানে অনেক কষ্ট ভোগ করিয়া শৈষটা অনেক টাকা করিয়াছিলেন। সাহেব যে বয়সে বাড়ি ছাড়িয়াছিলেন, মিলাইয়া দেখিলাম আমীরও এখন ঠিক সেই বয়স। তবে আর চাই কি! ক্লাসে সতীশের সঙ্গে আমার বড় ভাব ; আমি সতীশের কাছে মনের কথাগুলি খুলিয়া বলিয়া ফেলিলাম। কথা শুনিয়া সতীশ যেন আর তার ছোট শরীরটির মধ্যে আটে না। তখনই সে লাফাইয়া উঠিল। বোধ হইল বাড়ি হইতে বিদেশে চলিয়া গেলেই বড়লোক হওয়া যাইবে সতীশ বলিল, 'কালই চল।” কাল চলটি! তত সহজ বোধ হইল না। কিন্তু বেশি:দেরি করা হইবে না, সেটা ঠিক কর! হইল।

একদিন ইস্কুল হইতে ছুটি লইয়া বাড়ি আসিলাম; সতীশও আসিল। বাবা বাড়ি ছিলেন না। বাড়ির অন্যান্য লোকগু-ছুঁপ করিয়া বিশ্রাম করিতেছিল। টুপি চুপি কয়েকখানা কাপড় দিয়া একটি বাঁধিলাম। তারপর বাবার বাক্স হইতে কতকগুলি টাকা লইয়! দুজনে চোরের মত বাড়ির বাহির পাছে কেহ আসিয়া ধরে, সেই ভয়ে দুজনে মাঝে মাঝে দৌড়াইতে লাগিলাম। এইরাপে রত হাঁটিয় এক বাড়িতে যাইয়৷ উঠিলাম।

সেই বাড়ির কর্তা আমাদের অবস্থা দেখিয়া বড় দুঃখিত হইলেন; সমগ্ত জিজ্ঞাসা করিতে লাগিলেন। আমরা কোনো কথারই ঠিক উত্তর কথা গড়িয়া কহিতে হইল। তিনি আমাদের কথায় বুঝিয়৷ লইলেন

৯০ উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র

খা্িতেছি। বলিলেন, 'কাল আমি একজন লোক দিয়া তোমাদের দুজনকে বাড়ি পাঠাইয়া দিব।”

খাইবার সময় ভদ্রলোকটি আমাদের সম্মুখে বসিয়া থাকিলেন, আমাদের আহার শেষ না হওয়া গর উঠিলেন না। একটি কুঠুরিতে আমাদের দুজনের ঘুমাইবার বন্দোবস্ত করিয়া দেওয়া হইল। (খন আর কেহ ঘুমাইতে আসিল না। ভামি কিছু সুবিধা বোধ করিলাম ; ভাবিলাম কর্তা যাহা শা্িগেন ভাহা কাজে করিলে আর বড়লোক হওয়া হইবে না; সুতরাং কেহ জাগিবার পূর্বে কর্তাকে পাদ ন। দিয়া চলিয়। যাওয়! ঠিক হইল। সতীশকে ডাকিলাম, 'সতীশ! সতীশ! সতীশ কথা কয় ন1। গতাশের চক্ষে জল পড়িতেছে! কর্তার কথায় সতীশের মন ফিরিয় গেল নাকি? বাস্তবিকও তাই, গণ, গীড়াপীড়ি করার পর বলিল, 'আমি তোমার সঙ্গে যাইব না।' আপনার! কি মনে করিতেছেন? নঠী/শর কথা শুনিয়া আমার মনের ভাব কিপ্রকার হইল? বড়লোক হওয়ার ইচ্ছাট। আমার এত বেশি £৮%ছগ যে, বাড়ি ছাড়িয়া অবধি আমার বোধ হইতেছিল্‌-_যেন বড়লোকের কাছাকাছি একটা কিছু ₹৪%|! সতীশকে আমি কাপুরুব মনে করিতে লাগিলাম। সতীশের মা বাপ আছে, আমারও মা বাপ »।1%৭। প্রভেদ এই যে আমি স্বার্থপর ; সতীশ তাহা নহৈ।সতীশের মনে যে-সকল চিন্তা উঠিতেছিল, গএ।গা? অগ্তঃকরণে তাহা স্থান পাইল না। আমি সতীশের অবস্থা বুঝিতে পারিলাম না। ম৷ বাপের মনে পণ দেওয়। আমার ইচ্ছা ছিল না; কিন্ত নিজের কথা লইয়া এত ব্যস্ত ছিলাম যে তাহাদের কথা ভাবিবার ণসরই পাই নাই। নানা চিন্তার মধ্যে ঘুম আসিল!

গুমাইতে ঘুমাইতে স্বপ্র দেখিলাম যে, আমি বাড়িতে কি একটা কথ লইয়! মার সঙ্গে রাগারাগি শারিয়ছি, মা কত সাধিতেছেন, আমার ভূক্ষেপ নাই; রাগ যেন ক্রমেই বাড়িতেছে। মার চক্ষে জল শাড়িতেছে দেখিয়া যেন আমার প্রতিহিংসার ভাবট। চরিতার্থ হইতে লাগিল। আমি দীত খিচাইয়া মাকে নি!প করিতে লাগিলাম। মা আমার হাত ধরিতে আসিলেন ; আমি পাশের একটা গাছে উঠিতে চেষ্টা গণনাগম। হঠাৎ পা পিছলাইয়া পড়িয়া যাইতেছিলাম ; এমন সময় আমার ঘুম ভাঙিয়া গেল। স্বপ্নের শখ ভাবিয়া চক্ষে দুর্ফোটা জল আসিল কিন্তু আবার সেই বড়লোক হওয়ার কথা! সতীশের মন 1/1?যা গিয়াছে। সতীশ জাগিয়া আর যাইতে চাহিবে না, হয়ত আমারও যাওয়া হইবে না। রাত হয়ত | বেশি নাই ; এইবেলা সতীশকে বলিয়া যাওয়াই ভাল। আমি আস্তে আস্তে উঠিলাম। আমার শ/ণঙ আর টাকাগুলি লইয়া বাহির হইলাম। রাত্রি তখনো অনেক ছিল, কিন্তু আমার বোধ হইতে দা|গিণ যেন এই ভোর হইয়া আসিতেছে। একট! বড় রাস্তা ধরিয়া চলিলাম। অনেকক্ষণ হীঁটিলাম, শিপ রাত ফুরায় না। রাস্তাটা একটা বড় নদীর ধারে যাইয়া শেষ হইয়াছে; আমিও সেইখানে যাইয়া ধাগিলাম-_তারপর যাই কোথা? রাস্তাটা নিশ্চয় ওপারে যাইয়া আবার চলিয়াছে, কিন্তু ওপারে যাই (খনন করিয়া? এতক্ষণ রাত ফুরাইল না। হয়ত আরো ভানেক দেরি। ঘাটে একখানি নৌক। বাঁধা ফিএ--নৌকার ছই াই। একজন লোককে অনায়াসে ওরূপ নৌকা অনেকবার চালাইতে দেখিয়াছি, আমর বোধ হইতে লাগিল, আমিও পারি। নৌকায় উঠিতে বিলম্ব হইল না। যে লগিটিতে নৌকা! নাধ। ছিল, তাহা তুলিয়া লইলাম। ডাঙ্গায় ভর করিয়া ঠেলিয়া নৌকা জলে ভাসাইয়া দিলাম। জলের গা) এত জোর আগে ভাবি নাই। শো শৌ করিয়া নৌকার গায় জল বাধিতে লাগিল; নৌকা গুপ্রিয়। গেল। হঠাৎ ঘুরিবার সময় তাড়াতাড়ি লগিটি ছাড়িয়া দিলাম। নৌকা ঘুরিয়া রিয়া ডগ! নেক দুরে যাইয়া পড়িল__সআ্রোতে ভয়ানক বেগের সহিত ভাসিয়া যাইতে লাগিল টাল $তবুদ্ধি হইয়া থাকিলাম।

বিপদের পরিমাণটা প্রথম তত বুঝি নাই, শেষে কিছু কিছু করিয়া ইস গিল। মাথা ঘুরিয়া (গেল। দুহাতে চোখ ঢাকিয়া বসিয়া পড়িলাম। ঢেউগ্ডলি তড়াক করিয়া নৌকাখানিকে (দা্লাইতে লাগিল, তখন মায়ের সেই মুখখানি মনে হইল। কেন বাঁচি ছাড়িয়া আসিলাম? সেই অগ্দকার রাত্রি, ভয়ানক নদী, আর বাড়ির ছোট কুঠুরীটি-_-সেই কোমল সুন্দর বিছানাটি মনে হইল। [$ চক্ষে জল পড়িতে লাগিল। সেই আঁধারে পড়িয়া, মা মা বলিয়া কাদিতে লাগিলাম। কেন সতীশের

উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র 0 ৯১

সঙ্গে গেলাম না? তাহাকে কেন ছাড়িয়া আসিলাম?

এইভাবে কতক্ষণ ছিলাম বলিতে পারি না। হঠাৎ নৌকাখানি একদিকে যাইয়া ঠেকিল। চমকিয়া দেখিলাম, কতকগুলি বড় বড় নৌকা, তাহাঁরি একটাতে আমার নৌকা ঠেকিয়াছে। আমি সেই মুহূর্তের জন্য জাশ্ব হইলাম। কিন্তু তার পরক্ষণেই নৌকা হইতে কতকগুলি কালো অর্ধ-উলঙ্গ লোক বাহির হইয়া কেউ যেঁউ করিয়া কি বলিতে লাগিল। আমি বুঝিতে পারিলাম আমাকে গালি দিতেছেঞ্ক তাহারা আমার কথা বুঝিল বলিয়া বোধ হইল না আরো বেশি গালাগালি দিতে লাগিল। ত্রুমে অন্যান্য নৌকার লোক আসিয়া গোলমালে যোগ দ্রিল। আমার কথা গুনিয়া সকলেই লোকগুলিকে গালি দিতে লাগিল। একটি ভদ্রলোক সেখানে ছিলেন; তিনি দয়া করিয়া আমাকে তাহার নৌকায় লইয়া গেলেন, নিজ হাতে আমার পুঁটলিটি যত্ব সহকারে এককোণে রাখিয়া দিলেন। তারপর আমাকে বলিলেন, 'আমি কা-_যাইতেছি; তোমার আপত্তি না থাকিলে আমার সঙ্গে যাইতে পার, আমার বাড়িতে কোন ক্লেশ হইবে না।' আমি তাহার সঙ্গেই চলিলাম।

কা--ছোট একটিশহরের মত।অনেক লোক।বনতুীটিওিনেকগুলি আছেন আমিরাঁহারসঙগ গিয়াছিলাম, তাহাকে এখানে কালিদাসবাবু বলিব, তিনিও একজন বড়লোক। এই-সব দেখিয়া শুনিয়া আমার পুরাতন রোগ আবার দেখা দিল। আমি ভাবিতে_লাগিলাম, এখানে থাকিয়া বড়লোক হওয়া যায় কি? যায় বইকি।না হইলে ইহার! এত গাড়ি চড়ে কি করিয়া? বোধ হইল যেন কালিদাসবাবুর বাড়িতে থাকিয়া থাকিয়া হঠাৎ একদিন বড়লোক হইয়া যাইব। একদিন কালিদাসবাবু ডাকিলেন। কালিদাসবাবুর উপর প্রথম হইতেই আমার বড় শ্রদ্ধা হইয়াছিল। যখনই তিনি আমাকে ডাকিতেন, তখনই একখানা সুন্দর কিছু উপহার পাইতাম) আমার বয়সের অনেকেই এখন ভাল কাজ করিতেছেন; কিন্তু আমার যেন তখনো শি্ড ভাবটা যায় নাই। কালিদাসবাবুও তাহা বেশ বুঝিতেন। যাহা হউক দি ০০8৮ “গিরিশ, এখানে তোমার কেমন লাগে?

“দিব্যি।

“বটে? তা এখান থেকে তোমার-আর কোথাও যেতে ইচ্ছে হয় না?"

“কোথায় যাব? এখানেই থাকর)

'তা বেশ বলিয়া,কালিদাসবাবু কপাল হইতে চশম। নামাইয়! ছাপার কাগজ পড়িতে লাগিলেন। কাগজের প্রথম পাতে একটি ছবি। আমার সেই সাহেব! আমি একটু আশ্চর্য হইলাম। অনেকদিন পরে কোনো পরিচিত বর সাক্গাৎ পাইলে যেরূপ হয়, আমারও সেইরূপ হইল। একটি ছোঁট কথ! আমার মুখ দিয়া বাহির হইল আমি বলিয়া উঠিলাম, 'আরে!' কালিদাসবাবু কাগজ নামাইয়া আমার মুখের দিকে চাহিলেন। তাহার অর্থ, ব্যাপারখানা কি?

সত কবি লক কিসবইং হয় বইকি। ইচ্ছে করলে তুমিও হতে পার। (১ 'আমি পারি? ০5 'অবিশ্যি। কাল থেকে পে লে দে কি খান

হওয়া যায় না। তাই তোমাকে ডেকেছিলাম। কেমন?” আমার বাতাসের ঘর ভাঙিয়া গেল। যার চোটে বাড়ি ছাড়া, সেই

না। কালিদাসবাবু এতে সন্দেহ করেন নাই, সুতরাং কিছু বলিলেন না| এরূপ কথাবার্তা কালিদাসবাবুতে আর আমাতে অনেকদিন হইত। তিনি আমার অবস্থার কথা জিজ্ঞাসা করিতেন ;“সেই রাত্রিতে নৌকায়

৯২ 0 উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র

(কমন করিয়া আসিলে!, “বাড়ি কোথ?£ “মা থাপ নাই? ইত্যাদি__আধি প্রায়ই চুপ করিয়া থাকিতাম। কাগিদাসবাবুর ইচ্ছা ছিল, সুযোগ পাইলেই আমাকে বাড়ি পাঠাইয়া দিবেন। কিন্তু এ-সব সম্বন্ধে কোনো খবরই আমি তাহাকে দিতে চাহিতাম না। তখন তিনি সে-সব বিষয়ে ক্ষান্ত হইয়া সেখানেই আমাকে [নখাগড়া শিখাইবার ঘনস্থ করিলেন।

ইস্কুল যাইয়া অবধি আমার আর মনে শাস্তি ছিল না। কয়েকদিন কোনো৷ মতে কাটাইলম, কিন্তু (শযটা অসহা হইয়া উঠিল। কালিদাসবাবুর বাড়িতে থাকা হইবে ন1। কিন্তু হঠাৎ যাই কোথায়? (গলেও আর এবার হাঁটিয়া যাওয়৷ হইবে না কা__হইতে দুখানা স্টিমার ধূু-_-তে যাতায়াত করিত। ১হে দুদিন স্টিমার চলে। ধু-_যাইতে তিনদিন লাগে। হিন্দুরা এই তিনদিনের চিড়ে পুটলি-বাঁধিয়া শইয়। জাহাজে উঠে। ভোরবেলা জাহাজ ছাড়ে।

একদিন নদীর ধারে বেড়াইতে যাইয়া দেখি একখানা.স্টিমার এইমাত্র ঘাটে আসিয়া থামিল। পরের দিন ভোরে চলিয়া যাইবে। হঠাৎ স্টিমারে উঠিয়া ধু-_চলিয়া'যাইতে আমার বড় ইচ্ছা হইতে লাগিল। খড় আসিয়! কেহ না দেখে এমন ভাবে আমার কাপড়-চোপড় সব একত্র জড় করিলাম। শলিদাসবাবুর ধাড়ি আসিবার কালে সঙ্গে করিয়া যে টাকা আনিয়াছিলাম, তাহার একটিও ব্যয় হয় নাহ। কালিদাসবাবুও মাঝে মাঝে আমার ইচ্ছামত খরচ.করিবার জন্য দু-একটি টাকা দিতেন। আমি মমগুই স্ঞ্চয় করিতাম। শুনিয়াছিলাম, বড়লোকৈরা! সহজে টাকা খরচ করিতে চাহে না।

যাত্রার উপযোগী সকল জিনিস প্রস্তুত রাখিয়া! ঘুমাইলাম। মনে একটা চিন্ত। থাকিলে সহজে ঘুম হয় না, ঘুম হইলেও শীঘ্ই ভাঙিয়া যায়।জ্মামারও তাই হইল, বড় কামরার ঘড়িতে চারটা বাজিল, মি অমনি উঠিলাম। সঙ্গে পুটুলিটি। পুঁটুলিতে কয়েকখানা কাপড়, একজোড়া চ্টী-জুতো, নগদ কিছু ট।কা, কালিদাসবাবু মাঝে মাঝে যে উপহার দ্রিতেন সেগুলি-_কয়েকখান! ছবি, একট। বড় ছুরি আর মার স্কুলের পুস্তকগুলি। পুত্তকগুলি কেন সঙ্গে লইলাম ঠিক বলিতে পারি না; তবে কালিদাসবাবু খলিয়াছিলেন, "লেখাপড়া না শিখলে বড়লোক হওয়া যায় না।' তাহাতেই মনে কেমন একটা ভয় রহিয়া গিয়াছিল। এইরূপ সাজ-সজ্জা. করিয়া ছাতাটি হাতে করিয়া, বিছানার চাদরখানা পুটুলির উপর াড়াইয়৷ আস্তে বাহির হইলাম, স্টিমার ঘাটে আসিতে অধিকক্ষণ লাগিল না। সেখানেই মুদীর দোকান আছে, সেই দোকান হইতে চিড়ে.কিনিয়া বিছানার চাদরের এক কোণে বাঁধিয়। লইয়া, জাহাজের একজন লোক আমাকে একটা-জায়গা দেখাইয়৷ দিল, আমি সেইখানে যাইয়া বসিলাম। জাহাজে বিশেষ কিছু ঘটনা হইল না।ত্বে সঙ্গে যে টাকা জানিয়াছিলাম, তাহা প্রায় শেষ হইয়া আসিল। নিয়মিত মময় জাহাজ ধু__পৌঁছিল।

রামলোচনবাকু আমাদের ওদিককার লোক, তিনি ধু-_তে থাকেন, সেখানকার একজন নামজাদা

উ্ীল। আমি ভাবিলাম দেশের একজন লোক, তার কাছে গেলে তিনি অবশ্যই কিছু খাতির করিবেন জাহাজ হইতে তীরে উঠিয়াই তাহার কথা জিজ্ঞাসা করিলাস। একটি ভদ্রলোক তাহার বাড়ি দেখাইয়া দিলেন। আমি আতৈ আস্তে বাড়ির একজন চাকরের মত লোককে যাইয়া জিজ্ঞাসা করিলাম্‌ 'রামলোচনবাবুর শ্রই বাড়ি? সে লোকটা আমার কথার উত্তর নেওয়া দূরে থাকুক, আমার দি একবার ফিরিয়াও চাহিল ন|। মুখ বিকৃত করিয়! একটা বড় ঘরে চলিয়া গেল। আগত্যা ] লেকের আ-্রয় গ্রহণ করিলাম। সে যাহা বলিল তাহাতে জানিলাম, আমি যাহাকের চাকর মনে করিয়াছিলাম, তিনিই রামলোচনবাবু। তাই অত রাগ! আমি ভয়ে ভু ্ললোচনবাবুর খরের দরজায় দীড়াইলাম। তিনি একটা তাকিয়া ঠেস দিয়া বসিয়া রহিয়াছেৰ্গত দোখি নাই। মোটা বেশি নন, কিন্ত প্রায় বুকের উপর কাপড় পরেন রি অধিকাংশ পাকিয়া গিয়াছে। কানে একটা কলম, হাঁটুর উপর পর্যস্তঠকাপড় ট্ানিয়া বসিয়াছেন। উরুদেশের উপর একটা লম্বা খাতা রাখিয়া তাহাই দেখিতেছেন, আর মাঝে মাঝে কাহার উদ্দেশ্যে মুখ বীকাইতেছেন। তাকিয়ার একটা অংশ কলম মুছিবার স্থান বলিয়। বোধ হইল। কিছুকাল পরে

উপেন্দ্রকিশোর সমপ্র ৯৩

দেখিলাম যে তাহা নহে। পাশে একটি মাটির দোয়াত, তাহা হইতে াঁটিয়া এক কলম লইয়া খাতায় যেন কি লিখিলেন। তারপর কলমটি মাথায় চুলে ঘসিয়া কানে বসাইয়। হাতের দুটি আঙুল তাকিয়ার স্থানটিতে পুছিলেন। তার পরক্ষণেই এক হাতের কনুই তাকিয়ার উপর রাখিয়া, একখান! পা আমার দিকে বাড়াইয়! 'ভাউ” শব্দে উদগার করিলেন। শেষটা আমার দিকে মুখ তুলিয়। চাহিলেন। প্রথম প্রশ্ন হিন্দী ভাষায় হইল; তাহার পর বাঙলা।

একি চাই?

'আত্তে আমি অনেক দূর থেকে এসেছি__"

“আমিও আনেক দূর থেকে এসেছি”

'আমার নিবাস সু

“আমারও নিবাস সু-_। তারপর ?

মহাশয় যদি-+ উট

“মহাশয় যদি? কি__ঞ্_ৎ সাহায্য দি হস্তের ব্যপার আমার কাছে নাই। হিয়াসে চলে যাও।”

আমি আর এক মুহূর্তও সেখানে বিলম্ব করিলাম নী। কোথা যাইব ঠিক নাই, কিস্তুরামলোচনবাবুর বাড়িতে আর পদার্পণ করা হইবে না। রাস্তায় বাহির. হইয়া! একজনের কাছে জিজ্ঞাসা করিলাম, তিনি বলিলেন, “যে কোন মুদীকে পয়সা দিলেই থাকবার জায়গা আর খেতে দেবে।" মুদীর দোকান খুঁজিয়া লওয়! কঠিন বোধ হইল না। দুদিন মুদীর দোকানে খাইলাম। কিন্তু এরূপ ভাবে খাইলে বেশিদিন পয়সায় কুলাইবে না, এই চিন্তায় রাত্রিতে ঘুম হয় ন!। একদিন গ্রাতঃকালে উঠিয়া মুদীর পয়সা হিসাব করিয়া দিলাম। তারপর পুটুলিটি হাতে করিয়। বাহির হইলাম রাস্তায় কতদূর হাঁটিয়া দেখি, একটা বড় বাড়ি। বাড়ির কর্তা রামলোচনরাবুর মত নাও হইতে পারেন। আস্তে আস্তে বৈঠকখানার দিকে গিয়া দেখিলাম কর্তা বসিয়া আছেন, আর্‌ ইয়ার গোছের একটা অভ্যাগত লোক তাহার সহিত কথা কহিতেছেন। আমি দাঁড়াইবামাত্রই কর্তা জিজ্ঞাসা করিলেন, “তুমি কে বাপু?”

আমি।__'আমি পথিক, কষ্ট্রে পড়েছি_।'

ইয়ার।-বড় খিদে পেয়েছে বুঝি ?”

আমি কোন উত্তর করিলাম ন! ; ইয়ার-বাবু উত্তর দিকে আঙুল নির্দেশ করিয়া চোখ বড় করিয়া মাথা নাড়িয়া বলিতে লাগিলেন__

“হোটেল আছে, হোটেল। বাবুরচি লোক দিব্যি রীধে__রোজ পাঁচ টাকাতেই চলে।”

আমি নিরাশ হইয়া বাবুর দিকে তাকাইলাম, বাবু ইয়ারের উপর অত্যন্ত রাগ করিয়া বলিলেন, “নিজের বাড়িতে একটি লোককে খেতে দিতে পার না, আবার অন্য লোকের বাড়ি এসে চাষামো কর। আর আমার ঝাড়ি এসো না।' বলা বাহুল্য, বাবুর উপর আমার ভক্তি, শ্রদ্ধা, ভালবাসা, সম্মান ইত্যাদি যত হইতে-গারে, সব কটা জন্মিয়া গেল। বাবু আমাকে বলিলেন, 'তোমার অন্য কোনরূপ কষ্ট হ'লে আমার বাড়িতে তোমার থাকবার জায়গা আর খাবার বন্দোবস্ত হতে পারে।'

'আতজ্ঞে মি অমনি থাকতে চাই নে। আপনার কিছু কাজ করে দেব, তার পরিবর্তে থাবার দেন, তা হলে ভাল হয়।' (৪১

উত্তম! তুমি ইংরাজি লিখতে পার?

'কিছু কিছু ইংরাজি পড়েছিলাম বটে, কিন্তু ভাল লেখ পচ

“কতদূর পড়েছ?'

আমি বলিলাম।

“বেশ! তাতেই হবে।”

আমি বাবুর ঝাড়ি রহিলাম। কাজের মধ্যে এই, বাবুর চিঠিপত্র সব একটা নকল করিয়া রাখিতে হয়।

৯৪ 0 উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র

এখ/নে থাকিয়া মাঝে মাঝে বাড়ির কথা ভাবিতাম। বড়লোক হইবার জন্য কত কষ্ট পাইলাম, কিন্তু শড়গোক হইবার লক্ষণ দেখিতেছিনা। কেবল বাড়ি হইতে চলিয়া! আসিলেইকি বড়লোক হওয়া যায়? আবে। কিছু চাই, আমার তাহা নাই। এইরূপ যতই ভাবিতে লাগিলাম, ততই বাড়ি ফিরিয়া! যাইবার ইচ্ছা £ই(ত লাগিল। শেষটা ঠিক করিলাম বাড়ি যাইতে হইবে। আমার হাঁতে যে কিছু টাকা আছে, তাহাতে খরটা চলিবে না। সুতরাং এবার স্টিমারে যাওয়া হইবে না। বৈ_ তীর্থ এখান হইতে বড় বেশি দূরে 1; সেখানে গেলে সঙ্গী পাওয়। যাইতে পারে। এইরূপ চিপ্তার পর মনে করিলাম, বাবুর নিকট হইতে 1৭।1য় লইয়া বৈ-__যাইব ; সেখানে সঙ্গী পাইলে তাহাদের সহিত বাড়ি যাইব।

কর্তার নিকট হইতে বিদায় লইয়া বৈ__আসিতে বড় বেশি দেরি হইল না। জায়গাটা! দেখিতে শ৬ সুন্দর, একটি ছোঁট পাহাড়, তার উপরে তীর্থস্থান। পাথরের গায়ে সিঁড়ি কাটা আছে। সেই সিঁড়ি 11] উপরে উঠিতে হয়। অনেকগুলি সিঁড়ি ; উঠিতে অনেকক্ষণ লাগে। আমি উঠিতে উঠিতে তিনবার [নাম করিলাম প্রথমেই যাহাকে দেখিলাম, তাহার নিকট.জিজ্ঞাসা করিলাম, "যাত্রীরা কোথায় গাকেঃ সে বলিল, যাত্রীদের থাকিবার ভাল জায়গা নাই) প্রায় সকলেই পাণ্ডাদের বাড়িতে থাকে। উপরে যে দেব মন্দির, সেই মন্দিরের পুরোহিতদের নাম পরাণ্ডা। পাণ্ডা খুঁজিতে অধিকক্ষণ ঘুরিতে হইল না। প্রথমে যে পাণ্ডা আমাকে দেখিল, সেই হাত ধরিয়া আমাকে তাহার বাড়ি লইয়া গেল।

গাণ্ডার বাড়ি দুদিন থাকিয়াই বুঝিতে পারিলামযে বিষয়টা তত সুবিধাজনক নহে ।আমি যে সময় গিয়াছি সে সময় যাত্রীরা প্রায়ই আসে ন1। সঙ্গী পাইতে হইলে আরো তিন মাস অপেক্ষা করিতে £ইবে। তিন মাসের কথাই নাই, পাণ্ডা মহাশয় যেরূপ করিলেন, তাহাতে তৃতীয় দিনেই আমাকে গুঠ ভঙ্গ দিতে হইল। তৃতীয় দিন সকালে, পাণ্ডা আসিয়া বলিলেন, 'দেখিবি? ঢল্‌। আমি চলিলাম। আ/নক জিনিস দেখা হইল। শেষে এক জায়গায় গেলাম ; সেটি একটি বড় মন্দির। মধ্যে গহুর, গহুরের নীচে ছেট এক ঝরনার মত। পাণ্ডা বূলিল, 'এখানে পৃজ! করিতে হইবে 1 কত লাগিবে তাহারও হিসাব (দওয়া হইল। আমি দেখিলাম, তা হলে আমার বাড়ি যাওয়া হয় না।আমি বলিলাম, “আমি ছেলেমানুয, গুঙা কি করিব? পান্তা চটিয়া গেল $ সেদিন হইতে আর আমাকে তাহার বাড়িতে জায়গা দিল না। অগত্যা। আমার সেখান হইতে প্রস্থান. করিতে হইল। কিছুদূর গেলেই কতকগুলি ছোট ছোট ছেলে ৬াসিয়া পয়সা” “পয়সা” করিয়া আমাকে ঘিরিয়া ধরিল। আমি কোনো মতেই পয়সা দিতে চাহিলাম শা। তাহারা ক্ষেপিল।, কেহ গাল. দেয়, কেহ কাপড় ধরিয়া টানে, কেহ দূর হইতে ছোঁট ছোট টিল ঘুড়ির ফেলে। আমার মীথা গ্ররম হইয়! গেল। কাছে একখান! ছোট কাঠ পড়িয়াছিল, রাগের চোটে হাই হাতে করিয়া লইয়। ছেলেগুলোকে তাড়। করিলাম। মুহুর্তের মধ্যে সকলে অদৃশ্য হইল। আমার থেন ভূত ছাড়িল।.সেখান হইতে উর্ধ্বশ্বীসে দৌড়িয়া পাহাড়ের প্রায় অর্ধেক পথ আসিয়া পড়িলাম। তখন মনে হইল,জুতা জোড়াটি ফেলিয়া আসিয়াছি। কিন্তু ইহার পূর্বের পঁচিশ মিনিটের মধ্যে পাহাড় মন্বন্ধে যেটুকু-জ্ঞানলাভ করিয়াছিলাম, তাহাতে মনে ভয়ানক আতঙ্ক উপস্থিত হইতে লাগিল। আমি জুতার আশা পরিত্যাগ করিলাম। চলিবার সময় সর্বদাই চটি জোড়াটি পুটুলিতে বাঁধিয়া লইয়া যাইতাম, এক্ষণে তাহাই খুঁজিয়া লইলাম।

পাহাড়ের নীচে নামিতে অনেক বেলা হইল। একটু একটু করিয়া ক্ষুধা বাড়িতে লাগিলু। দোকানে যাইতে হইলে অন্তত এক প্রহর চলিতে হইবে। সেই রোদে আর এক ঘণ্টা চলতি বোধ হইতে লাগিল। পথের ধারে দু-একটি গাছ দেখিলেই ইচ্ছা হইতেছিল ফেনা পড়ি কিন্তু একদিকে তৃষ্ণয় গলা শুকাইয়া যাইতেছে এবং অন্যদিকে মু জ্বলিতেছে। কি করিব কিছু ঠিক করিতে না পারিয়া পথের ধারে একটি বাড়ি খুঁজিয়া সী বাড়িতে উঠিয়া একটা বড় ঘরে গেলাম ; সেখানে দুটি ছেলে বসিয়াছিল। আমি বু নিকট আমার ক্ষুধার কথা জানাইলাম, তাহারা 'তুই” 'তুই” করিয়া আমার কথার উত্তর দ্রিতে লাণিল। একজন বলিল-_

“বাঙালী লোক চোর আর স্রীষ্টান; বাঙালী লোককে কিছু দিব না

উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র 0 ৯৫

'আমি ভদ্রলোক ব্রাহ্মণ ; চোর নই।'

“যা তুই এখান থেকে : 04৮4) 00 : 0-৪-5-1, 0990,

আমার তখন ঠাট্টার মেজাজ ছিল না। তথাপি এর পর আর হাসি থামাইতে পারিলাম না। তখন তাহাদের ধরনের কথা কহিতে লাগিলাম -_

“ওর মানে কি হোল?

“ও ইংরাজি চা) 29 11]. 11] 23061961017) ছা 305৪ 59. বাঙালী লোক চোর; যা তুই এখান থেকে।”

“তোরা ইন্কুলে পড়িস?'

এবার যেন তাহারা কিছু ভয় পাইল। বলিল, "আমাদের মাস্টার বড় বই পড়ে।”

“তোমাদের মাস্টারের চাইতে জামি কি কম একটাকিছু? এই দেখ ত!”

আমার পুটুলিতে যে বইগুলি ছিল, তাহার মধ্যে [.9/0১'5[ু81995ও ছিল। সেইখান৷ এখন বাহির করিলাম।

এইবেলা একটু পরিবর্তন দেখা গোল। তাহাদের বডি বুঝা গেল যেন তাহার! মনে করিয়া লইয়াছে যে আমি একটা কিছু হইব। একজন মাথা চুল্কাইতে চুলকাইতে উঠিয়া! গেল। যে রহিয়া গেল, আমি তাহাকে আশ্বস্ত করিয়া তাহার সহিত আল!প পরিচয়ের চেষ্টা করিতে লাগিলাম। তাহার কথায় বুঝা! গেল যে তাহারা দুভাই। সে ছোঁট। বাবা নাই; মা আছেন; ইস্কুলে পড়ে ; টাকা আছে, চাকর চাকরানী আছে। বল! বাহুল্য, সে ঝাড়িতে তখনকার জন্য আমার বিশ্রামের সংস্থান হইল।

আমার জন্য একটি ছোট ঘর নির্দিষ্ট কর! হইল। আমি তাহাতে যাইয়া বসিলাম। তখন সকলের খাওয়া হইয়। গিয়াছে, সুতরাং নূতন আহারের আয়োজন কর! হইল। একজন আসিয়া আমাকে স্নান করিতে বলিল। আমি কাছের একটা পুকুর হইতে স্নান করিয়া আসিলাম। আসিয়া দেখিলাম যে জল- খাবারের জন্য কতকগুলি ভিজানে! চাল আর কিছু সন্দেশ লইয়া বড় ছেলেটি আমার ঘরে বসিয়া আছে। চালগুলি ভিজিয়া ঠিক. ভাতের মত হইয়াছে। সেখানে খাবার সময় এরূপ চাল অনেককে খাইতে দেখিয়াছি। আমি খাইতে বঞিলাম। ছেলেটি আমার কাছে বসিয়া রহিল। তাহার ভাব ভঙ্গি তে বোধ হইতে লাগিল যেন কিছু বলিতে আসিয়াছে! কিছুকাল পরেই সে আমার গায় মাথায় হাত বুলাইতে লাগিল। আমি কিছু চমৎকৃত হইয়া তাহার দিকে চাহিলাম, সে ধলিল, 'মা ব'লে দিয়েছেন আপনি ব্রাঙ্গাণ, আপনি শাপ.দিলে আমার ভানিষ্ট হবে। আমি আপনাকে মন্দ কথা ধলেছি।”

“তোমার উপর আমি রাগ করি নাই। তোমার কথায় আমার কিছুমাত্র অনিষ্ট হয় নাই। আমি ভগবানের নিকট প্রার্থনা! করিব, যেন তিনি তোমার ভাল করেন।' ' তাহাকে বুঝানো কিছু কষ্টকর বোধ হইল। কিন্তু শেযট! সে যৈন সুখী হইল এবং বলিল, “তবে যাই, মা'র কাছে বলিগে!

বেলা গ্রায় শেষ হ্ইয়া৷ আসিলে সেই ছেলে দুটির নিকট বিদায় লইয়া বাহির হইলাম। সেদিন

রাত্রিতে এক বাজারে মুদীর রে

কেবল দু-বেলা খাইবার জন্য কোনো মুদীর দোকানে উঠিতাম। রাত্রিতে কোনো মুদ্রীকে পয়সা চালে

না। কাজেই একজন গৃহস্থের বাড়ি যাইতে হইল। গৃহস্থ জায়গ। দিতে কোনো আ' না। কিন্তু খাওয়া শেয হইলে 'কড়া” 'বগুণো” সব দেখাইয়া ধলিলেন, ২১ রে মেজে দিয়ে যেতে হবে। তুমি বাঙালী, তোমার এঁটো কে নেবে? পদে পড়িলাম বলিলাম, 'ওগুলো৷ আমি ছুঁই নাই। তবে আমি ঘ! যা ছুঁয়েছি সেণ্ড না একখানা থালা আর একটি বগুণো বেগুণোতে ডাল ছিল) আমার ঘাটে পিল। তিনি বাড়ির কাছে একটা পুকুর দেখাইয়া দিলেন ; আমি তথায় যাইয়া সমস্ত পরিষ্কার করিয়! আসিলাম। প্রায় অর্ধঘণ্টা সময় লাগিল।

৯৬ 0 উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র

গরিএমের পর সুনিদ্রী হইল। পরদিন গৃহস্থ ডাকিয়া ঘুম ভাঙাইলেন, উঠিয়া দেখি সূর্থ উঠিয়াছে। খাডাতাড়ি পুটলি হাতে করিয়া বাহির হইলাম। গৃহস্থের নিকট বিদায় লইবার সময় ফা__যাইবার পথ ঞ্লিওগসা করিলাম। তিনি বলিলেন, “একটা বড় মাঠ, তারপর একটা পাহাড়, তারপর ফাঁ__। একই পথ, ভূল হবার জো নাই।”

কিছুদূর হীঁটিয়াই একটা মাঠে আসিলাম। সেখানে পথিকদিগের জন্য একটি ঘর ভাছে। তথায় রজনার সহিত সাক্ষাৎ হইল। তাহার সঙ্গে একটা ঘোড়া। সে আমাকে দেখিয়াই বলিল, “বেশ, চল। ॥ঝভান সঙ্গীর জন্য বসিয়াছিলাম।' আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, 'সঙ্গীর প্রয়োজন কি? সে বলিল, 'তুমি কার কখনো এখানে চল নাই? একা গেলে খেয়ে ফেলবে! আমার ভয় হইল।

মাঠের এপাশ থেকে ওপাশ দেখা যায় না। অতি কম চওড়া পথ; দশ বার হাত অন্তর ছোঁট ছোট খগখসের ঝোপ। জীবজস্তর মধ্যে এক জাতীয় পাখি। পাখিটি একটি চড়াই আপেক্ষা কিঞিৎ বড়, গায়ের রং সবুজ ; ঠোঁট সরু এবং লম্বা, স্বভাব অত্যন্ত চঞ্চল। ক্রমাগত একই রূপ শব্দ করিতেছে “টির টিপ টিরিরিণ।” লেজে একটা নতুনত্ব আছে। লেজের মধ্যদেশ হইতে প্রায় (ড় ইঞ্চি লম্বী একটি সূচীর মত বাহির হইয়াছে। আমার সঙ্গী বলিল, “শ্বশুর বাড়ি গিয়ে ছুঁচ চুরি খরেছিলেন। তাতেই শাস্তি।' অন্য কিছু না থাকাতে পাখিকেই বারবার ভাল করিয়া দেখিতে গ॥গিলাম।

বেলা আন্দাজ চারিটার সময় ছোট একটি ঘরদৈখিতে পাইলাম। সঙ্গী বলিল, 'ভাজ এখানেই থাকিতে হইবে। আমি প্রতিবাদ করিয়া বুলিলাম) “চারটের সময় বসে থাকতে হবে কেন?

সঙ্গী বলিল, “মাঠে রাত হলে বাঘে_খাবে।বাঘে খায় এরূপ ইচ্ছ৷ আমার ছিল না। সুতরাং সে রাত্রির জন্য ঘরেই থাকিলাম। রাত্রিতে ঘুমাইয়া ঘুমাইয়া অনেকগ্রকার শব্দ শুনিতে পাইলাম। সে- সব নাকি হাতির শব্দ। সৌভাগ্যব্রমে হাতিগ্রণ আমাদের কোন খবর লইতে আসিলেন না। কিন্তু পরদিন উঠিয়া দেখি ঘোড়াটি নাই। ঘোড়ার স্বামী অনেক আক্ষেপ করিল।

মাঠ পার হইতে প্রায় চারটা বাঁজিল। মাঠ যে জায়গায় শেষ হইয়াছে, সেখানেও দেখিলাম একটি ছোঁট ঘর। সেখানে আসিলে সঙ্গী-বিদায় লইয়া অন্য পথে গেল। আমি আমার নির্দিষ্ট পথে আস্তে আব্তে চলিলাম। কিছুদূর যাইয়া একটি মাহুতকে পাইলাম, সে হাতি লইয়া ফা__চলিয়াছে। আমি চারি আন৷ পয়সা দিব বলাতে সৈ আমাকে তাহার হাতির পিঠে একটু স্থান দিল মহাসুখে ফা-_-ভাসিলাম। ঝালিদাসবাবুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করিতে সাহস পাইলাম না!রাত্রিতে একটি মুদীর দোকানে থাকিয়! পরদিন ভোরে রওনা হইলামু। .. | ছোঁটখাট ঘটন! হইয়াছিল, তাহা বলিবার প্রয়োজন নাই। তবে একদিনের কথ৷ পর আর মানুষের সাড়া শব্দ পাইলাম না। বেলা যতই কমিয়া আসিতে লাগিল, গত নির্জন স্থানে যাইয়া পড়িতে লাগিলাম, তারপর কেবল একটা মাঠ ; দুই ধারে উলুবন এবং অন্যান্য দুই একটি ছোট ছোট গাছ। এরূপ জায়গায় সন্ধ্যা হইল।কি করি, কোথায় যাই! প্রাণপণে দৌড়িতে লাগিলাম। পথ এত সংকীর্ণ যে দুই পাশের গাছে গা লাগে। থাকিয়া থাকিয়া ভি তা দেখিলাম একজন পাহাড়ী লোক। সে আমাকে কি একরকম ভাখায় বলিল-__ তুই যাস? তোর প্রাণের ভয় নাই? এই বলিয়া! সে আধাকে তাহার পিছু পিছু যাইতে মক আমি 87 ৃধুাই শুয়োরের মত হতবুদধি হইয়া তাহার অনুসরণ করিতে লাগিলাম।

কতক্ষণ এইরূপে চলিলাম বলিতে পারি না। অবশেষে একটা বড় নদীর ধারে আসিলাম, সেখানে দেখিলাম আরো কয়েকজন লোক বসিয়া আছে। পাহাড়ী বলিল, যতক্ষণ নৌকা আসিয়। ও-পারে

উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র--৭ উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র 0 ৯৭

নাযায়, ততক্ষণ এখানে বসিয়া! থাকিতে হইবে আমি তাহাদের সঙ্গে মাটিতে বসিলাম।অন্যান্য সকলে পুটলি হইতে খাবার খুলিয়া খাইতে লাগিল। পাহাড়ীর সঙ্গে কতকগুলি কমলালেবু ছিল। সে আমাকে তাহার খাবারটা খাইতে দিল। আমি তাহাই খাইয়া, নাক মুখ কাপড়ে ঢাকিয়া সেইখানেই শুইয়। পড়িলাম। ভন্যান্য লোকেরা আমাকে বলিতে লাগিল 'ঘুমিও না, খেয়ে ফেলবে।' তেমন অবস্থায় এরূপ উপদেশ বাক্যের অত্যন্ত আবশ্যক ছিল, কারণ সমস্ত দিনের পরিশ্রমে আমার গা তাবশ হইয়া আসিতেছিল। এবং একটুকু পরেই অতি নিকটে 'ঘ্যাওর' '্ঘ্যাওর' করিয়। বাঘ ডাকিতে লাগিল। সমস্ত রাত্রি চারিপাশে দূরে নিকটে হিং্র জন্তর শব্দ হইতে লাগিল। সে রাত্রির কথা আমার জীবনে আর কখনো ভুলি নাই। নৌকাওয়ালা পারে বসিয়া! সুখভোগ করিতেছে; সেখানে নৌকা বোঝাই না হইলে ফিরিয়া আসিবে না। সমস্ত রাত্রি আমাদের প্রাণ হাতে করিয়া সেই ভয়ানক স্থানে বসিয়া থাকিতে হইল। পরদিন নৌকা! আসিলে আমরা ওপারে গেলাম। ১... .

ইহার তিনদিন পরে বাড়ির কাছে বাজারে আসিলাম, সেখানে, দই চিড়ে সন্দেশ ইত্যাদি যাহা কিছু মনে হইল উদরস্থ করিয়া পথকন্টের প্রতিহিংসা বিধান.করিলামু। দুইটার সময় বাড়ি আসিলাম। তখন বাহির বাটিতে কেহ ছিল না। গা ভয়ানক কাপিতে লাগিল; শীতে অস্থির হইয়া গেলাম আশে পাশে যে কয়খানা লেপ কীথা ছিল, উপর্যুপরি গায় দিয়া বিছানায় পড়িলাম। শক্ত জ্বর হইল। ফাঁকি দিয়া বড়লোক হওয়ার স্বপ্নটা ভালরকমেই ভাঙ্গিয়া গেল!

“সহজে কি বড়লোক হওয়া যায়'এই নামের প্রস্তাবটি শেষ করিবার সময় আমরা গিরিশের পরে কি হইল, তৎদম্বন্ধে কিছু বলিতে প্রতিশ্রুত ইইয়াছিলাম। কিন্তু গিরিশের জীবনে এত কষ্ট সহ্য করিতে হইয়াছিল যে জামরা সে-সব বলিতেও কষ্ট বোধ করি। তবে এইমাত্র বলা আবশ্যক যে, বেচারা কোন দিনই বড়লোক হইতে পারে নাই। দুঃখ কষ্টের একশেষ তাহার জীবনে হইয়াছিল। পরিশেষে সে নিজের হাতে নিজের জীবন.শেষ করিয়া দিল।

গিরিশের সম্বন্ধে যে-সকল কথা বলা হইয়াছে, মোটামুটি সকলগুলিই সত্য। কথাগুলি যথার্থ বলিয়াই সেগুলি এত গুরুতর। তাহার ভাগ্যে যাহা ঘটিয়াছিল, আমর! যদি তাহার মতন কাজ করি, কে জানে, কোন দিন আমাদের সম্বন্বেও কেহ এইরাপ গল্পসকল বলিয়া লোককে সাবধান করিবে ৮৮৮555 পাভি ১৮

টি ৬ু থাকিলেই বড়লোক হয় না; কর কি গিরিশের ইচ্ছা যথেষ্ট, ছিল। তাহার পক্ষে যতটুকু কুলাইয়াছিল, সে চেষ্টারও ত্রুটি করে নাই।

তবুও যে সে বড় ১৮৬78 55 জানিলাম, তবে সেই গাধা রামকান্তের মতই রহিলাম। রাম ক্লাসে একদিনও উপরেউুঠ্িতে না, নীচে নামিবারও জায়গা ছিল না। গুরু মহাশয় তাহাকে তিরস্কার করিয়াববিিট জার কি কিছু হবে! ভাল ছেলে হ'তে হ'লে তেল পোড়াতে হয়, খাটতে রঙ কষ্ট সহ্য করতে হয়!” রামকান্ত একদিন বাড়ি আসিয়াই দু সের তেল কিনিয়া আনিল। তেহ্টেকীপড় ভিজাইয়া তাহাতে আগুন লাগাইয়া দিল। তারপর ঘরের চালে দড়ি বীধিয়া তাহাতে প্রাণপণৈ দুলিতে লাগিল। সর্বশেষে দড়ি ছিঁড়িয়া আগুনের উপর ভর্ধ দগ্ধ, আর্ধ ভগ্ন শরীরে নিষ্কৃতি পাইল। যে দুই সপ্তাহ শয্যাগত থাকিতে হইয়াছিল, তাহার মধ্যে অনেক ভাবিয়া চি্তিয়া ঠিক করিল, মাস্টার মহাশয় ভূল করিয়াছেন। সে সরল

৯৮ উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র

সি, যেদিন স্কুলে গেল সেদিনই মাস্টার মহাশয়ের সঙ্গে বিষয়ে তর্ক করিল। রামকান্তের যে ফ্ুগ, গিরিশ বেচারারও সেই ভুল। ভাই, আমরা! যে বড়লোক হই না, আমাদেরও অনেকের সেই গুগ। শুদি বড়লোক হইতে ইচ্ছা থাকে-_-নাই, যদি বল তবে আমি হাসিব__তবে প্রথমে কিকি কাজ ধ1গ9 বড়লোক হয়, বেশ করিয়া জান। তারপর নিঃশবে শীস্তভাবে আপন কার্যে প্রবৃত্ত হও। অনেক রন; পাইতে হইবে ; তাহার জন্য যথেষ্ট সহিষুওত! চাই। অনেক সুখ পায়ে ঠেলিতে হইবে ; তাহার ৪) সুচিত ত্যাগত্বীকারের প্রয়োজন। এত করিয়াও কত জন উপযুক্ত বুদ্ধির অভাবে বড় হইতে প]তেছে না। তুমিও পারিবে কি না জানি না__আমি ইচ্ছা করিতেছি তোমরা সকলেই শ]পবে।__ কিন্তু ইহা বলিতে পারি ঘে তোমার পক্ষে যতটুকু হওয়া সম্ভব, তাহা হইতে গেলেই আমি 112] ললিলাম সব কয়টি করিতে হইবে।

ধড়লোক, বড়লোক, এতবার বলিলাম। কিন্ত যতজন বড়লোক হইতে চাহিতেছেন, সকলেই কি খুগতে পারিতেছেন যে বড়লোক হওয়ার অর্থ কি? একটা লোক বলিতেছিল যে, 'আমার ছেলের গণ হেতে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করিয়াছি।' তাহাকে জিজ্ঞাসা করা হইল, 'বল দেখি লাখ টাকা বলিলে বগল টাকার কথা বলা! হয় £ সে বলিল, “কেন, লাক টাকা আর লাক টাকা, দুকুড়ি দশ টাকা” বঙগোক হওয়া-সন্বন্ষেও অনেকের এরূপ মত! অনৈকের কেবল নিজের বেলাই মত। তাহার! পন$ (রেট লোক। ভাই, বড়লোক না হও দুঃখ নাই; কিন্তু ছোট লোক হইও না।

গন ভাল বিষয়ে খুব ভাল হইলে বড়লোক হয়। যেমন বিদ্যাসাগর মহাশয় বড়লোক, মহর্ষি ।8(144ন!থ ঠাকুর বড়লোক, লর্ড রিপন বড়লোক, ডাক্তার মহেন্্রলাল সরকার বড়লোক, সুরেন্দ্র বাবু দড|ক, ইত্যাদি, ইহাদের সকলেই এক বিষয়ের জন্য বড় হন নাই। কিন্তু একটু চিন্তা করিলেই ।॥1িবে, ইহাদের যীহার মধ্যে যেটুকু ভাল তাহার জন্যই তাহাকে বড়লোক বলা হয়। বড় চোরকেও বাক বলা হয় না, বড় ভাকাতকেও বড়লোক বলা হয় না।

ঘর এক কথা। বিদ্যাসাগর মহাশয়ের বিদ্যার জন্য আমরা তাহাকে অত বড়লোক বলি না। মহেন্দ্র প1] নিজের ঘরে কবাট দিয়া বিজ্ঞান চর্চা করিলে আমরা তাহাকে অত বড়লোক ধলিতাম না, অন্তত ঞাঞর গ্রতি আমাদের অত শ্রদ্ধা হইত না। দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, লর্ড রিপন, ইহার! কে কি শাস্ত্র অধিক 1, কি কিছুই বা জানেন না তাহার হিসাবও হয়ত আমরা কেহ দিতে পারিব না। সুরেন্দ্র বাবুর ||ছে, সেখানে তিনি পড়ান)'এজন্য তাহাকে কেহ বড়লোক বলে না। যিনি যে পরিমাণে লোকের রর করিতেছেন, তিনিংসেই পরিমাণে লোকের ভালবাসা পাইতেছেন। বড়লোক এবং ভাল লোক, উ৬য়ই হইলেই যথার্থ ব্ড়লোক। বড়লোক হওয়া যেরূপই কঠিন হউক না কেন, ভাল লোক (| করিলেই হওয়া। যায়। এবং তাহাই আগে হওয়৷ উচিত। কাহারে! যদি এক কোটি টাক! থাকে,

তখনই তাহাকে যথার্থ বড়লোক বলিব। কারণ, তখন তিনি বড়লোক এবং ভাল লোক ইয়াছেন।,বড়লোক বড়, ভাল লোক ভাল, বড়লোক ভাল হইলে বড় ভাল।

সি বানর রাজপুত্র

পুত্র ৩০৬

'% রাজার সাত রানী, কিন্ত ছেলেপিলে একটিও নেই। রাজার ডই দুঃখ তিনি সভায়

গায়ে মাথা ওুঁজে বসে থাকেন, কেউ এলে ভাল করে কথা কন না। একদিন হয়েছে কি-_এক মুনি রাজার সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। মুনি রাজার মুখ ভার দেখে িঞ্জাসা করলেন, 'রাজা, তোমার মুখ যে ভার দেখছি; তোমার কিসের দুঃখ

উপেন্দ্রকিশোর সমপ্র ৯৯

রাজা বললেন, "সে কথা আর কি বলব, মুনি-ঠাকুর! আমার রাজ্য, ধন, লোকজন সবই আছে, কিন্তু আমার যে ছেলেপিলে নেই, আমি মরলে এ-সব কে দেখবে?

ষুনি বললেন, “এই কথা? আচ্ছা, তোষার কোন চিন্তা নেই। কাল ভোরে উঠেই তুমি সোজাসুজি উত্তর দিকে চলে যাবে। অনেক দূর গিয়ে একটা বনের ধারে দেখবে একটা আমগাছ রয়েছে। সেই আমগাছ থেকে সাতটি আম এনে তোমার সাত রানীকে বেটে খাইয়ে দিলেই, তোমার সাতটি ছেলে হবে। কিন্তু খবরদার, আম নিয়ে আসবার সময় পিছনের দিকে তাকিয়ো৷ না যেন!

এই কথা বলে মুনি চলে গেলেন। তারপর দিন গেল, রাত হল, ক্রমে রাত ভোর হল। তখন রাজামশাই তাড়াতাড়ি বিছানা থেকে উঠে সোজাসুজি উত্তর দ্রিকে চলতে লাগলেন। যেতে যেতে অনেক দূর গিয়ে তিনি দেখলেন, সত্যি সত্যি বনের ধারে একটা আমগাছ আছে, তাতে পাকা পাকা সাতটি আমও দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। সেই বনে তিনি কতবার শিকার করতে এসেছেন, কিন্তু আমগাছ কখনো দেখতে পাননি। যা হোক, তিনি তাড়াতাড়ি সেই গাছে উঠে আম সাতটি পেড়ে নিয়ে. বাড়িতে ফিরে চললেন।

খানিক দূরে যেতে না যেতেই ওনলেন, কে যেন পিছন থেকে তাকে ডাকছে,

ওগো রাজা, ফিরে চাও, আরে আম নিয়ে যাও।

মুনি যে সাবধান করে দিয়েছিলেন; সে কথা রাজার মনে ছিল না। তিনি পিছন থেকে ডাক শুনেই ফিরে তাকিয়েছেন, আর অমনি আমশুলো তার হাত থেকে ছুটে গিয়ে আবার গাছে ঝুলতে লেগেছে। কাজেই রাজামশাই-এর আবার গিয়ে গাছে উঠে আমগুলি পেড়ে আনতে হল। এবার আর তিনি কিছুতেই মুনির কথা ভুললেন না।তিনি চলে আসবার সময় পিছন থেকে তাকে কতরকম করে ডাকতে লাগল, 'চোর' “চোর' বলে কত গালও দিল। রাজামশাই তাতে কান ন৷ দিয়ে বৌ বে। করে বাড়ি পানে ছুটলেন।

বাড়ি এসে রানীদের হাতে সাতটি আম দিয়ে রাজামশাই বললেন, তোমরা সাতজনে এই সাতটি

লে সে আমের ছালগুলি চুপিচুপি কুড়িয়ে নিয়ে গেল। সেই ছালগুলো ধুয়ে ছোটরানীর হাতে দিয়ে বলল, "মা, এই ওষযুধটা খাও, তোমার ভাল হবে।” ওষুধ খেতে হয়!

ছোটরানী আর কোন কথা না বলেই সেটা খেয়ে ফেললেন। রি তারপর বড় রানীদের সকলেরই এক-একটি সুন্দর খোকা হল, রাজা তাতে খুব ধুমধাম

আর গানবাজনা করালেন। ছোটরানীরও একটি খোকা হল, কিস্তু সেটি হল দেখে রাজা

চটে গিয়ে ছোটরানীকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিলেন। দেশের লোকে বড়ই দুঃখ হল। তারা

একটি কুঁড়ে বেঁধে ছোঁটরানীকে বলল, "মা, তুমি এইখানে থাকো ।” সেইখানে ছোটরানী থাকেন। বানরটি সেখানে থেকে দিন দিন বড় হচ্ছে। সে মানুষের মত কথা কয়। আর তার এমনি বুদ্ধি যে, কোন কথা তাকে শিখিয়ে দিতে হয় না। যখন যে কাজের দরকার,

১০০ 0 উপেদ্্রকিশোর সমগ্র

ক্সয়নি সে ত। করে। সারাদিন সে গাছে গাছে ঘুরে বেড়ায়, যেখানে যে ফল দেখে তা খায় ; খুব ভাল গাথগে মার জন্য নিয়ে আসে তাকে কেউ কিছু বলে না, কারুর গাছের ফল খেতে গেলে সে ভারি গুদ হয়ে ভাল ভাল ফল দেখিয়ে দেয়। তার বুদ্ধি দেখে সকলে আশ্চর্য হয়ে যায়। ॥9ি করে দিন যাচ্ছে। বড় রানীদের ছটি ছেলেও এখন বড় হয়েছে। তারা বানর্টিকে যারপর পু হিংস। করে, সে তাদের সঙ্গে খেলা করতে গেলে তাকে মেরে তাড়িয়ে দেয়।

খ/গপর একদিন বানরটি দেখল যে, বড় রানীদের ছেলেদের জন্য মাস্টার এসেছে, তারা৷ পুঁথি নিয়ে সকার »ছে বসে পড়ে। তা দেখে বানর গিয়ে তার মাকে বলল, “মা, আমাকে পুথি এনে দাও, আমি শন।?

যা কাদতে কাদতে বললেন, “হায় বাছা, কি করে পড়বে? তুমি যে বানর”

খানরের এমনি বুদ্ধি, যে বই পার সে দুদিনে পড়েনি ফেলে। সে দু বছরে মস্ত পণ্ডিত বড় রানীদের ছেলেরা তখনো দু-তিনখানি বই-পুঁথি শৈষ করতে পারেনি ; রোজ খালি পের বকুনি খায়।

এসব কথা শুনে রাজা একদিন বললেন, বটে? বানরের এমনি বদি? ? নিয়ে এসে! তাকে, আমি বাগণ।'

খাণরের কিছুতেই ভয় নেই। রাজা ডেকেছেন শুনে সে অমনি তাঁর কাছে উপস্থিত হল। তাকে দাগে আর তার কথাবার্ত৷ শুনে রাজার এমনি ভাল লাগল যে, তিনি ভার কিছুতেই ছোঁটরানীকে (র ফেলে রাখতে পারলেন না। বাড়িতে আনতেও ভরসা পেলেন না, পাছে বড় রানীরা কিছু এ। তাই তিনি ছোটরানীকে রাজবাড়ির পাশৈই একটি খুব সুন্দর বাড়ি করে দিলেন। সেই বাড়িতে গখন থেকে ছোটরানী তার বানর নিয়ে থাকেন। টাকাকডি যত লাগে রাজার লোক এসে দিয়ে যায়। 18 তীর বাড়াকে বলে বানর বাটি সব দেখে বড় রানীদের ছেলেরা বানরকে আরো বেশি (8%| করতে লাগল। কিঃ

ধকটু একটু করে ছেলের বড় হয়ে উঠন। সকলে রাজাকে বলল, 'রাজপুত্রের! বড় হয়েছেন, «গণ এঁদের বিয়ে দিন।'.. ২২

মঙ। বললেন, তাদের দেশ বিদেশ ঘুরতে দাও। তারা নানান জায়গা দেখে, নানারকম শিখে, টগ্টুকে ছয়টি রাজকন্যা বিয়ে করে আনুক।”

॥ঝলে বলল, বশ, বেশ! তাই হোক ।"

রপর ছয় রাজপুত্র সেজেগুজে, টাকাকড়ি সঙ্গে নিয়ে ঘোড়ায় চড়ে নানান দেশ দেখতে বেরুল। 44 0॥খে বানর তার মাকে গিয়ে বলল, 'মা, আমিও যাব।' কি করতে যাবে, জাদু? তোমাকে কোন টুক্টুকে রাজকন্যা বিয়ে করবে?

সানর; আমি অনেক দেশ দেখতে পাব।

বললেন, ভুমি যে দেশ দেখতে পাবে, আমি তোমাকে ছেড়ে কি করে থাকব?

নর বলল, 'আমি দেখতে দেখতে ফিরে আসব। তোমার পায়ে পড়ি মা, আমাকে রঙ শ/জেই ছোটরানী আর কি করেন? বানরকে যেতে দিতেই হল। টি

ছু) রজপুত্র ঘোড়ায় চড়ে যাচ্ছে; 88৬৮2, কুুন্টী বনের ভিতর

গিয়া তাদের পথ, সেই পথে ইভা 9 তাদের রনি,

সনি য়ে চলো? আপ আমরা রাজ্য

খানকে মারতে মারতে আধমরা করে একটা গাছে বেঁধে রেখে চলে গেল।

উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র ১০১

সেই বনে ছিল একদল ডাকাত। তারা দেখল যে ছয়জন রাজপুত্র ভারি সাজ করে টাকাকড়ি নিয়ে ঘোড়ায় চড়ে যাচ্ছে। দেখেই তারা মার-মার করে চারদিক থেকে তাদের ঘিরে ফেলল রাজপুত্রের! ভয়েই জড়সড়, তলোয়ার খুলবার কথা আর তাদের মনেই নেই। তাদের টাকাকড়ি, ঘোড়া, পোশাক-_সবসুদ্ধ তাদের হাত-পা বেঁধে নিয়ে যেতে তাদের দু মিনিটও লাগল না।

রাজপুত্রদের ধরে নিয়ে খানিক দূরে এসেই ডাকাতেরা দেখল, পথের ধারে একটা! বানর বীধা রয়েছে। তাকেও তারা সঙ্গে করে নিয়ে চলল। বানর যেন তাতে বেশ খুশি হয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে তাদের সঙ্গে যেতে লাগল। তা৷ দেখে ডাকাতেরা ভাবল, বুঝি কারু পোষা বানর, কাজেই তাকে আর তারা তেমন করে বাধল না।

সেই বনের ভিতরেই ডাকাতদের ঘর। সেদিন তাদের বড্ড পরিশ্রম হয়েছিল, তাই রাজপুত্রদের নিয়ে সন্ধ্যার সময় 'ঘরে ফিরে এসে বীধনসুদ্ধই ছটি ভাইকে একটা জায়গায় ফেলে রেখে তারা খাওয়া- দাওয়া করে ঘুমিয়ে পড়ল। যখন খুব করে তাদের নাক ডাকতে.লেগেছে, তখন বানর চুপিচুপি তার নিজের বাঁধন দীত-দিয়ে কেটে তাড়াতাড়ি গিয়ে রাজপুত্রদের বাঁধন খুলে দিয়েছে। তখন আর তারা তার! প্রাণপণে ছুট দিল, ডাকাতেরা কিছু টের পেল না!,

ডাকাতদের ওখান থেকে পালিয়ে রাজপুত্রেরা প্রাণপণে ঘোড়া ছুটিয়ে যেতে লাগল, ভোরের আগে আর তারা কোথাও থামল না। পকালে তারা, দেখল যে, তার! ভারি চমৎকার একটা শহরে এসে উগস্থিত হয়েছে। সে খুব বড় এক রাজার দেশ; তার বাঁড়ি দূর থেকে দেখা যাচ্ছে, যেন একটা ঝকবাকে সাদা পাহাড়। হি " ছয় রাজপুত্র সেই বাড়ির কাছে গিয়েই টকটক করে ঘোড়া হাঁকিয়ে তার ভিতরে ঢুকে পড়ল। দারোয়ানেরা তাদের পোশাক ভার ঘোড়ার সাজ দেখে জড়সড় হয়ে দাঁড়িয়ে তাদের সেলাম করল, আর কিছু বলল না। বানর কিন্তু জানে যে, নে সেখানে গেলেই তাকে ধরে ফেলবে; তাই সে রাজবাড়ির পিছনের দিকে গিয়ে, খিড়কির. পুকুরের ধারে শুয়ে রইল।

সেই দেশের রাজারও ছিল জাত র্ানী। ভাদের বড় ছজন ছিল ভারি হিংসুক আর দেখতে বিশ্রী, আর ছোঁটটি ছিলেন পরীর মত সুন্দর আর বড় লক্ষ্মী বড়রা রাজাকে মিছামিছি নানান কথা৷ বলে, ছোটরানীকে ঘর থেকে তাড়িয়ে-দিয়েছিল ; তিনি খিড়কির পুকুরের ধারে একটি ঝুঁড়ের ভিতরে থাকতেন, রাজা তার কোন খবরও নিতেন না। বড় ছয় রানীর ছটি মেয়ে ছিল, তার! দেখতে ছিল ঠিক তাদের মায়ের মতন, আর তাদের মনও ছিল তেমনি। ভার ছোটরানীর যে মেয়েটি ছিল, সেও ছিল ঠিক তার মার-মৃত-_-তেমনি সুন্দর, তেমনি লক্্বী। তা হলে কি হয়, বড় রানীরা রাজাকে বুঝিয়ে দিয়েছিল যে, ছোটরানীর মেয়েটা পাগল, কালো, কুঁজো, কানা, খোঁড়া, কালা আর বোবা।

সেই খিড়কির পুকুরের ধারে, সেই ছোটরানীর কুঁড়েষরের কাছে বানর গিয়ে শুয়ে রয়েছে। খানিক বাদে বড় রানীদের ছয় মেয়ে ছটি ঘটি নিয়ে সেখানে সমান করতে এল, ছোটরানীর মেয়েটিও তার ছোট ঘটিটি নিয়ে এল। তারা স্নান করে চলে আসবার সময় সেই মেয়েটির ঘটি থেকে কেমন খানিকটা জল বানরের গায়ে পড়ে গেল, অমনি বড়রানীদের ছয় মেয়ে হাততালি দিয়ে চে য় ধ্যতৈ লাগল, 'ওমা! ওমা! তোমরা দেখো এসে--ছোটরানীর মেয়ে বাঁদরটাকে বিয়ে করেছ

বড় রানীরাও তা শুনে ছুটে এসে বলতে লাগল, 'তাই ত, তাই ত। ছোটনুন্ুট বানরটাকে বিয়ে করেছে।

সেই খবর তখনি তারা রাজার কাছে পাঠিয়ে দিল। দেশের সকল সভায় বসে শুনল যে, ছোটরানীর মেয়ের একটা বানরের সঙ্গে বিয়ে হয়েছে।

ছোটরানীর মনে কি কষ্ট হল, তা আর কি বলব? তিনি খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়ে মেয়েটিকে বুকে নিয়ে মাটিতে পড়ে কাদতে লাগলেন। তা৷ দেখে বানর তাদের ঘরের দরজায় এসে বাইরে থেকে

১০২ উপেন্দ্রকিশোর সথরগ্র

£জাড় করে বলল, “মা, আপনি কীদবেন না। ভগবান যা করেন ভালই করেন। থেকেও 'টাপনাদের ভাল হতে পারে? বানরকে মানুষের মত কথা কইতে দেখে রানী উঠে বসলেন। তীর গনের দুঃখ যেন কোথায় চলে গেল। সেই থেকে বানর তার ঘরের কাছে গাছের ওপরে থাকে আর ঞণপণে তার সেবা করে। রানী যখন শুনলেন যে, সে রাজপুত্র, তখন সে যে বানর, সে কথা তিনি গেলেন। তার মনে হল যে এমন ভাল আর বুদ্ধিমান লোক আর মানুষের ভিতরে নাই।

এদিকে হয়েছে কি, সেই ছয় রাজপুত্রও রাজার বাড়িতে ঢুকে একেবারে তার সভায় এসে হাজির ই₹য়েছে। রাজা দেখেই বুঝতে পেরেছেন, এরা রাজপুত্র তিনি জিজ্ঞাস করলেন, 'বাপু, তোমরা কে? করতে এসেছ? তারপর যখন তাদের বাপের নাম শুনলেন, আর শুনলেন যে তার! বিয়ে করবার কনা রাজকন্যা খুজতে বেরিয়েছে তখন আর তার খুশির সীমাই রইল না। তিনি বললেন, 'বাঃ /9মরা যে আমার বন্ধুর ছেলে! বেশ হল; আামার ছয়মেয়েকে তোমরা ছজনে বিয়ে করবে।

(ঠক এমনি সময় বাড়ির ভিতর থেকে খবর এল যে, ছোটরানীর মেয়ের একটা বাঁদরের সঙ্গে গিয়ে হয়েছে। রাজপুত্ররাও তখনি বুঝে নিল যে আর কেউ নয়, তাদেরই বীঁদর। তাদের মনে [?ংখাটা যে হল। বাঁদর এসে তাদের আগেই রাজার মেয়ে বিয়ে করে ফেলল! লোকে জবার গান/কানি করে বলে যে সে মেয়ে নাকি রাজ।র আর.ছয় মেয়ের চেয়ে ঢের বেশি সুন্দর আর ভাল-_এ-সব কথা তারা যত ভাবে, ততই খালি-হিংসায় জ্বলে মরে!

যা হোক, রাজার ছয় মেয়ের সঙ্গে তাদের ছয় জনের বিয়ে হয়ে গেল, তারপর ঝাকঝকে মযুরপত্থী সাজিয়ে ঢাক ঢোল বাজিয়ে তারা বউ নিয়ে দেশে চলল। বানরও একটি ছোট নৌকায় ধ'রে তার স্ত্রীকে নিয়ে তাদের পিছু পিছু চলেছে।তাকে দেখেই ছয় রাজপুত্র রেগে ভূত হয়ে গেছে খর ভেবেছে যে, একে বউ নিয়ে দেশে গৌছতে দেওয়৷ হবে না। মুখে কিন্তু 'ভাই, ভাই” বলে রি আদর দেখাতে লাগল, যেন তাকে কতই ভালবাসে। শেষে যখন বাড়ির কাছে এসেছে, তখন পাত্রে ঘুমের ভিতরে বেচারার হাত-পা বেঁধে তাকে জলে ফেলে দিল। ভাগ্যিস ছোট বউ টের পেয়ে ওডাতাড়ি একট! বালিশ ফেলে দিয়েছিল, আর তাই ধরে আনেক কষ্টে সে কোনমতে ভাঙায় উঠল, শইলে সে যাত্রা আর উপায়ই ছিলনা!

তারপর সকালবেলায় নৌকাএসে ঘাটে লাগল, রাজা খবর পেয়ে ছেলে বউদের আদর করে খরে নিতে এলেন। ছয় ছেলে এসে তীকে প্রণাম করল, রাজা তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, “আমার গানর কই? তারা বলল, মে জলে ডুবে মারা গিয়েছে।"

বানর মরে নি, পে নদীর ধারে ধারে তাদের আাগেই ঘাটে এসে গাছের আড়ালে লুকিয়ে ছিল। ৬] 'সে জলে ডুবে মারা গেছে” বলতেই বানর আড়াল থেকে বেরিয়ে এসে রাজাকে প্রণাম করে শন, 'আমি মরিনি বাবা) ওরা আমার হাত-পা বেঁধে আমাকে জলে ফেলে দিয়েছিল, আমি অনেক ঝছে। বেঁচে এসে!

তখন রাজপুত্রদের মুখ চুন। রাজা ভয়ানক রেগে তাদের বললেন, “বটে! তোদের এই কাজ? ধুর তোরা আমার দেশ থেকে। আর তোদের মুখ দেখব না।"

এই বলে দুষ্ট ছেলেগুলিকে তাড়িয়ে দিয়ে রাজা যার পর নাই আদরের সহিত বানর জার বউকে ঘরে নিয়ে এলেন। বানরের মা ছেলেকে ফিরে গেয়ে আর এমন সুন্দর লী বউ্রীরে এনে খে কত সুখী হলেন তা বুঝতেই পার।

ভারপর খুব সুখেই দের দিন কাটতে লাগল। এর যে হয়েছে কি কবলে যে বানর শুধু দিনের বেলায়ই বানর সেজে বেড়ায় ; রাত্রে সে বানরের ছাল দেবতার মত সুন্দর মানুয হয়। কথা তিনি ছোটরানীকে বললেন, ছোটরানী আবার জানালেন। রাজ শুনে ভারি আশ্চর্য হয়ে এসে বললেন, “বউমা, তুমি এক কাজ করো। আজ রাত্রে যখন সে বানরের ছাল খুলে ঘুমোবে, তখন তুমি সেই ছালটাকে পুড়িয়ে ফেলবে।”

উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র 0 ১০৩

সেদিন বানরের শোবার ঘরের পাশের ঘরে মস্ত আগুন জ্বেলে রাখা হুল, বানর তা জানতে পেল না। তারপর রাত্রে যেই ছাল খুলে রেখে সে ঘুমিয়েছে, ভামনি রাজকন্টা চুপিচুপি নিয়ে সেটাকে সেই আগুনে ফেলে দিয়েছেন। সকালে বানর উঠে দেখে, তার ছাল নেই তখন সে ধরা পড়ে গিয়ে খুবই ব্যস্ত হল, কিন্তু ব্যত্ত হয়ে কি হবে, আার বানর হবার জো নেই! দেখতে দেখতে সেই খবর দেশময় ছড়িয়ে পড়ল, আর ছেলেবুড়ে৷ সকলে ছুটে এসে, সব শুনে ধেই ধেই করে নাচতে লাগল।

পাকা ফলার

গ্াড়াগীয়ে এক ফলারে বামুন ছিল। তাহাকে যাহারা ন্রিমন্ত্রণ করিত, তাহারা সকলেই খুব গরিব; দৈ-টিড়ের বেশি কিছু খাইতে দিবার ক্ষমতা তাহাদের. ছিল না?

্রাঙ্মাণ শুনিয়াছিল, দৈ-চিড়ের ফলারের চাইতে পাকা ফলারটা ঢের ভাল! সুতরাং এরপর যে ফলারের নিমন্ত্রণ করিতে আসিল, তাহাকে সে বলিল, “পাকা ফলার খাওয়াতে হবে।' সে বেচারা গরিব লোক, পাকা ফলার সে কোথা হইতে দ্বিবে£ তাই সে বিনয় করিয়া বলিল, 'মশাই, পাকা ফলার দেওয়া কি যার তার কাজ? রাজা রাজড়া হলে তবে পাকা ফলার দিতে পারে। এই কথা শুনিয়া ব্রাঙ্মাণ বলিল, “তবে রাজা যেখানে থাকে, সেইখানে গিয়ে আমি পাকা ফলার খাব?

্রাঙ্গাণ পাক! ফলার খাইবার জন্য রাজার..বাড়ি চলিয়াছে। পথে যাহাকে দেখে, তাহাকেই জিজ্ঞাসা করে, 'হ্যাগা, রাজার বাড়িটা কোন্থানটায়? একজন তাহাকে রাজার বাড়ি দেখাইয়। বলিল, যে পাকা বাড়ি দেখছ, এঁটে রাজার বাড়ি।'

্রাম্মণ 'পাকা ফলার' যেমন খাইয়াছে, “পাকা বাড়ি'ও তেমনি দেখিয়াছে। সুতরাং, “পাকা বাড়ি'র কথা শুনিয়া সে ভারি আশ্চর্য হইয়! রাজীর বাড়ির দিকে তাকাইল। সে দেশের সব লোকেরই কুঁড়েঘর ; খালি রাজার একটি সুন্দর পাক! বাড়ি ছিল। রাজার বাড়ি দেখিয়া ব্রাহ্মণের মুখে লাল পড়িতে লাগিল। সে গদগদ-স্থরে বলিল, 'পাকা বাড়ি! আহা! পাকা বাড়িই বটে! না হবে কেন? সে যে রাজা, তাই সে অমন বাড়িতে থাকে। ওটা তয়ের করতে না জানি কত ক্ষীর, ছানা আর চিনি লেগেছিল!”

মনে করিয়া াঙ্ণনাড়াতাড়ি গিয়া রাজার বাড়ির একটা কোণ কামড়াইয়া ধরিল; আবার তখনই “উঃ-হঃ-হঃ” করিয়া কামড় ছাড়িয়া! দিল।

তারপর সে ভাবিতে লাগিল, 'তাই ত, এই পাকা ফলারের এত নাম! আর খানিক ভাবিয়া সে বলিল, 'ওঃ হো! বুঝেছি। নারকেলের মতন আর কি! ওটা ওর খোলা ; আসল জিনিসটা ভিতরে আছে! এই. বলিয়া, সে আগের চাইতে দ্বিগুণ উৎসাহে কামড়াইতে আরভ্ড করিল। তাহার দুইটা দীতি ভাঙিয়া গেল, তাহাতে গ্রাহ্য নাই। কামড়াইতে কামড়াইতে সে সেই কোণের আনেক টআর মনে করিতেছে যে, “আর বেশি দেরি নেই, এরপরই পাকা ফলার

এমন সময় কোথা হইতে মত্ত পাগড়িওয়াল! এক দারোয়ান জাসিয়া তাহাকে ধরিয়া ঠাকুর, জুরি বে হরছুতে হরির হরর বলিয়া দারোয়ান তাহাকে রাজার নিকট লইয়া চলিল। টে

দারোয়ামের কাছে সকল কথা শুনিয়া রাজ! বলিলেন, “কি খ্রকুর, রছিলে?, ব্রাহ্মণ

উত্তর করিল, 'মহারাজ! আমি পাকা ফলা খাচ্ছিলুম। খোলাটা না তে ভাঙতেই এই বেটা দীরোয়ান আমাকে ধ'রে এনেছে!”

এই কথা শুনিয়া রাজামহাশয় হো-হো করিয়। হাসিতে লাগিলেন, আর বেশ বুঝিতে পারিলেন যে, ঠাকুরের পেটে আনেক বৃদ্ধি। যাহা হউক, তাহার সাদাসিধে কথাগুলি রাজার বেশ ভাল লাগিল।

১০৪ উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র

»তঞ।ং তিনি হুকুম দিলেন যে, এই ব্রাগাণকে পেট ভরিয়া পাক! ফলার খাইবার মত ময়দা, ঘি আর ঠাই দাও।

প্রাঙ্গণ মনের সুখে রাজাকে আশীর্বাদ করিতে করিতে ময়দা, ঘি আর মিঠাই লইয়া ঘরে ফিরিল। শঅ]সবার সময় বলিয়া আসিল যে, পাকা ফলার খাইয়া আবার রাজামহাশয়কে আশীর্বাদ করিতে আ।সিবে।

পরদিন সকালে রাজামহাশয়, মুখ হাত ধুইয়া সভায় আসিয়াই সেই ব্রান্গাণকে দেখিয়া জিজ্ঞাসা শয়িলেন, “কি ঠাকুর, কাল পাকা ফলার খেলে কেমন? ব্রা্গাণ বলিল, “মহারাজ, অতি চমতকার ?ণয়েছি! পাকা ফলার কি আর মন্দ হতে পারে? গুঁড়োগুলো আগে গলায় বড্ড আটকাচ্ছিল। জল দিয়ে গুলে নিতে শেষে তরল হল; কিন্তু অর্ধেক খেতে না খেতেই বমি হয়ে গেল।”

ময়দা আর ঘি দিয়া যে লুচি তৈয়ার করিতে হয়, ব্রাহ্মণ বেচারা তাহা জানিত না। কাজেই সে ধাঁ কাচা ময়দাগুলিকেই ঘি আর মিঠাই দিয়া মাখিয়া খাইতে বিশেষ চেষ্টা করিয়াছে। সহজে তরল হয় না দেখিয়া, আবার তাহার সঙ্গে জল মিশাইয়াছে। খাইতে তাহার খুব ভালই লাগিয়াছিল; তবে, গেটে রহিল না, এই যা দুঃখ!

রাজা দেখিলেন, লুচি নিজে তযের করিয়া খুলে আর ব্াঙ্মাপের ভাগো পাকা ফদার গটিতেছে না। সুতরাং তিনি তাহার রসুয়ে বামুনদের একজনকে ডাকাইয়া বলিলেন, “এখান থেকে ময়দা ঘি নিয়ে, ভিযরিনাছিতে হট যর এই ঠাকুরকে পেট ভ'রে পাকা ফলার খাইয়ে - 1ও।”

রসুযে বান ফলারে বামুনকে তাহাররাডিউিখাইয় বলিল, 'আমি খাবার তয়ের ক'রে রাখব, |বকালে আপনি এসে খাবেন। আমি বাড়ি থাকব না, আমার ছেলে ভাগনাকে খেতে দেবে এখন” গ্রা্াণ রাজি হইয়া বাড়ি গিয়৷ বিকাল. বেলার জন্য অপেক্ষা করিতে লাগিল।

রসুয়ে বামুনের সেই ছেলেটা ভাল লোক ছিল না; একটা চোরের সঙ্গে তাহার বন্ধুতা ছিল। রসুয়ে বামুন ফলারে বামুনের জন্য লুচি;সন্দেশ ইত্যাদি তয়ের করিয়া তাহার ছেলেকে বলিল, “সেই লোকটি এলে তাকে বেশ ক'রে খাওয়াস! তাহার ছেলে বলিল, 'তার জন্যে কিছু চিন্তা করো না, আমি তাকে খুব যতু ক'রে খাওয়ার এখন।” রসুয়ে বামুন রাজবাড়িতে রান্না করিতে চলিয়৷ গেল ; আর তাহার ছেলে ফলারে বামুনের খাবারের আয়োজনে মন দিল।দু সেরের বেশি লুচি আর তাহার মত তরকারি মিঠাই ইত্যাদি গ্স্তুত হইয়াছিল। খানচারেক লুচি আর খানিক তরকারি. ফলারে বামুনের জন্য রাখিয়া, আর সমস্ত সেই হতভাগা তাহার সেই বন্ধু আর নিজের জন্য রাখিয়া দিল। ফলারে বামুন আসিলে পর:সে.সেই চারখানা লুচি তাহাকে খাইতে দিল। সে বেচারা জন্মেও লুচি খায় নাই, তাহাতে আবার এমন চমৎকার লুটি-_রাজার বামুন ঠাকুর যাহা তয়ের করিয়াছে! এমন জিনিস দু- চারখানি মাত্র_খাইয়া তাহার পেট ভরিলই না, বরং তাহার ক্ষুধা বাড়িয়। গেল। সে খালি দুঃখ করিতে লাখিল, 'আহা! আর যদি খানকতক দিত!»

রসুয়ে বামুনেরং বাড়ি হইতে বাহির হইয়া কলারে বামুন রান্ডা দিয়া চলিল। তাহার মনের রাখবার আর জায়গা দেখিতেছে না। চলে, আর খালি বলে, “আহা! আর যদি খানকতরু স্লিটা

এমন সময় হইয়াছে কি, রাজার প্রধান ভাণ্ডারী সেই রাস্তা দিয়া চলিয়াছে। সে পিই দিন সকাল বেলায় ফলারে বামুনের জন্য পুরো দু সের ময়দা আর জিনিস মাপিয়া দিয়াছে। ফলারে বামুনের মুখে কথা শুনিয়া সে জিত্ঞসাক্রি কি যদি আর খানকতক দিত? ফলারে বামুন বলিল, "বাবা আমি কথা বলছি। রাজামশাই চিরজীবী হউন, আমাকে এমন জিনিস খাইয়েছেন! খা! আর খানকতক হত!”

ভাণ্ডারী জিজ্ঞাসা করিল, "আপনাকে খান! দিয়েছিল? ফলারে বামুন বলিল, 'চারখানি পাকা ফলার আমাকে দিয়েছিল ।” ভাণ্ডারী সবই বুঝিতে পারিয়া বলিল, 'সে কি ঠাকুরমশাই! দু সের ময়দা

উপেপ্রকিশোর সমগ্র 0 ১০৫

দিয়েছি, তাতে কি মোটে চারখান! নুচি হয়?” ব্রাহ্মণ বলিল, 'হ্যা বাপু, চারখানাই ছিল। আর তাতে খুব চমৎকার লেগেছিল।” ভাণ্ডারী বলিল, “দু সের ময়দায় তার চেয়ে ঢের বেশি লুচি হয়। আমার বোধ হচ্ছে, রসুয়ে বামুনের ছেলেটা বাকি লুচিগুলো যাচায় তুলে রেখেছে। আপনি আবার যান। এবারে গিয়ে একেবারে মাচায় উঠবেন; দেখবেন আপনার লুচি সেখানে আছে।'ব্রাঙ্গাণ বলিল, তাই নাকি? বাপু তৃথি বেঁচে থাকো। 'হতভাগ৷ বেল্লিক, বাঁদর, শয়তান পাজি” বলতে বলতে ব্রাহ্মণ সেই রসুয়ে বামুনের বাড়ির পানে ছুটিল। গালিগুলি অবশ্য ভাণারীকে দেয় নাই_রসুয়ে বামুনের ছেলেকে দিয়াছিল।

রসুয়ে বামুনের ছেলে ফলারে বামুনকে চারিখানি লুচি খাওয়াইয়া বিদায় করিয়াই, তাহার সেই চোর বন্ধুর কাছে গিয়াছিল। সেখানে গিয়া সে চোরকে বলিল, “বন্ধু, ঢের লুচি তয়ের ক'রে মাচার উপর রেখে এসেছি। তুমি শিগ্গির যাও ; আমিও এগার থেকে একটা জিনিস নিয়ে এখনি আসছি॥

চোর রসুয়ে বামুনের মাচার উপর উঠিয়া সবে লুষিরর্টীকরাখুলিতে যাইবে, এমন সময় ফলারে বামুন আসিয়া উপস্থিত। এবারে কথাবার্তা নাই, একেবারে মাচায় গিয়া উঠিল। চোর মুশকিলে পড়িল। লুকাইবারও স্থান নাই, পলাইবারও পথ নাই ।এখন সে যায় কোথায়? শেষটা আর কি করে, মাচার কৌণে একটা কাঠের থাম জড়াইয়া কোনরকমে বেমালুম হইয়া থাকিতে চেষ্টা করিতে লাগিল। একে 'সন্ধ্যাকাল, তাহাতে আবার ফলারে বামুন নিতান্তই সাদাসিধে লোক, লুচি খাইবার জন্য তাহার মনটা যার পর নাই ব্যস্ত রহিয়াছে। সুতরাং চোরকে সে দেখিতে পাইল না। ফলারে বামুন সামনে লুচি, সন্দেশ, তরকারি মিঠাই সাজানো দেখিয়াই খাইতে বসিয়া! গেল। পেটে যত ধরিল, তত সে খাইল। আর একটি হজমি গুলির স্থানও নাই।

এমন সময়ে ভারি একটা মজা হইল রসুয়ে বামুনের ছেলেও বাজার হইতে ফিরিয়া আসিয়াছে, আর ঠিক সেই সময় রসুয়ে বামুনও আসিয়াছে। অন্যদিন সে প্রায় দুপুর রাত্রের পূর্বে ফিরে না, কিন্ত সেদিন সে ভুলিয়া একটা ঝাজর! ফেলিয়া গিয়াছিল, সেটার ভারি দরকার। ছেলে আশ্চর্য হইয়া জিত্ঞাস! করিল, 'বাবা, তুমি এখনি ফিরে এলে যে£' রসুয়ে বামুন বলিল, 'ঝাজরা ফেলে গিয়েছিলুম, তাই নিতে এসেছি।'

এতক্ষণে ফলারেবামুনের পেট এত বোঝাই হইয়াছে যে, আর-একটু হইলেই তাহার দম আটকায়। পিপাসায় গলা শুকাইয়া গিয়াছে, কিন্তু সেখানে জল নাই। সে 'জল জল” বলিয়া চেঁচাইতে চেষ্টা করিল, কিন্তু ভাল করিয়া কথা ফুটিল না।

রসুয়ে বামুন তাহার ছেলেকে বলিল, “ওটা কি রে?” ছেলে দেখিল, ভারি মুশকিল। সে ফলারে বামুনের কথা আর জানিত না, কাজেই সে মনে করিয়াছে যে ওটা! তাহার বন্ধু, গলায় সন্দেশ আটকাইয়া বিশ্রী স্বরে জল চাহিতেছে। বন্ধুর খবরটা বাপকে দিলে সে আর বন্ধুর হা আস্ত রাখিবে না, আর কিছু না বলিলেও হয়ত এখনই মাচায় উঠিয়া দেখিবে। এমন সময় হঠাৎ তাহার বুদ্ধি

জৌগাইল-_সঁবলিল, 'বাবা, বাবা, ওটা, নিশ্চয় ভূত।তা নইলে মাচার থেকে অমন বিশ্রী আওয়ু দেবে কেন।"

ভূতের কথা শুনিয়া রুয়ে বামুন কাপিতে লাগিল। আরো মৃশকিলের কথা৷ এই ফে্টেউটী জল চাহিতেছে। তাহার কাছে জল লইয়া যাইতে কিছুতেই ভরসা হইতেছে না, জুট না পাইলে সে নিশ্চয় ভয়ানক চটিয়া যাইবে। তারপর সে কি করে তাহার ঠিক কি? র'ভারি ইচ্ছা, সে ভূতকে জল দিয়া আসে। কিন্তু রসুয়ে বামুন বলিল, “তা হবে না, যদি ভেঙে দেয়।' এই সময়ে তাহার মনে হইল যে, মাচার উপর কয়েকট! নারকেল ছাড়ানৌঠআছে, সুতরাং সে ভূতকে বলিল, “'মাচায় নারকেল আছে, থামে আছড়ে ভেঙে খাও।”

ফলারে বামুনের হাতের কাছেই নারকেলগুলি ছিল ; সে তাহার একটা হাতে লইয়া থামে

১০৬ 0 উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র

আছড়াইয়া ভাঙিতে গেল। ষে থাম জড়াইয়া চোর দীড়াইয়াছিল, ব্রাহ্মণ পিপাসার চোটে থাম মনে করিয়া সেই চোরের মাথাতেই নারকেল আছড়াইয়া বসিয়াছে_ একেবারে মাথা ফাটাইয়৷ ফেলিবার (জাগাড় আর কি!

এরপর একটা মস্ত গোলমাল হইল। নারকেলের বাড়ি খাইয়া চোর ভয়ানক চেঁচাইয়া উঠিল। ভারিভাহাতে লিক উবার টির দিও হাউমাউ করিতে লানিদ। লোলরাণ ওলি পাড়ার সমস্ত লোক সেখানে আসিয়! জড়ো হইল! আসল কথাটা জানিতে এরপর আর বেশি দেরি হইল শ।। চোর ধরা পড়িল, আর রসুয়ে বামুন তাহার ছেলেকে সেই ঝাজরা দিয়া এমনি ঠেঙান ঠেঙাইল যে কি বলিব!

দুঃখীরাম...

পীরে সবে না কি ভি স্ত তাহার এর চাইতে ঢের ভাল একটা নাম ছিল-_সেটা আমি ভুলিয়া গিয়াছি।

দুঃখীরামের যখন সবে দুই বছর বয়স, তখন তাহার মা-বাপ মরিয়া গেল। পৃথিবীতে তাহার আপনার বলিতে আর কেহই ছিল না, খালি ছিল মামা কেন্ট। দু বছরের ছেলে দুঃখীরাম তাহার মামার খবর কিছুই জানিত না, তাহার মামাও তাহার.কোন খবরই লইল না। কাজেই পাড়ার লোকেরা দয়া করিয়া তাহাকে মানুষ করিতে লাগিল। তখন হইতেই লোকে তাহাকে দুঃখীরাম বলিয়৷ ডাকিত।

গরীবের ছেলের দুবেলা পেট ভরিয়া খাইতে পাওয়াই অনেক সময় মুশকিল হয়, এর উপর আবার কে তাহাকে লেখাপড়া শিখাইবে? অন্য ছেলেদের ফেলিয়া-দেওয়া ছেঁড়া বই পড়িয়া আর পাড়ার লোকের খুঁটিনাটি কাজ করিয়া তাহার দিন যাইতে লাগিল। ইহার মধ্যে একদিন দুঃখীরাম শুনিল যে কেন্ট বলিয়া তাহার একজন মাম! আছে। শুনিয়াই সে মনে করিল যে, একবার মামার বাড়ি যাইতে হইবে।

অনেক সন্ধান করিয়া শেষে সে কেন্টর বাড়ি বাহির করিল। কেন্ট তাহাকে দেখিয়াই বলিল, “তাই ত, দুঃখীরাম এসেছ! এখানে. কত কষ্ট পাবে, তা জান না। আমরা যে দু মাসে একদিন খাই! কাল খেয়েছি, আবার'দু মাস পরে খাব।"

দুঃখীরাম বলিলি, “মামা, তার জন্য ভাবনা কি? তোমরা যখন খাবে, আামিও তখনই খাব? কেন্ট আর কিছুই বলিল না দুঃবীরামও আর কিছু বলিল না। মামার বাড়িতে খালি মামা আর মামাত ভাই হরি ছাড়া আর কেহ নাই। মামাত ভাইকে সে দাদা বলিয়া ডাকিতে লাগিল।

সারাদিন কেন্ট আর হরি কেহই কিছু খাইল না। কাজেই দুঃখীরামেরও খাওয়া জুটিল না। দুঃখীরাম এর চাইতে অনেক বেশি সময় না খাইয়া কাটাইয়াছে, সুতরাং তাহার বড় একটা ক্রেশও হইল না। সন্ধ্যার সময় সে কেন্টকে বলিল, 'মামা, আমার বড্ড ঘুম পেয়েছে, আমি ঘুমোই।' কেন্ট যেন ভারি খুশি হইল, আর তখনই তাহাকে একটা মাদুর বিছাইয়া দিল। দুঃখীরাম সেই চুপ করিয়া শুইয়া রহিল।

খানিক পরে কেন্ট আর হরি আসিয়া তাহার পাশেই ঘুমাইতে লাগিল। আসল ব্ধা ঘুমায় নাই-_মামা খালি ভাবিতেছে, কতক্ষণে ঘুমাইবে, আর দুঃখীরাম ভাবিতেছ্েএপ '্রামা কি করে। দেখিতে দেখিতে হরির নাক ডাকিল। দুঃখীরাম বুঝিল দাদা ঘুম য়ে নরেন পাশে একটা খচমচ শব্দ শুনিয়া বুঝিতে পারিল যে, এবারে মামা উত্থ্ফািছৈ। তারপর হেঁশেলে হাড়ি নাড়ার শব্দ হইল। তারপর হাঁড়ি ধোয়ার খলখল শব্দ, উনান ধরাইবাঁর ফুঁ-_সকলই শুনা গেল।

দুঃখীরামের জার কিছুই বুঝিতে বাকি রহিল না। তখন সে চুপিচুপি উঠিয়া রান্নাঘরের বেড়ার ফুটা দিয়া! দেখিল, কেন্ট পায়েস রীধিতেছে। উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র 0 ১০৭

দুঃখীরাম এক-একবার উঠিয়া দেখে, আবার আসিয়া চুপ করিয়া শুইয়া থাকে। যখন দেখিল যে, পায়েস প্রস্তুত হইয়াছে, তখন হাউমাউ করিয়া উঠিয়া বসিল। গোলমাল শুনিয়। কেন্ট তাড়াতাড়ি রান্নাঘর হইতে আসিয়া জিজ্ঞাসা করিল, “কি রে দুঃখীরাম, কি হইয়াছে?"

দুঃখীরাম বলিল, 'মামা, ঘরে তুমি কি করছিলে, আর একজন লোক বেড়ার ফুটো দিয়ে উকি মারছিল।' দুঃবীরাম' নিজের কথাই বলিয়াছ, কিন্তু কস্ট মনে করিল বুঝি চোর আসিয়াছে। তাই সে লাঠি হাতে ঘরের পেছনে বনের ভিতরে চে'র তাড়াইতে ছুটিল।

তখন দুঃখীরাম তাহার দাদাকে ঠেলিয়৷ তুলিয়৷ বলিল, 'দাদা, শিগ্গির ওঠো, মাম! একটা লাঠি হাতে তাড়াতাড়ি কৌথায় যেন বেরিয়ে গেলেন।”

হরি বেচারার মনে ভারি ভয় হইল। সে মনে করিল যে লাঠি হাতে যখন গিয়াছে তখন নিশ্চয়ই একটু দূরে কোথাও গিয়াছে। তিন মাইল দূরে হরির ভগীর বাড়ি, হয়ত হঠাৎ তাহার কোন ব্যারাম হইয়াছে, আর বাবা খবর পাইয়! তাহাকে দেখিতে গিয়াছে। এইরূপ ভাবিয়া হরি ব্যস্ত হইয়া তাহার ভগ্ীর বাড়ি চলিল। খানিক পরে কেন্ট ফিরিয়া আসিল। সে চোরকে ধরিতে পারেই নাই, লাভের মধ্যে বিছুটি লাগিয়া তাহার সর্বাঙ্গ জুলিয়া গিয়াছে সেআসিয়া হরিকে দেখিতে না৷ পাইয়া দুঃঘীরামকে জিজ্ঞাসা করিল, 'হরি কোথায় রে? ২২

দুঃখীরাম বলিল, “মামা, তুমিও গেলে, আর:যে লোকটা তোমার ঘরে উকি মারছিল, সেই লোটা দাদাকে ঘুম থেকে উঠিয়ে তার সা কা ইল; আর দাদাও তথ্থুনি বেরিয়ে গেল

ইহা শুনিয়া কেষ্ট মনে করিল যে হরি-নিশ্চয় পাড়ায় দুষ্ট ছেলের সঙ্গে জুটিয়া তাস খেলিতে গিয়াছে। সুতরাং হরি এবং সেই পাড়ার দুষ্ট ছেলেটার উপর তাহার ভয়ানক রাগ হইল, আর সেই লাঠি হাতে করিয়াই সে তাহার সঙ্গীকে শাস্তি দিবার জন্য পাড়া খুঁজিতে বাহির হইল।

দুঃখীরাম যখন দেখিল যে, ওর. মামা আর দাদার বাড়ি ফিরিতে একটু বিলম্ব হইবে, তখন সে আস্তে জানতে রান্নাঘরে গিয়া পায়েসের হাঁড়ি নামাইল। একে দুঃখীরামের বড়ই ক্ষুধা পাইয়াছিল, তার উপর আবার তার মামা রাঁধে বড় সরেস। সুতরাং দেখিতে দেখিতে সেই পায়সের হাঁড়ি খালি হইয়া! গেল। তারপর দুঃখীরামআবার সেই মাদুরে শুইয়া আরামে নিদ্রা গেল।

হরি ভগ্মীর বাড়িতে গিয়া তাহাকে ভালই দেখিতে পাইল। কিন্তু সে রাত্রে তাহার বোন আর তাহাকে বাড়ি ফিরিয় আসিতে দিল না। এদিকে কেন্ট তাহাকে আকাশ-পাতাল করিয়া খুঁজিতেছে, এবং তাহাকে .কোথাও দেখিতে না পাইয়া রাগে আর বিছুটির জ্বালায় ছটফট করিতেছে। সুতরাং ভোরবেলা হরি যেই বাড়ি ফিরিয়া আসিল, অমনি কেন্ট সেই লাঠি দিয়৷ তাহাকে খুব কয়েক ঘা৷

পরদিন বাটা মিলিযা রাজার নিকট নালিশ করিতে গেল। রাজা টিয়ার

জিজ্ঞাসা করিলেন, 'হ্যারে তুই এমন কাজ কেন করলি? ওদের পায়েস চুরি করে কেন

কথা বলে কেন ওদের নাকাল করলি।" দুঃখীরাম হাত জোড় করিয়া ঝলিল, “দোহাই ধর্মাবতার! ওঁরা দুমাসে কি

তাআমি সত্যি কথাই বলেছি, তাতে যদি ওরা খামকা নাকাল হতে হোঁপ্রেন তা আমার কি দোষ” রাজা ভাগাগোড়া সমস্ত শুনিয়া খুব হাসিতে লাগিলেন। মোকদর্মী ডিসমিস হইয়া গেল। দুঃঘীরামকে বেশ চালাক-চতুর দেখিয়া রাজা তাহাকে একটি চাকরি দিলেন। দুঃখীরাম এত ভাল

করিয়া কাজ করিতে লাগিল যে, কয়েক বৎসরের ভিতরেই সেই সামান্য চাকরি হইতে ক্রমে সে

১০৮ উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র

ছোট মন্ত্রীর পদে উঠিল। বড় মন্ত্রীর পদ খালি হইলে যে তাহাও সে পাইবে, কথা সকলেই বলিতে ল!গিলেন।

বড় মন্ত্রী লোকটা বড় সুবিধার ছিলেন না। দুঃখীরামকে তিনি ভারি হিংসা করিতেন, আর কি করিয়া তাহাকে জব্দ করিবেন, ক্রমাগত তাহাই ভাবিতেন।

এক সওদাগরের সঙ্গে বড় মন্ত্রীর বন্ধৃত! ছিল। সেই সওদাগরের একটা পক্ষিরাজ ঘোড়া ছিল। পক্ষিরাজ ঘোড়া মানুষের মত কথা কহিতে পারে, শূন্যে উঠিয়া এক মাসের পথ এক মিনিটে যাইতে পারে, আর ভূত ভবিষ্যৎ সব বলিয়। দিতে পারে। এই ঘোড়াটাকে পাইবার জন্য মন্ত্রীযহাশয় অনেক দিন হইতে চেষ্টা করিতেছেন ; কিন্তু সওদাগর কিছুতেই সেটা তাহাকে দিতে চায় না।

এর মধ্যে সওদাগর একবার বিদেশে গিয়াছিল, দেখান হইতে একটা খুব আশ্চর্য আমের আঁটি লইয়া জাসিয়াছে। সে আঁটির এই গুণ যে, তাহা পুঁতিঝামাত্র গাছ হয়, তাতে তৎক্ষণাৎ আম হয়, তখনই সেটা পাকে, আর তখনই তাহা খাওয়া যায়। খাওয়ার-পরর আবার সেই আঁটি মাটির ভিতর হইতে তুলিয়৷ বাক্সে পুরিয়া রাখা যায়।

মন্ত্রীঘহাশয় সওদাগরের চাকরকে টাকা দিয়া কণ্ঠ ররিলেন। সে তীহার কথায় সওদাগরের আমের আঁটি সিদ্ধ করিয়া রাখিল। তারপর একদিন মন্ত্রীমহাশয় সওদাগরের সঙ্গে কথা বলিতে বলিতে জিজ্ঞাসা করিলেন, “বন্ধু, তুমি নাকি ভারি আশ্চর্য একটা আমের আঁটি আনিয়াছ? সওদাগর বলিল, "হ্যা বন্ধু, সেটাকে পুঁতিলে তখনই-গ্রাছ হয়, তখনই তাতে ফল হয়, তখনই তাহা পাকে, আর তখনই তাহা খাইয়৷ আঁটিটি আবার বাক্সে রাখিয়। দেওয়া যায়।”

মন্ত্রীমহাশয় নাক মুখ সিঁটকাইয়া বলিলেন, *ও কথ! আমার বিশ্বাস হয় না।”

সওদাগর বলিল, “আচ্ছা বাজি রাখুন। আমার কথা সত্য হয় কি হইবে?” মন্ত্রী বলিলেন, 'তাহা-_হইলে পরদিন আমার বাড়িতে গিয়া প্রথমে যে জিনিসটাতে হাত দিবে সেইটা তোমার, আর যদি তোমার কথা সত্য না হয় £, স্ওদাগার বলিল, 'তবে ভাপনি পরদিন আমার বাড়িতে আসিয়। প্রথমে যাহাতে হাত দিবেন, তাহাই-আপনার হইবে।'

ঠিক হইল, পরদিন সওদাগরের- বাড়িতে মন্ত্রীহাশয়ের নিমন্ত্র, আর তখন আমের আঁটির পরীক্ষা হইবে। আঁটি সিদ্ধ করিয়া রাখিয়াছে, সুতরাং পরীক্ষার ফল কি হইল তাহা বলিয়া দিতে হইবে না। সওদাগর:বেচারার মাথায় যেন ভাকাশ ভাঙিয়। পড়িল। এবারে সে বুঝিতে পারিল যে, আর পক্ষিরাজ ঘোড়াকে রাখিতে পারিবে না।

অনেক ভাবিয়া কোন উপায় স্থির করিতে ন৷ পারিয়া শেষে সওদাগর ছোট মন্ত্রীর কাছে গেল। সেখানে হাত জোড় রুরিয়া কাদিতে কাদিতে সকল কথা নিবেদন করিল। বৃদ্ধিমীন ছোট মন্ত্রী একটু চিন্ত। করিয়া তাহাকে একটা উপায় বলিয়া দরিলেন। সওদাগর সন্তষ্টচিত্তে বাড়ি ফিরিয়! পক্ষিরাজ ঘোড়ার আত্তারলের দরজ! দড়ি দিয়া বাঁধিয়া সুখে নিদ্রা গেল।

পরদিনভোর হইতে না হইতেই মন্ত্রীমহাশয় সওদাগরের বাড়ি গিয়া ডাকিতে লাগিলেন, “বন্ধু! বন্ধু” সওদাগর শশব্যস্ত হইয়া উঠিয়া তাহার অভ্যর্থনা করিল। মন্ত্রীমহাশয়ের একটু বসিবার সয় না। তিনি না বসিয়! জিজ্ঞাসা করিলেন, “কই বন্ধু সে কথার কি হইল?” সওদাগর বলিল প্রস্তুত আছি, এখন আপনার যাহাতে খুশি হাত দিয়া লইয়া যাইতে পারেন। মন্ত্রী আত্তাবলের দিকে চলিলেন। সওদাগরও সঙ্গে সঙ্গে গেল।

আন্তারলের দরজা বাঁধা হিল।মত্মহাশয় দড়ি ধরিয়া এক টান দিয়া ফেলিলেন। অমনি সওদাগর বলিল, 'সে কি বন্ধু। আপনার মতন লোকের সা গাছটায় লোভ! একটা কোন দামী জিনিস লইলে সুখী হইতাস।” মন্ত্রীর চক্ষু স্থির! অত দ্র ঠকিবেন, তাহা তিনি মনেও করিতে পারেন নাই। সওদাগরের কথার উত্তর দিতে না পারিয়া আমতা আমতা করিয়া ঘরে ফিরিলেন।

উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র) ১০৯

পথে যাইতে যাইতে মন্ত্রীমহাশয় স্থির করিলেন যে, ছোট মন্ত্রী ছাড়া আর কাহারো কর্ম নয়। তারপর যখন শুনিলেন যে, সেদিন রাত্রে সওদাগর ছোট মন্ত্রীর বাড়ি গিরাছিল তখন বুঝিলেন, নিশ্চয় ইহ! ছোট মন্ত্রীর কাজ।

পরদিন দুপুরবেলা যখন রাজা ঘুমাইতেছিলেন, তখন মন্ত্রীমহাশয় গিয়া জোড়হাতে তাহার সামনে দাঁড়াইয়া রহিলেন। খানিক পরে রাজা চক্ষু মেলিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “কি বড় মন্ত্রী মন্ত্রী বলিলেন, “দোহাই মহারাজ! সুলক্ষণ সওদাগরের একটা পক্ষিরাজ ঘোড়া আছে, কিন্তু মহারাজের আস্তাবলে একটাও পক্ষিরাজ ঘোড়া নই।” রাজা বলিলেন, 'বটে! ঘোড়া আমার চাই। মন্ত্রী আরো বিনয় করিয়া কাদো-কীদো স্বরে বলিলেন, “মহারাজের যাহাতে ভাল হয় আমার সেই চেষ্টা, আর ছোঁট মন্ত্রী দিনরাত তাহাতে বাধা দেয়।” রাজা বলিলেন, 'সে কিরকম?” মন্ত্রী বলিলেন, 'মহারাজের জন্য সেই পক্ষিরাজ ঘোড়া আমি আনিতে গিয়াছিলাম, কিন্তু ছোট মন সুলক্ষণকে মহা দিয়া সে ঘোড়া আনিতে দেয় নাই।

রাজাদের মেজাজ সেকালে বড়ই অস্থির ছিল। সহজেই অ্তষ্ট হইতেন, আর সামান্য কথাতেই চটিয়া উঠিতেন। বকশিশ দিতেন অর্ধেক রাজ্যই দিয়া ফেলিতেন, আর সাজা দ্রিতেন মাথাটাই কাটিয়া ফেলিতেন। রাজা ছোট মন্ত্রীর উপর এতদিন. সন্তুষ্ট ছিলেন, তাই তাহাকে ছোট মন্ত্রী করিয়াছিলেন! আজ বড় মন্ত্রীর কথা শুনিয়! এতই চটিয়া গেলেন যে, তখনই তাহাকে হাত-পা বাঁধিয়া আনিতে হুকুম দিলেন। বেচারা কোন বিপদের কথ! জানিত না, সুখে ঘুমাইতেছিল, এমন সময় রাজার লোক আসিয়। তাহার হাত-পা বাঁধিয়া লইয়া চলিল।

দুঃখীরামের এই সাজার হুকুম হইল-যে, তাহাকে থলের ভিতর পুরিয়া৷ পাথর বাঁধিয়া সমুদ্রে ফেলিয়া দেওয়া হইবে। রাজামহাশয়ের সামনেই থলে আর পাথর আনিয়া সব বাঁধিয়া ঠিক করা হইল, তারপর রাজা চারিটা জল্লাদূকে হুকুম দিলেন যে, 'একে সমুদ্ধে ফেলে দিয়ে আয়।

দুঃখীরামকে সকলেই ভালবাস্লিত। সুতরাং তাহার এই সাজার কথা শুনিয়া সকলেরই ভারি ক্রেশ হইল। পথে যাইতে যাইতে জল্লাদের চুপিচুপি পরামর্শ করিল যে, এমন ভাল লোককে কখনই সমুদ্রে ফেলিয়া মারা হইবে না। এইরূপ স্থির করিয়া তাহার! সমুদ্রের ধারে একটা বনের ভিতরে দুঃখীরামকে রাখিয়! থলের মুখ খুলিয়া দিয়া আঁসিল। আসিবার সময় তাহাকে একখানি কুড়াল আর এক টুকরা নেকড়া দরিয়া বলিয়া আসিল, “ছোট মন্ত্রীমশাই, আমরা আর তোমাকে কি দিতে পারি, এই নেকড়া কুড়াল নাও) কাঠ কেটে বাজারে বিক্রি করে খেও। তোমার দোহাই ছোট মন্ত্রীমশাই, আমাদের রাজার দেশে যেও না। সেখানে তোমাকে দেখতে পেলে রাজা তোমাকেও রাখবে না, আমাদেরও রাখবে-না।'

দুঃখীরাম এখন কাঠুরে হইয়াছে, লক্বা লম্বা চুল দাড়ি গৌফ রাখিয়াছে আর নিজের পোশাকটা ফেলিয়া দিয়া: সেই জল্লাদের দেওয়া নেকড়াখানা পরে। ভাল করিয়। ন্বান না করাতে তাহার গায়ের রং ময়লা হইয়া গিয়াছে! পেট ভরিয়া খাইতে না৷ পাওয়াতে ঢের রোগা হইয়া গিয়াছে। এখন তাহাকে দেখিলে আর চট করিয়া চেনা যায় না। এইরূপ অবস্থায় কষ্টে দুঃখীরামের দিন কাটিতে

সদন কস তেমন বুড়ামানুষ আর দুঃখীরাম কখনো দেখে

যাইতেছে। দুঃবীরাম তখনই কুড়াল দিয় সাপটাকে টুকরা ট্করা করছি টুকরাগুলি ঝরনার জলে ফেলিয়া দিল। কি আশ্চর্য! সেই টুকরাগুলি জুপিড়িক করিয়া ফুটিতে লাগিল। তাহার শব্দ শুনিয়া বুড়ি ব্যস্ত হইয়া উঠিয়া ওুঁসি

বুড়ি খানিক অবাক হইয়! ঝরনার দিকে তাকাইয়া রহিল। তারপর দুঃখীরামকে জিজ্ঞাসা করিল, 'তুমি কে বাবা? দুঃখীরাম বলিল, 'আমি দুঃখীরাম।” বুড়ি বলিল, “বাবা, তুমি কি চাও?" দুঃখীরাম

১১০ উপেন্দ্রকিশোর সমণ্র

বলিল, 'আমি কিছু চাই না। তুমি বুড়োমানুষ, বনের ভিতর কেন আসিয়াছ? কত জন্তটত্ত আছে, শীখ চলিয়! যাও ।” বুড়ি বলিল, “বাপু তুমি আমাকে প্রাণে বাঁচাইয়াছ, আমি তোমাকে কিছু ন! দিয়া অমনি যাইতে পারিতেছি না।” দুঃখীরাম কিন্তু কিছুই লইবে না, সুতরাং বুড়ি চলিয়া গেল। কিন্তু খাইবার সময় চুপিচুপি বলিয়া গেল, 'তুখি কিছু লইলে না- আচ্ছা, আমি তোমাকে এক বর দিয়া যাইতেছি যে, তুমি যাহা ইচ্ছা কর তাহাই হইবে। দুঃখীরাম ততক্ষণে কুড়াল হাতে অনেক দূরে টলিয়! গিয়াছে, সুতরাং এ-সকল কথা সে শুনিতে পাইল না। আজ দুঃখীরামের ঢের বেলা হইয়া গিয়াছে। কখন কাঠ কাটা হইবে, সেই কাঠ বাজারে বিক্রি হইবে, তবে তাহার পেটে দুটি ভাত পড়িবে। এ-সকল কথা ভাবিয়। বেচারীর মনটা একটু দুঃখিত ছিল, তাই তত সাবধান হইয়। পথ চলিতে পারিতেছে না। সামনে একটা ছোট গাছ পড়িয়াছিল, তাহাতে হৌচট খাইয়! দুঃখীরাম পড়িয়া গেল। একে.মন ভাল নাই, তাহার উপর এরূপ দুর্ঘটনা হইলে কাহার না রাগ হয়? দুঃখীরাম রাগিয়া বলিল, "দর ইছাই। মুহ্ুকে গাছপালা না থাকিলেই ভাল ছিল!” যেই কথা বলা, আর অমনি সেখানকার যত গাছপালা সব কোথায় চলিয়া গেল, যেখানে উয়ানক বন ছিল, সেখানে খালি মাঠ ধু ধু করিতে লাগিল কি সর্বনাশ! এখন কাঠই বা কোথা হইতে মিলে, আর দুঃখীরামের খাওয়াই বা কি করিয়া হয়? বেচারা ব্যাপার দেখিয়া একেবারেই অবাক! 'ইহার কারণ কিছুই ঠিক করিতে না পারিয়৷ আপনমনে খালি হাটিয়! চলিল। বেল! ঢের হইয়াছে, গুধা আরো বেশি হইয়াছে, এমন অবস্থায় শুধু পথ চলিলেই কত কষ্ট, তাহাতে আবার হাতে প্রকাণ্ড কুডাল। সে যে-সে কুড়াল নয়, জল্লাদের কুড়াল। সাধারণ কুড়ালের দুখানার সমান তাহার একখানা ভারি হয়। সেদিন দুঃখীরামের কাছে সেটা যেন দশটা কুড়ালের মত ভারি ঠেকিতে লাগিল, আর সেটাকে বহিয়া নিতে ইচ্ছা হয় না। সুতরাং দুঃবীরাম সেটাকে ছুঁড়িয়া ফেলিয়া বলিল, 'আমি আর পারি না, অত ভারি কুড়ালের হাত-পা থাকা উচিত, তাহা হইলে আমার সঙ্গে সঙ্গে চলিতে পারে।" কুড়াল তাহাই করিল! কৌথা হইতে মাকড়সার পায়ের মতন তাহার সব পা হইল ঃআর সে টুকটাক করিয়া দুঃখীরামের পিছু পিছু চলিল। দেখিয়া শুনিয়া বেচারার মাথায় আরো গোল লাগিয়া গেল। সে. একভাবেই চলিয়া যাইতে লাগিল, আর ভাবিতে লাগিল, হইল কি! যাইতে যাইতে দুঃখীরাম একেবারে নিজের দেশের বাজারে গিয়৷ উপস্থিত। প্রভুভক্ত কুড়াল সঙ্দেই আছে। সে এমনিভাবে চলিয়াছে, যেন চিরকাল তাহার এরকম করিয়াই চল! অভ্যাস। একটা কুড়াল ফি লম্বা লম্বা পা ফেলিয়া তোমার সামনে দিয়! চলিয়া যায়, তুমি তাহা হইলে কি কর? আর .তেমন একটা কুড়াল যদি বাজারে গিয়। উপস্থিত হয়, তাহা হইলে বাজারের (শাকগুলিই বা'কি.করে? বাজারে প্রথম মোড়েই এক গোয়ালার দোকান। সেখানে এক বড়লোকের দারোয়ান ঘি. কিনিতে আসিয়াছে। গোয়ালার হাতে ঘিয়ের বাটি দিয়া সবে সে গৈঠায় বসিয়া তামাকু খাইধার [করিতেছিল, এমন সময় হঠাৎ ফিরিয়া চাহিয়া দেখে, দুঃখীরামের সেই কুড়াল হাত-পাসুদ্ধ একৈবারে তাহার সামনে উপস্থিত। “হায় বাপ" বলিয়া চারি হাত-পা উর্ধ্বে দারোয়ানজী আপনিই এক লাফে একেবারে গোয়ালার ঘাড়ে গিয়া উঠিল। গোয়ালাও গারোয়ানজীকে ঠেলিয়া মাখনের হাঁড়িতে ফেলিয়া, ঘরে দরজা আঁটিল। তারপর য্‌ যে, সেটা কাহাকেও কিছু বলে না, তখন দরজা খুলিয়া তাহার পিছু পিছু তাম মাধ চলিল। সেদিন বাজারে কেনাবেচা বন্ধ। বাবুদের চাকর যাহারা বাজার করি য়াছিল, তাহার! সকলেই কুড়ালের পিছু-পিছু চলিয়াছে, তাহাদের বাজার করা আর্‌-হুযনপ্সীই। দোকানীরাও তাহাই করিতেছে-_পুলিস-পাহারাদার সকলেই সেই কুড়ালের পিছু চলিয়ীর্চছ। চাকরদের সন্ধান লহীতে বাবুর আসিয়াছিলেন, তাহারাও সেই কুড়ালের তামাশা দেখিতেই রহিয়া গেলেন। এইরূপ করিয়া দেশের প্রায় সকল লোক সেইখানে আসিয়া জড়ো হইল। দুঃখীরামের সেই মাম! জার মামাত ভাই

উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র 0 ১১১

কেষ্ট আর হরিও তাহাদের ভিতরে ছিল .

কেন্ট আর হরি প্রথমে কুড়ালের তামাশা দেখিতেই ব্যস্ত.'ছিল, তারপর একবার যেই দুঃখীরামের সুখের উপর চোখ পড়িল, অমনি তাহাদের বুকের ভিতর ধড়াস ধড়াস করিতে লাগিল। ভাল করিয়া দেখিয়া তাহারা বেশ বুঝিতে পারিল যে, দুঃখবীরাম। সুতরাং তাহারা তাড়াতাড়ি মন্ত্রীর নিকট গিয়া খবর দিল, 'ন্ত্রীমহাশয়, সেই দুখেটা আসিয়াছে মন্ত্রী অবিলম্খে এই সংবাদ রাজাকে দিলেন আর বলিলেন, 'মহারাজ, কুড়াল কি কখনো! হাটে ? নিশ্চয় কোন জাদু-টাদু শিখিয়া বদ মতলবে এখানে আসিয়াছে।” রাজা শুনিয়া বলিলেন, 'ঠিক বলিয়াছ, মন্ত্রী। এখনি দশজন সিপাহী পাঠাইয়া দাও, উহাকে বাঁধিয়া নিয়া আসুক।” রাজার হুকুমে দানবের মত দশটা পালোয়ান দুঃখীরামকে আনিতে চলিল।

এদিকে বাজারের লোকেরা দুঃখীরামকে তত গ্রাহা.করে নাই, কিন্তু তাহার কুড়ালটাকে রাজার কাছে লইয়া যাইতে অনেক চেষ্টা করিয়াছে, কিন্তু সে কুড়ালের গায়ে কি ভয়ানক জোর! তাহার গলায় দড়ি বাঁধিয়া! বাজারের পঞস্ত লোক মিলিয়া কত টানিল, কিছুতেই তাহাকে এক পাও. নাড়িতে পারিল না। বরং তাহারা যে দশ মিনিট রিয়া প্রাণপণে “হিয়ো” করিয়াছে, ততক্ষণে দুঃখীরামের কুড়ালই তাহাদিগকে আধ মাইল খানেক টানিয়া লইয়া! গিয়াছে।

এমন সময় রাজার পালোয়ানেরা আসিয়। দুঃখ্বীরামকে বাধিতে লাগিল। দুঃখীরামের কাছে আজ আর কিছুই আশ্চর্য বলিয়া বোধ হয় না। সে কেবল দেখিতেছে, এরপর কি হয়। স্বয়ং বড় মন্ত্রী পালোয়ানদের সঙ্গে আসিয়াছেন, আর বলিতেছেন, “শক্ত করিয়া বাঁধ।' কথা শুনিয়া দুঃখীরাম নিতান্ত দুঃখিত হইয়া বলিল, 'অন্যের বেল! বলা খুব সহজ; তোমাকে একবার ওরকম করিয়া বীধিত, তবে দেখিতে কেমন লাগে।” রী

অমনি চারটা পালোয়ান মন্ত্রীহাশয়কে চিত করিয়া ফেলিয়া ঠিক দুঃখীরামের মতন করিয়া বাঁধিতে লাগিল। মন্ত্রীমহাশয় প্রথমে আশ্চর্য বোধ করিলেন, তারপর চটিয়া লাল হইলেন। কিন্তু পালোয়ানেরা তাহাকে গ্রাহ্য করিল না। রাগে মন্ত্রীমহাশয়ের কথা বাহির হইতেছে না, চোখ দুটো ফুটিয়া বাহির হইবার উপক্রম হইয়াছে, গলার শিরা ফুলিয়াছে, মুখে ফেনা উঠিতেছে। কিন্ত পালোয়ানেরা তথাপি তাহাকে বাঁধিতে কসুর করিতেছে না। বেশ করিয়া বাঁধিয়া তারপর পরীক্ষা করিয়া দেখিল, ঠিক.দ্ুঃখীরামের মতন বাঁধা হইয়াছে কি না। যখন দেখিল যে দুজনকেই ঠিক একরকম করিয়! বাঁধা হইয়াছে, তখন তীহাদিগকে কীধে করিয়া রাজার নিকট লইয়া চলিল। বাজারের লোকেরা এই অদ্ভুত কাণ্ড দেখিয়া অবাক হইয়! সঙ্গে সঙ্গে চলিল।

এই-সকল লোরু যখন রাজার কাছে উপস্থিত হইল, তখন রাজামহাশয়ের ভারি রাগ হইল, এমনও নহে। মন্ত্রীর বীধন তিনি নিজ হাতে খুলিয়া দিলেন, তারপর তাহাকে লইয়া দুঃখীরামের বিচার করিতে বসিলেন। ফেপকল পালোয়ান মন্ত্রীমহাশয়কে বাঁধিয়া আনিয়াছিল, প্রথমে তাহাদের ফাসির হুকুম হইল! দুঃখীরামের সম্বন্ধে একটা হুকুম দিবার পূবেই আহারের সময় হওয়াতে মাঝখানে রাজামহাশয় উঠিয়া গেলেন, খাওয়া-দাওয়ার পর দুঃখীরামের হুকুম হইবে।

দুঃখীরাম বেচারা সেই বাঁধা অবস্থাতেই গড়িয়া আছে। তাহার চারধারে বিস্তর প্রহর দর্শকদিগেরও অধিকাংশই রহিয়া গিয়াছে। দুঃখীরামের দুঃখের কথা আর কি বলিব! বিষয় আর এখন ততটা ভাবে না, কিন্তু ক্ষুধা কিছুতেই থামিয়া থাকিবার টনুছ্রাজামহাশয়, ন্ত্রীহাশয়, সকলেই তাহার করিতে গিয়াছেন। কত সুখাদয জিনিস খাই ীহারা পেট ভরিয়া আসিবেন। দুঃখীরাম দীর্ঘনিঃশ্বাস ছাড়িয়া বলিল, 'ভাহা, ওসব আনিয়া দিত!

রাজা মহাশয় আহারে বসিয়াছেন, সোনার পাত্রে শত ব্যঞ্জন সাজাইয়া তাহার সামনে রাখিয়াছে, তাহার সুগন্ধ নাকে গেলে লম্বা লম্বা নিশ্বাস টানিতে ইচ্ছা হয়, জিভে জল ভাসে। হাত ধুইয়! সবে

১১২ 9 উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র

শঁজামহাশয় খাইবার উপক্রম করিয়াছেন, অমনি থালাসুদ্ধ খাবার জিনিস কোথায় মিলাইয়া গেল! ম্ীমহাশয়েরও এরূপ দশা হইল।

এদিকে দুঃখীরামের আক্ষেপ শেষ হইতে না হইতেই তাহার সামনে রাজা মন্ত্রীর আহারের গমগড আয়োজন আসিয়া হাজির হইল। দুঃখীরাম তাহাতে কিছুই আশ্চর্য বোধ করিল না। তাহার খালি দুঃখ হইতে লাগিল, “হায় হাত পা বাঁধা” বলিতে বলিতে তখনি তাহার বাঁধন খুলিয়া গেল, £স এক লাফে উঠিয়া বসিয়া দু হাতে লুচি, মাংস, পোলাও, পায়স, মেঠাই মোগডা মুখে পুরিতে ফ|গিল।

প্রহ্রীরা ব্যাপার দেখিয়া এতক্ষণ হতবুদ্ধি হইয়া ছিল। হঠাৎ তাহাদের চৈতন্য হইল। একজন শ[লিল, 'আরে ধর, পালাবে।” আর-একজন বলিল, “কোথায় আর পালাবে, আমরা এতজন চারধারে দডিয়ে আছি। আহা, বেচারার সামনে এত জিনিস এসেছে, একটু খেয়ে নিতে দে। কথা শুনিয়া মকলেই বলিল, 'আহা, খাক্‌ খাক্‌!দুঃখীরাম ইহাতে নিতান্ত কৃতর্থ হইয়া বলিল, 'বাপুসকল, তোমরা মাজা হও।”

সেই রাজসভায় রাজার সিংহাসন ছিল। দেখিতে দেখিতে সেখানে তেমনি আরে! হাজার গিংহাসন হইল। তারপর সক্কলেরই রাজার মত বেটৃধাহইল, আর তাহারা এক-একটা সিংহাসনে উঠিয়া বসিল।

রাজামহাশয় সভায় আসিয়া দেখেন, তাহার তন ঢের রাজা সভায় বসিয়া আছে। তাহারা ঠাহাকে বলিল, "মহারাজ, উহাকে ছাড়িয়া দৈওয়! হউক।” রাজা আর কি করেন, এতগুলি রাজার অনুরোধ ঠেলিয়া ফেলা সহজ কথা নয়! কাজেই দুঃবীরাম তাড়াতাড়ি খালাস পাইল।

এমন সময় মন্ত্রীমহাশয় আসিয়া উপস্থিত। তিনি এতগুলি রাজাকে একঠাই দেখিয়া একেবারে ইতবুদ্ধি হইয়া! গেলেন। যেদিকে চান স্নেই দিকেই রাজা, আর মন্ত্রীমহাশয় খালি দু হাতে সেলাম করেন! সেদিন পেটে ভাত অল্পই পড়িযাছিল, তাহাও হাজার রাজাকে সেলাম করিতে করিতে কখন হজম হইয়া গেল।

দুঃবীরামের কথা শুনিয়া মন্ত্ীমহাশয় যার পর নাই বাত হইলেন। জোড়হাতে তিনি রাজাদিগকে অনুনয় করিতে লাগিলেন, “দোহাই ধর্মাবতারগণ, পুনরায় ইহার বিচার করিতে ভাজ্ঞা হয়। এমন ষ্ট লোককে সহজে ছাড়িয়া দিবেন না, কখন কার সর্বনাশ করে তার ঠিক নাই। এই কথা শুনিয়া রাজাদের ভিতর হইতে একজন বলিল, 'সর্বনাশটা যে কে করলে, তা বুঝতে পারছি না। আমি (তোমার মেথর ছিলাম, আর.আজ আমাকে রাজা করে দিয়েছে। এই এখনি তুমি দু হাতে আমাকে কত সেলাম করলে!” ২.২

মন্ত্রীমহাশয় তাশ্চর্য হইয়া দেখিলেন, সত্যি সত্যি তাহার মেথর রাজা সাজিয়া বসিয়া আছে, আর তিনি তাহাকে সেলাম করিয়াছেন ক্রমে দেখ! গেল যে, যত রাজা বসিয়া আছে সকলেই কেহ সহিস, কেহ পাইক; কৈহ দরোয়ান, কেহ দোকানী, কেহ ভিখারি।

রাজামহাশয় আর মন্ত্রীমহাশয় লক্জা রাখিবার আর স্থান পান না। রাজা তাড়াতাড়ি হুকুম “আবার বিচার হইবৈ, উহাকে ধর।” কিন্তু কে ধরিবে? সবাই রাজা সাজিয়া বসিয়াছে, ছকুম কাহারো ইচ্ছা নাই, অগত্যা মন্ত্রীহাশয়ই ধরিতে গেলেন। দুঃখীরাম তাহা! লিল, 'মন্ত্রীমহাশয়, অত কষ্ট, করেন কেন? এই যে আমি হাজির আছি। কিন্ত আমার প্রা আমাকে মারিবে কে? জল্লাদ যে রাজা হইয়া গিয়াছে। এখন ভাপনি আর রুট্ঘাফ্হটীয তবে হয়।”

বলিতে বলিতে রাজা মন্ত্রীর সেই সুন্দর চেহারা আর জমকালে কোথায় চলিয়া গেল, তাহার পরিবর্তে নেংটি-পরা, কুড়াল-হাঁতে, কালো ভূত দুই জল্লাদ সাজিয়া, জোড়হাতে হুকুমের অপক্ষা করিতে লাগিল। এখন হুকুম দেয় কে?

পেখুকিখোর সমগ্র-৮ উপেন্দ্রকিশোর মমপ্র ১১৩

দুঃখীরাম এতক্ষণে বুঝিতে পারিয়াছে যে, যে কারণেই হউক, সে যে ইচ্ছা প্রকাশ করিতেছে, ঘটনায় তাহাই হইতেছে। ইচ্ছা করিলে এখন সে কি না করিতে পারিত। কিন্তু সে বলিল, "মহারাজ, আপনার নুন খেয়েছি, আপনার নিকট অকৃতজ্ঞ হইব না। ভাপনার রাজত্ব আপনারই রহিল। এখন আমাকে বিদায় দিতে আজ্ঞা হউক।'

লজ্জায় রাজামহাশয় মাথা হেঁট করিয়া আছেন। দুঃখীরামের কথার তিনি আর কি উত্তর দিবেন! কেবল বলিলেন, “আমার সমস্ত রাজ্যই তুমি লইতে পারিতে, ইচ্ছা করিলে আমায় গ্রাণেও মারিতে পারিতে। এখন তুমি যাহা বলিলে তাহাতে বুঝিলাম, তুমি মহৎ লোক। আমার অর্ধেক রাজ্য তোমার হউক, আমার কন্যাকে তুমি বিবাহ করিয়া সুখে রাজত্ব করো।'

দুঃখীরাম রাজকন্যাকে বিবাহ করিয়া পরমসুখে রাজত্ব করিতে লাগিল।

আর-সকলের কি হইল? মন্ত্রীমহাশয়ের সম্বন্ধে দুঃখীরাম কিছু বলে নাই, সুতরাং তিনি জল্লাদই রহিয়া গেলেন। যাহার! রাজা হইয়াছিল, তাহাদের সম্বন্ধে এক নতুন মুশকিল উপস্থিত হইল।

রাজা হইয়াছে বটে, কিন্তু রাজ্য কোথায় পাইবে ? অথচ সকলেই বলে, 'আমি রাজা হয়েছি যে, কাজ কেন করব? ইহাতে ভারি অসুবিধা হইতে লাগিল। দুঃখীরাম বলিল, 'বাপুসকল, তোমাদের রাজা-টাজা হইয়া! কাজ নাই, তোমরা যার যার যোগ্যতা অনুসারে কাজকর্ম কর গিয়া, আর সৎপথে থাকিয়া সুখে তোমাদের দিন কাটুক।”

একগ্রামে এক বুড়ো ব্রা্দীণ ছিলেন। তীর নাম ছিল ভবানীচরণ ভট্টাচার্য গ্রামের ছেলেদের সঙ্গে তার খুব ভাব ছিল। তারা তাকে বলত ঠাকুরদা তাদের কাছ থেকে শিখে দেশসুদ্ধ লোকেও তাকে নামেই ডাকত।

ছেলেরা ঠাকুরদার কাছে খুবই আদর পেত, আর তীকে জ্বালাতন করত তার চেয়েও বেশি। ঠাকুরদা ভারি পণ্ডিত আর বুদ্ধিমান ছিলেন। খালি এক বিষয়ে তার একটা পাগলামি ছিল। পেয়াদার নাম শুনলেই তিনি ভয়ে কেঁপে অস্থির হতেন। ছেলেরা সে কথা খুবই জানত আর তা নিয়ে ভারি মজা! করত।

ঠাকুরদা রো তার চ্ডীমগ্ডপের সামনে বসে পুথি লিখতেন। সেই সময়ে মাঝে মাঝে পাড়ার এক-একটা দুষ্টু ছেলে. দাড়ি.পরে, লাল পাগড়ি এঁটে, মালকোচ্চা মেরে লাঠি হাতে এসে ঘরের আড়াল থেকে গলা, ভার করে বলত, 'ভওয়ানী ভটচাজ কোন হ্যায়?” ঠাকুরদা তাতে বিষম থতমত খেয়ে ঘাড় ফিরিয়েই যদ্দি লাল পাগড়ির খানিকটা দেখতে পেতেন, তবে ভার দে পাগড়ি কার মাথায়, সে কথার খবর. নেবার অবসর তার থাকত না। তিনি অমনি এক দৌড়ে বাড়ির ভিতর গিয়ে একেবারে দিদিমার কাছে হাজির হতেন। ছেলেরা বলে যে, তখন নাকি প্রায়ই ঠাকুরদাকে স্নান করতে হত। কিন্তু সে বোধ হয় তাদের দুষ্টুমি।

যা হোক, এমন বিযম ভয়ের কাণুটা যে ছেলেদের কাজ, কথা মুহূর্তের তরেও মাথায় আসত না। তিনি ছেলেগুলিকে বাস্তবিকই খুব ভালবাসতেন। তার কুলগাছটিতে

তাদের সকলকে ডেকে ডেকে একটি-একটি করে কুল প্রত্যেকের হাতে দিতে; বঞ্চিত করতেন না__-একটির বেশিও কখন কাউকে দিতেন না। সেই পরগণার এমন মিষ্টি কুল আর কোথাও ছিল না। কাজেই, একটি খেয়ে ছেলেদের যেমন ভাল খেতে না পেয়ে

তাদের অমনি কষ্ট হত। তবুও এমন কথা শোনা যায় নি যে, ঠাকুরদার দেওয়া ছাড়া আর-একটি কুল কেউ কখনো তার গাছ থেকে খেতে পেরেছে। তার চস্তীমণ্ডপ থেকে সেই কুল গাছটি পরিষ্কার দেখা যেত। সেদিকে

১১৪ উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র

গ্লাউকে যেতে দেখলেই তিনি “কে-রে-এ' ধণে৷ এমনি বিষম হাক দিতেন যে কি বলব! তখন আর হ/৬-পা সামলে ছুট দেবারও উপায় থাকত ন!। দু মাইল দূরে থেকে লোকে বলত, “এ রে! ঠাকুরদা স্টার কুল আগলাচ্ছেন।”

খালি একবার ছেলেরা ঠাকুরদার কাছ থেকে একপোয়৷ সন্দেশ আদায় করেছিল। ঠাকুরদা ওীমণ্ডপের সামনে বসে একমনে পুঁথি লিখছিলেন। তিনি দেখতে পান নি যে, এর মধ্যে পাড়ার (ঝাসেদের বানরটা কেমন করে ছুটে এসে সেখানে উপস্থিত হয়েছে, আর তার পয়ত্রিশ বছরের পুরনে। বাধানো ইঁকোটি নিয়ে গাছে উঠেছে। তারপর তামাক খেতে গিয়ে দেখেন, কি সর্বনাশ! শ/নরটাকে তিনি কত টিল ছুঁড়ে মারলেন, কত লম্বা লম্বা সংস্কৃত বকুনি বকলেন, কিছুতে তার কাছ [থকে ছকোটি আদায় করতে পারলেন না। লাভের মধ্যে সে বেটা তাকে গোটা দশেক ভেংচি মেরে গণেসুদ্ধ পাশের বাড়ির আমবাগানে চলে গেল। ২...

সেদিন ছেলের! না থাকলে ঠাকুরদার ভাবার তীর হইকোর সুখ দেখবার কোনো আশাই ছিল না। তিনি তাদের সন্দেশ কবুল করে অনেক কষ্টে তাদের দিয়ে.বানরের হাত থেকে হুঁকোটি আদায় খরালেন। তার পরদিনই নিজে গিয়ে বেচু ময়রার দোক্কীন.থেকে তাদের জন্যে এক পোয়া সন্দেশ িনে আনলেন। সে সন্দেশ খেয়ে নাকি তারা মুখ সিটকিয়েছিল। ঠাকুরদা তার কারণ জিজ্ঞাস করতে ার। বলল, “সন্দেশটা বড্ড মিষ্টি।' ঠাকুরদা তখন খুব গম্ভীরভাবে মাথা নেড়ে বললেন, 'তাই ত, ছি জানতুম না তোমরা! তেতো সন্দেশ খাও। আমি মিষ্টি সন্দেশই কিনে এনেছি।”

পয়সা খরচ নিয়ে কিন্তু ঠাকুরদার একটু বদনাম ছিল। যে হুঁকোর খাতিরে ছেলেদের একপোয়া মাদেশ কিনে খাইয়েছিলেন, তা ছাড়া আর. তার জীবনে তিনি কখনো কাউকে কিছু কিনে খাওয়ান গি। লোকে বলত, তার ঘরের ভিতরে তিন-জালা টাকা পৌঁতা আছে। কিন্ত নিজে তিনি এমনভাবে পতেন যেন অনেক কষ্টে তার দুটি খাবার জোটে, সেও বুঝি-বা একবেল! বই দুবেলা নয়। একদিন ঠিদিম। ডাল রীধতে গিয়ে তাতে একটু বেশি ঘি দিয়ে ফেলেছিলেন। সেই অপরাধে নাকি ঠাকুরদ। [মস তার সঙ্গে কথা কন নি।.

ছেলেরা তার সেই সন্দেশ খেয়ে অবধি তার উপর একটু চটে ছিল। না চটবেই বা কেন? সেই হতভাগা বানরটার কাছ থেকে ইকো আদায় করতে গিয়ে কি তারা কম নাকাল হয়েছিল? কুড়ি জন মিলে তিনটি ঘণ্টা ধরে তারা দিন কত গাছই বেয়েছে, কত ছুটোছুটিই করেছে কত কাদাই হ|গয়েছে, কত বিছুটির ছ্্যাকাই খেয়েছে। তার পুরস্কার হল কিনা অমনিতর একপোয়া সন্দেশ!

তখন ছিল পুজৌর সময় কুমোরদের বাড়িতে অনেক ঠাকুর গড়া হচ্ছিল, তার তামাশা দেখবার গন্য সকালে বিকালে, ছেলেদের প্রায় সকলেই সেখানে যেত। সেইখানে তাদের একটা মস্ত মিটিং গপ। ঠাকুরদাকে জব্দ করতে হবে। তিনি যেমন সন্দেশ খাইয়েছেন, তাকে দিয়ে কিছু বেশি হাতে ।কা খরচ করাতে পারলে তবে তার দুঃখটা মেটে। কিন্ত এমন লোকের পয়সা সহজে খরচ করানো তে পারে না, তার কি উপায় হতে পারে।

কতজনে কত কুথা বলতে লাগল। কেউ বলল, "চল ঠাকুরদার কুলগাছ কেটে ফেলি।' বগল, 'তার ইকো লুকিয়ে রাখি।' কিন্ত এ-সব কথা কারুর গছন্দ হল না। এমন কুলগাছটি রি অন্যায় হবে। কো লুকিয়ে রাখলেও শেষটা তাকে ফিরিয়ে না দিলে চলবে ছাড়া, ।এ-ীব করলে তাকে জার টাকা খরচ করানো হল কই? ঠাকুরদাকে ছেলেরা াু্টি ভালবাসত, শাহক তার লোকসান করাতে কারো ইচ্ছা ছিল না। কাজেই এ-সব কথায় ক্লে রঙ ভাবে তাকে দিয়ে টাকা খরচ করাতে হবে যে সেটা তার ক্ষতির মূর্র্ৃ্রী না যেতে পারে।

ছেলেরা দেখল,কাজটি তেমন সোজা নয়। বুড়ো কুমোর এর মধ্যে এক্সবুদ্ধি জুগিয়ে না দিলে তাদের গক্ষে এর একটা মতলব ঠিক করাই ভার হত বুড়ো যে যুক্তি বলল, সে ভারি চমৎকার। ছেলের! তার নয যার পর নাই খুশি হয়ে ঘরে চলে গেল। ঠিক হল, পরদিনই সেই কাজটি করতে হবে।

উপেন্দ্রকিশের সমগ্র!) ১১৫

রাত থাকতেই ঠাকুরদার ঘৃম ভাঙে, তখন তিনি শুয়ে শুয়ে সুর ধরে শোলোক আওড়ান। তারপর ভোর হবার একটু আগে উঠে, স্লান তর্পণ সেরে, শেষে গিয়ে চত্তীমণ্ডপের সামনে বসেন। সেদিনও দোয়েল ডাকবার আগেই তিনি জেগে সবে বলেছেন, 'বরক্ষামুরারিস্তিপুরাত্তকারী'_অমনি বাইরে কে যেন ডাকল, 'ভওয়ানী ভট্চাজ ঘরমে হ্যায় £'

আর ঠাকুরদার শোলোক আওড়ানে। হল না। স্লান আহক আজ তিনি খিড়কির পুকুরেই সারলেন। চণ্তীমণ্ডপের সামনে বসে পুঁথি লেখার কাজটিও আজ বন্ধ রইল-_তার চেয়ে দিদিমার রান্নাবান্নার খবর নেওয়াই বেশি দরকার মনে হয়েছে। এমনি ভাবে দুপুর অবধি কেটে গেল। এরপর যখন আর কেউ 'ভওয়ানী ভট্চাজ” বলে ডাকল না, তখন ঠাকুরদা সাহস পেয়ে ভাবলেন, একটু বাইরে গিয়ে দেখে আসি না কেন!

এই বলে আস্তে আস্তে বাইরে এসে ঠাকুরদ দেখলেন-কি সর্বনাশ! কি চমৎকার! তার মণ্ডপের মাঝখানে দুর্গা প্রতিমা ঘর আলো করে বসে আছেন। ঠাকুরদার.আর পা সরল না। তিনি সেইখানেই মাথায় হাত দিয়ে বসে ভাবলেন-_ হায়, হায়! কোন্‌ শ্রয়তান:এমন কাজ করল! এই প্রতিমা! আমার ঘরে রেখে গেছে, এখন একে পুজো না করলে মহাপাপ হবে। আর পুজো করতে গেলেও যে তিনশোটি টাকা'র কম লাগবে না। বাবা গো, আমি কোথায় যাব!

যা হোক,-ঠাকুরদা কৃপণ হলেও ভাতি ধার্মিক আর পণ্ডিত লোক ছিলেন। তিনি তখনই ভাবলেন-_আর দুঃখ করে কি হবে? ঘরে টাকা রেখেও আমি দেব সেবায় হেল! করেছিলাম, তাই দেবতা আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন।। ভালোই.হল, এখন থেকে আমি ফি-বছর দুর্গোৎসব করব।

ততক্ষণে ছেলেদের দুটি একটি করে-গ্রাণপণে হাসি চাপতে চাপতে এসে উপস্থিত হয়েছে। কাজটি তাদেরই, তারাই ঠাকুরদাকে গেয়াদীর ভয় দেখিয়ে বাড়ির ভিতরে পাঠিয়ে সেই অবসরে গ্রতিমাটিকে এনে মণ্ডপের ভিতরে রেবে গেছে। তাদের মুখের দিকে চেয়ে ঠাকুরদারও আর সে কথা বুঝতে বাকি রইল না। তখন:তিনি বললেন, 'ভালই করেছ দাদা, বুড়ো পাপীর সুমতি জন্মিয়ে দিয়েছ। তোমরা বেঁচে থাকে! আমি খীলি.ভাবছি-_এত বড় ব্যাপার, আমার লোকজন কিছু নেই, আমি কুলোব কি করে?

ছেলেরা ভেবেছিল, ঠাকুরদালাঠি নিয়ে তাদের তাড়া করবেন। তার বদলে তিনি এমন কথা বলবেন, তা তার! মোটেই ভাবে নি। তারা তাতে ভারি খুশি হয়ে বলল, 'তার জন্যে চিন্তা কি, ঠাকুরদা? আমরা সব্‌.ঠিক.করে দিচ্ছি। আপনি শুধু বসে বসে হুকুম দিন।' অমনি ঠাকুরদার মুখ ভরে হাসি ফুটে উঠল,তীর চোখ দুটি বুজে এল। ছেলেদের মাথায় হাত বুলিয়ে, গাল টিপে আর নাকে কানে চিমটি-কেটে 'তিনি তাদের বিদায় করলেন।

এবারে ঠাকুরদা যে সন্দেশ এনেছিলেন, তা খেয়ে আর কারো নাক সিটকোতে হয় নি।

নরওয়ে দেশের পুরাণ

আমাদের দেশের পুরাণে যেমন দেবতা আর অসুরের গল্প আছে, পুরাতন নরওয়ে আর দেশের পুরাণেও তেমনি সব দেবতা আর অসুরের কথা লেখা আছে। ১৬১০ নরওয়ের পুরাণে আছে যে, সেকালের আগে যখন পৃথিবী বা সমুদ্র বা বায়ু কিছুই

পায় না। তিনি যাহা চাহেন, তাহাই হয়। সৃষ্টির আগে চারিদিকেই নু টীর অনকার ছিল, সেই শূন্যের মাঝখানে ছিল গিন্ুঙ্গা নামে গহ্র। সেই গহৃরের উত্তরে কুয়াশার হারগেল্মির নামে বারনার গরম জল টগবগ রুরিয়া ফুটিত।

সেই গহুরের দক্ষিণে মস্পেল্স্হ্বাইম্‌ : অর্থাৎ আগুনের দেশ, সুত্র নামে বিশাল

১১৬ উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র

ত্য জুলস্ত তলোয়ার হাতে সেই দেশে পাহারা দিত।

সেই যে গিনুঙ্গা নামে গহুর, তাহার ভিতরটা ছিল বড়ই ঠাণ্ডা। হ্থারগেল্মির ঝারনার জগ তাহাতে পড়িয়া বরফ হইয়া যাইত, সুর্থরের তলোয়ার হইতে আগুনের ফিনকি পড়িয়া (গাই বরফকে গলাইয়া দিত। সেই আগুন আর বরফের লড়াই হইতে গিন্ুঙ্গা গহুরের ভিতরে মির নামক অতি ভীষণ দৈত্য আর আধম্লা নামে গাই জন্মাইল। যীমির আধম্লাকে পাহয়া তাহার দুধ খাইতে লাগিল, আর আধম্লা আশপাশের বরফে লবণের গন্ধ পাইয়া তাহাই ঠটিতে আরম্ভ করিল। চাটিতে চাটিতে সেই বরফের ভিতর হইতে একটি দেবতা বাহির £&লেন, তাহার নাম বুরি।

এই যীমির হইতে অসুর আর বুরি হইতে দেবতাগণের জন্ম, আর জন্মাবধিই অসুর আর দৈবতার বিবাদ। যুগযুগ ধরিয়া সেই বিবাদ চলিতে..থাকে, শেষে অনেক যুদ্ধের পর দেবতারা যীমিরকে মারিয়। ফেলেন। আর যত অসুর ছিল, রীমিরের রক্তের বন্যায় সকলেই ডূবিয়া মরে, বাকি থাকে কেবল বার্গেল্মির আর তাহার স্ত্রী এই দুজনে একখানি নৌকায় খারিয়া সকল জায়গার শেষে একেবারে ব্রহ্গীণ্ডের: কিনারায় গিয়া ঘর বাঁধিল। সেই স্2নের নাম হইল “জোতন্হাইম' বা ট্দত্যপুরী। সেই দৈত্যপুরীতে অসুরের বংশ শাড়িতে লাগিল, দেবতা অসুরের বিবাদও আবার জাগিয়! উঠিল?

এদিকে অসুর সব মরিয়া যাওয়াতে দেবতারা কিছুদিনের জন্য যেন একটু আরাম শাইলেন। তখন তাহাদের মনে হইল..যে, চারিদিকে কেবলই শূন্য আর কুয়াশা আর ক্লাগুন আর 'বরফের লড়াই দেখিতে.একটুও ভাল লাগে না। তাই তাহারা সকলে মিলিয়া গঞ্জ করিলেন যে, চলো আমরা যীমিরের দেহ হইতে গাছ-পাল নদ-নদী আর পাহাড়- শর্মতের সৃষ্টি করি। এই বলিয়া তাহারা যীমিরের বিশাল দেহটাকে সকলে গড়াইয়া গিন্ুঙ্গা গহরে নিয়া ফেলিলেন। তাহাতে গতুরও বুঁজিল,' এই সৃষ্টি রাখিব এনটা জায়গাও জুটিল। যীমিরের রক্তে সমুদ্র আগেই হইয়াছিল, উহার মাংসে বেশি বেগ পাইতে হইল না, হাড় আর দত হইল পাহাড়-পর্বত, চুল-দাড়ি

£ইগ গাছপালা, মাথার খোলটা, হইল আকাশ, মগজগুলি হইল মেঘ, কাছেই আগুনের সি খানে সেই সুর্থর, নামক দৈত্য থাকিত-_সেইখানকার আগুনের ফিনকি দিয়া চন্দ্র দূর্য গর তারা হইল। »

এদিকে কিন্ত বীমিরের মাংস পচিয়! তাহাতে পোকা ধরিয়াছে। দেবতারা ভাবিলেন, “তাই ত, 4 পোকাগুলিকে কি করা যায়? এগুলি হইবে পরী, ভূত ভার বামন।” পরীরা দেখিতে ভারি সুন্দর; হারা আকাশ আর পৃথিবীর মাঝখানে থাকে, ঠাদের আলোতে খেলা করে, প্রজাপতির পিঠে চড়িয়া মুগগুলিকে ফুটাইতে আসে, আর নানামতে লোকের উপকার করে। ভূত আর বামনগুলি দেখিতে ্ত্ী তেমনি দুষ্টু। তাহার! মাটির নীচে থাকে, সোনা-রপা মণি-মাণিকের সন্ধান রাখে, আর ঝো।কের মন্দ করিতে রাত্রে বাহিরে আসে। দিনে তাহাদের মাটির উপরে আসিবার হুম হুঁ এ|সিলে পাথর হইয়া যায়।

সকলের মাঝখানে দেবতারা আগেই তাহাদের নিজের থাকিবার জায়গা করিয়!

সি জায়গার নাম আস্গার্ড বা স্বর্গ। সেখানকার রাজা ছিলেন বিশ্ব-পিতা। নাম ওডিন 10)/]1))) বা উওডেন (/০৭০) যাহা হইতে বুধবারের নাম ওয়েডনেজ যছে। ইহা হইতেই

গণ দেখতা আর মানুষের জন্ম ইহার নাম বিশ্ব-পিতা। দি

শের সকলের চেয়ে উচু সিংহাসনে ওডিন তাহার রানী ফ্রিগ্গা্(5:188৪) সহিত বসিয়া স্বর্গ মগ পাতাল কোথায় কি হইতেছে তাহার সংবাদ লইতেন। কিছুই তাহার চোখ এড়াইতে পারিত যা। খডিনের একটিমাত্র চোখ ছিল, আর একটি চোখ তিনি মিমির নামে এক বুড়াকে দিয়াছিলেন।

উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র 3 ১১৭

সেই বুড়ার একট! ঝরনা ছিল, তাহার জল খাইলে ভূত ভবিষ্যৎ সকল বিষয় জানা যাইত। ওডিন সেই ঝরনার জল খাইতে গেলেন। বুড়া বলিল, “তোমার একটি চোখ না দিলে জল খাইতে পাইবে না।” কাজেই একটি চোখ খুলিয়া দিয় ওডিনকে সেই জলের দাম দিতে হইল। বুড়া সেই চোখটি নিয়া তাহার ঝরনার জলে ডুবাইয়া রাখিল। সেখানে সেটি দিনরাত ঝিকমিক করিত। ওডিন ঝারনার জল খাইয়া সকলের চেয়ে বেশি জ্ঞানী হইলেন। আর সেই ঘটনার চিহু রাখিবার জন্য ঝরনার ধারের গাছের ডাল দিয়া একটা বল্লম তয়ের করাইয়। লইলেন। সে এমনি আশ্চর্য বল্লম থে কিছুতেই তাহাকে ঠেকাইতে পারিত না।

ওডিনের এক পুত্রের নাম টিউ (ৃএ)। ইহার নামে মঙ্গলবারের নাম টিউজ ডে (95495) হইয়াছে। ইনি বীরত্ব এবং যুদ্ধের দেবতা ওডিনের যেমন একটা আশ্চর্য বল্লম ছিল, ইহার তেমনি একটা তলোয়ার ছিল। লোকে এই তলোয়ারকে বড়ই ভক্তি করিত, আর যার পর নাই যত্বে একটা মন্দিরের ভিতরে তাহা রাখিয়া দিত। তাহাদের বিশ্বাস ছিল খে.এই তলোয়ার যাহার কাছে থাকিবে সে কখনো যুদ্ধে হারিবে না। কিন্তু হায়! একদিন কে সেই তলোয়ার চুরি করিয়া লইয়া গেল। শুন! যায়, তারপর সেই তলোয়ার লইয়া অনেকে পৃথিবী জয় করিয়াছে, আবার সেই তলোয়ারেই তাহারা মারা গিরাছে। এমনি করিয়া তাহার হারা কতই তিল কিনতু টিউর হনে আর তাহা ফিরিয়া আসিল না।

ওডিনের আর-এক পুত্র থরের ১০) নামে ইং ংরাজি থার্সডে (ৃখ১0759)) হইয়াছে। থরের মত জোর কোনে দেবতার ছিল না, দেখিতিও কেহ তাহার মত এমন বিশাল ছিলেন না। তাহার হাতুড়ি দিয়া যাহাকেই তিনি ঠাই করিয়া মারিতেন, সে পাহাড়ই হউক, আর পর্বতই হউক, তখনই গুঁড়া হইয়া যাইত। স্বর্গে বাইফেস্ট নামে-বিচিত্র সেতু আছে যোহাকে তোমরা বল রামধনু)। সেই সেতুর উপর দিয়া দেবতারা যাওয়া আসা করিতেন। অর্থাৎ আর সকল দেবতারাই করিতেন- কিন্তু থর্‌ কখনো সেই সেতুর উপর যাইতেন না, গেলে তাহা ভাঙ়িয়৷ পড়িত।

ফ্রাইডে ঘেএ৪, শুক্রবার) খাঁহার নামে হইয়াছে, তাহার নাম ছিল ফিয়৷ (ে5৪)। তিনি ছিলেন সৌন্দর্যের দেবতা। কেহ বলে, ইনিই ওডিনের রানী ফ্রিগ্গা। যুদ্ধে যত বীরের মৃত্যু হইত, তাহাদের অর্ধেক ফ্রিয়ার কাছে যাইত ফ্রিয়া তাহার সঙ্গিনী ভ্যাল্কীরদিগকে লইয়া সেই বীরদিগকে নিতে যুদ্ধ ক্ষেত্রে আসিতেন। তাহার সভায় গিয়া বীরদিগের সুখের আর সীমা পরিসীমা থাকিত না। সেখানে হাইছরন্‌ নামে ছাগল ছিল, তাহার দুধ ছিল অমৃতের মত, সে দুধ দোয়াইয়া শেষ করা যাইত না। আর সেস্িমূনির নামে যে শুয়োরটি ছিল, তাহার মাংসও ছিল তেমনি মিষ্ট। এলপ্রিম্নির নামে পাচক তাহাতুতোধিক মিষ্ট করিয়া রীধিত। বীরের ক্ষুধা-_বুঝিতেই পার, তাহারা খাইত কেমন!কিস্তু সে মাংস কিছুতেই ফুরাইত না। খাওয়া দাওয়া শেষ হইয়া গেলে আবার যেমন শুয়োর, তেমনটি বীচিয়া-উঠিয়া ঘোত্‌ ঘোত্‌ করিতে থাকিত।

ঠানদিদির বিক্রম

আমাদের এক ঠানদিদি ছিলেন। অবশা ঠাকুরদাদাও ছিলেন, নইলে ঠানদিদি এলেন ডে তবে ঠাকুরদাদাকে পাডার ছেলেরা ভালরকম জানত না। ঠাকুরদাদার নাম পন; লোকে তীকে কানাই রায় বলে ডাকত, কেউ কেউ রায়মশায়ও বলত।

ঠাকুরদাদাকে যে ছেলেরা জানত না, তার একটু নমুনা দিচিহি। রি বাড়িতে এক-ঝাড় তল্তা বশ ছিল, বাঁশে ভাল মাছ ধরবার ছিপ হত। একবার কয়েকটি ছেলে ছিপ তৈরি করবে বলে চুপিচুপি একটি বাশ কেটে রাস্তায় টেনে এনেছে, অমনি দেখে-_রায়মশায় সম্মুখে তার! অমনি হাত জোড় করে বললে, 'আপনার পায়ে পড়ি, ঠানদিদিকে বলবেন না! তিনি শুনে

১১৮ উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র

অবাক !আরে বলিস কি? আমার বাঁশ নিরে পালাচ্ছিস, আর বলছিস “বলবেন না”

ছেলেগুলি সকলে মিলে কেবলই বলতে লাগল, 'আপনার পায়ে পড়ি, ঠানদিদিকে বলবেন না।” তখন রায়মশায় বেগতিক দেখে বললেন, 'তোরা বাঁশ দিয়ে কি করবি?, 'আত্রে, ছিপ করবা।' 'আচ্ছা, নিয়ে যা।' তখন আবার 'দেখবেন, ঠানদিদিকে যেন বলবেন না” বলে ছেলেগুলো বাঁশ নিয়ে ছুট। এখন বোধ করি তোমরা বুঝতে পারছ, রায়মশাই যে ঠাকুরদাদা, তা অনেক ছেলেই জানত না। ছেলেরা জানত- ঠানদিদির বাড়ি। ঠানদিদির বীশঝাড়, ঠানদিদির কীঠালগাছ, বিশেষ ভাবে ঠানদিদির কুলগাছ আর পেয়ারাগাছ।

ঠানদিদির পুত্রসন্তান নেই, কেবল তিনটি মেয়ে। বড় মেয়ে দুটির বিবাহ হয়ে গিয়েছে, ছোটটির ধয়স ন-দশ বৎসর। ঠানদিদির বয়স চল্লিশের উপর। বাড়িতে অন্য লোকজন নেই, কিন্তু হলেও, ঠাকুরদাদা বিদেশে গেলে ঠানদিদির চৌকিদার বা ঘরে,শোবার জন্য বুড়ো স্ত্রীলোকের দরকার হয় গ|1 ঠানদিদি অনায়াসে একাই থাকেন।

একবার ঠাকুরদাদা বিদেশে গিয়েছেন। ঠানদিদি কেবল ছোট মেয়েটিকে নিয়ে বাড়িতে আছেন, (সেই সময়ে একদিন দুপুর রাত্রে মেয়েটি বলল, “মা!কে.যেন আমার গায়ে হাত দিল!” ঠানদিদি খললেন, "চুপ কর, কথ! বলিস না।” ঠানদিদি পূর্বেই-টের পেয়েছেন, ঘরে চোর ঢুকেছে। তারপর চোর যেই বাক্স পেটরার সন্ধানে ঘরের অন্য দিকে গিয়েছে, অমনি ঠানদিদি আস্তে আস্তে উঠে, পাটনাবাটা শিলখানা এনে সিঁদের মুখে চাপা দিলেন?

তোমরা শহরের ছেলেরা বোধ করি বুঝতে পারলে না, সিঁদ কি। পাড়ার্গায়ে অনেক মেটে ঘর। এঁ-সব মেটে ঘরে সিঁদকাঠি খুঁড়ে চোর্‌ ঘবরের ভিতর ঢুকে চুরি করে। এইবার আরো মুশকিল হল, সিঁদকাঠি কি? সিঁদকাঠি যে কি, তা আমিও কখনো চোখে দেখিনি। সম্বত ওটা খন্তা বা সাবলের মত লোহার কোন অস্ত্র হবে।

এই পিদকাঠি তৈরি সঙবন্ধে পাঁ়াগী্কটা কথা আছে, চোরে কামারে কখনো দেখা হয় না।” সিঁদকাঠি যখন লোহার অস্ত্র, তখন অবশ্যই ওটা কামারে গড়ে। কিন্তু চোর কি কামারের বাড়ি গিয়ে লে, কর্মকার ভায়া, আমাকে একটা সিঁদকাঠি তৈরি করে দাও !' নিশ্চয়ই না। তা হলে সেইথানেই সে চোর বলে ধর! দিল। কামার. ভায়া চোরের নিতান্ত বন্ধু হলেও সময় মত অন্য দূ-দশজন বন্ধুর কাছে সে গল্পটা! করবেই। দরকার হলে পুলিশের কাছেও বলতে পারে।

তবে চোর কি করে িঁদকাঠি গড়ায়? আমরা ছেলেবেলায় শুনতাম। চোরের সিঁদকাঠির দরকার হলে, চোর একখানি লোহা আর একটি আধুলি রাত্রে ফামারশালের এমন জায়গায় রেখে যায় যে খামার সকালে কামারশাল খুলবার সময়েই সেটা তার নজরে পড়ে। কামার অন্) কাজ বন্ধ রেখে, সকলের অসাক্ষাতে সিদকাঠিটি তৈরি করে। কামারশাল বন্ধ করবার সময়, ঠিক সেই জায়গায় সেটি (রেখে দেয়।ব্রাত্রে চোর এসে সেটি নিয়ে যায়।

এখন আসুল কথা শোনো!। ঠানদিদি সিঁদের মুখে শিলটি চাপা দিয়ে তার পাশে চুপ করে বসে আছেন। তারপর চোর একটি বাক্স এনে সিঁদের কাছে যেমন নামিয়েছে, অমনি বেটাকে জা! ধরেছেন। তখন চোর নাকী সুরে বলল, 'মা ঠাকরুন, ছেড়ে দিন!” ঠানদিদি বললেন, "বল্‌ ন্‌ কে? নইলে এখনি পাড়ার লোক ভেকে তোকে শ্বশুরবাড়ি পাঠাবার বাবসা করব সো দেখল ন/ম না বললে আর নিচ্কৃতি নেই, কাজেই বলল, "মা ঠাকরুন, আমি শীতুল /ত্উনে ঠানদিদি বললেন, 'হতভাগা! মরতে আার জায়গা পাও নি? যাও! বাইরে ছে--পুকুরে গিয়ে জাল আনো, তারপর কাদা করে সিঁদ বোজাও। গোয়ালে গোবর গাবর দিয়ে ভিতর-বার ভাল করে নিকিয়ে দিয়ে যাও। আমি সকালে উঠে সব হাঙ্গাম৷ পারব না।”

শীতল তখন কলসীটি নিয়ে আস্তে আস্তে পুকুর ঘাটে গেল। তখন ফাল্গুন মাস, পাড়াীয়ে বেশ শীত। সেই শীতে পুকুর থেকে জল এনে, কাদা করে, সিঁদ বুজিয়ে, ভাল করে নিকিয়ে তবে শীতল

উপেন্দ্রকিশোর সমগ্র ১১৯

ছুটি পায়! তোমরা চালাক ছেলেরা ভাবছ, চোরটা কি বোকা, কলসী নিয়ে অমনি পালাল না কেন? শীতল কলসী নিয়ে পালালে তার কি দশা হত, তা আর একদিন তোমাদের বলব।

ঘ্যাঘাসুর

এক যে ছিল রাজা, তার ছিল একটি মেয়ে। মেয়েটি, হইয়া অবধি খালি অসুখেই ভূগিতেছে। একটি দিনের জন্যেও ভাল থাকে না। কত বদ্যি, কত ডাক্তার, কত চিকিৎসা, কত ওষযুধ-_ মেয়ে ভাল হইবে দূরে থাকুক, দিন দিনই রোগা হইতেছে। এত ধন জন থাকিয়াও রাজার মনে সুখ নাই। কিসে মেয়েটি ভাল হইবে, তীহার কেবল সেই চিন্তা। .

এমনি করিয়া দিন যায় ; এর মধ্যে একদিন এক সাধু রাজার সঙ্গে দেখা করিতে আসিলেন,। তিনি রাজার মেয়ের অসুখের কথা শুনিয়। বলিলেন, “মহারাজ, তোমার মেয়ে একটি লেবু খাইয়া ভাল হইবে "